ভোগান্তিতে বনরূপা কাঁচা বাজারের ক্রেতা- বিক্রেতারা

মালিক-ভাড়াটিয়া বিরোধে বিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ !


সাইফুল বিন হাসান , প্রকাশের সময়: আগস্ট 17, 2017

মালিক-ভাড়াটিয়া বিরোধে বিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ !

রাঙামাটি শহরের প্রাণকেন্দ্র বনরূপার কাঁচা বাজার ও মাছ বাজারের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া অভিযোগে বিদ্যুতের লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার এই ঘটনাটি ঘটেছে। বনরূপা কাঁচা বাজার ও মাছ বাজারের (ফারুক মার্কেট) মালিক শাহনেওয়াজ ফারুক ইচ্ছে করে ব্যবসায়িদের উচ্ছেদ করার লক্ষ্যে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করে এমন কাজ করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়িরা। বিদ্যুৎ বিলের মধ্যে একটিতে ৬৫,৮০৪ টাকা এবং অন্যটিতে ১৪,১৯০ টাকা বকেয়া রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তারা। তবে মালিক শাহনেওয়াজ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
বিদ্যুৎ বিছিন্ন করে দেওয়ার পর থেকে চরম ভোগান্তিতে পরেছে বাজারের বিক্রেতারা। বিক্রেতাদের লক্ষ্য টাকার ক্ষয়ক্ষতি সহ মুরগি মারা যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিক্রেতাদের পাশাপাশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের।
মুরগি ব্যবসায়ি মিজান জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় তার ১৮ টি মুরগি মারা গিয়েছে। তিনি বলেন, মুরগির গরমের সময় বাতাসের প্রয়োজন হয়। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় গরমে আমার ১৮টি মুরগি মারা গিয়েছে। এতে আমার প্রায় ৪-৫ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে।
মাছ বাজারের ব্যবসায়ি বেলাল হোসেন বলেন, এই মার্কেটের মালিক ফারুক অনেকদিন ধরে ব্যবসায়িদের উচ্ছেদ করার পাঁয়তারা করে আসছেন। তাকে বিদ্যুৎ বিল দিতে চাইলে তিনি নেন না এবং বিদ্যুৎ বিলের কাগজ চাইলে তিনি তাও দেন না আমাদেরকে। তার এমন কাজের ফলে আজ আমরা সবাই ভোগান্তিতে পরেছি।
তিনি আরো বলেন, আমার বেশ কিছু মাছ মারা গিয়েছে, সাথে আজ প্রায় ৫ হাজার টাকার ব্যবসায় ক্ষতি হয়েছে বলেও জানান তিনি।
কাঁচা বাজার ব্যবসায়ি শ্যামল কান্তি চৌধুরী বলেন, সন্ধ্যার সময় চাকরিজীবিরা বাজার করতে আসেন। এমন সময় বিদ্যুৎ না থাকায় আমার ব্যবসায় প্রচুর ক্ষতি হয়েছে। আমার এই সময়ে যে ভাবে বিক্রয় হওয়ার কথা সে অনুসারে বিক্রয় না হওয়ায় প্রায় ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তিনি।
মালিকের পক্ষে মার্কেটের দায়িত্বে থাকা মো: সেলিম বলেন, এই বিদ্যুতের বিষয়ে তাকে বারবার বলা হলে মালিক এতে কোন সাড়া দিতেন না। ব্যবসায়িরা বারবার বলেছে এমনকি আমিও বলেছি কিন্তু এতে তিনি কোন জবাব দিতেন না। নিজে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতেন না এবং ব্যবসায়িদেরও করতে দিতেন না।
বাজার করতে আসা হাবিব রহমান বলেন, আমি বাজার করতে এসেছি কিন্তু এসে দেখি এখানে বিদ্যুৎ নেই। সবাই মোমবাতি দিয়ে বিক্রয় করছে। এতে করে আমাদের সমস্যা হচ্ছে। প্রশাসনের প্রয়োজন এসব বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহন করা। কারণ তাদের ব্যক্তিগত কারণে আমাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
কাঁচা বাজার ব্যবসায়ি সমিতির সভাপতি মো: হারুনুর রশিদ বলেন, মালিককে বারবার বিদ্যুতের বিল দিতে চাইলে তিনি নেন না এবং আমাদেরকে বিদ্যুৎ বিলের কাগজ দিতে বললে তিনি এতেও রাজি না। তার এমন কাজের ফলে আমরা ব্যবসায়িরা খুবই ভোগান্তিতে পড়েছি। সাথে রাঙামাটি শহরের বড় বাজার হিসাবে ক্রেতারাও ভোগান্তিতে পরেছে। আজ প্রায় ৩ থেকে ৪ লক্ষ্য টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এই ব্যাপারে বনরূপা ফারুক মার্কেটের মালিক শাহনেওয়াজ চৌধুরী ফারুকের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমি এখন চট্টগ্রামে আছি। শুনেছি বিদ্যুতের লাইন কেটে দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। ব্যবসায়িরা গত সাত মাস ধরে বিদ্যুতের বিল পরিশোধ করছে না, সে জন্যই লাইন কেটে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
রাঙামাটি পৌরসভার মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী বলেন, ফারুক মার্কেট হচ্ছে শহরের মধ্যখানে একমাত্র বড় কাঁচা ও মাছ বাজার। এই মার্কেটের ব্যবসায়িদের সাথে মালিকের বিভিন্ন ধরণের সমস্যা অনেক দিন থেকে হয়ে আসছে। আমি বারবার এই বিষয়ে বৈঠক করে সমাধানের চেষ্টা করে দেওয়ার পরেও মালিক ফারুক বারবার সমস্যা সৃষ্টি করে। তিনি কোন প্রকার কথা শুনতে চান না। মার্কেট নিয়ে এমন ভোগান্তি প্রতিরোধে প্রশাসনের ভূমিকা প্রয়োজন বলেও জানান মেয়র।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Top advertise


এই সংবাদটিতে আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Notify of
avatar
wpDiscuz