নীড় পাতা / পাহাড়ের সংবাদ / আলোকিত পাহাড় / মধ্যরাতেও বিপন্নদের পাশে ডিসি মামুন

মধ্যরাতেও বিপন্নদের পাশে ডিসি মামুন

একে এম মামুনুর রশীদ। পার্বত্য জেলা রাঙামাটির বর্তমান জেলা প্রশাসক। দায়িত্ব নিয়ে রাঙামাটি এসেছেন মাত্র দুয়েক আগেই। ২০১৭ সালে ১২ জুন রাঙামাটিতে ভয়াবহ পাহাড়ধস,তাতে ১২০ জনের মৃত্যু কিংবা রাঙামাটিবাসির দুর্বিষহ জীবনযুদ্ধ,এর কিছুই দেখেননি তিনি। কিন্তু ১১ জুন সকাল থেকেই ভারি বর্ষণের কারণে যখন ভয়ে আর আতংকে নাভিশ্বাস উঠেছিলো রাঙামাটিবাসি,একবছর আগের বিভিষিকাময় রাত যখন ফিরে আসার সম্ভাবনার শংকায় শংকিত সবাই,তখন আর দশজন আমলা বা নেতাদের মতো সুরোম্য ডিসি বাংলোয় বসে থাকেননি তিনি।
সন্ধ্যা থেকেই জেলা প্রশাসনের সব নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে দায়িত্বে নিয়োজিত রাখলেও যেনো ভরসা পাচ্ছিলেন না কিংবা আশ্বস্ত হতে পারছিলেন না। রাত এগারোটায় গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন নিজেই। তুমুল বৃষ্টির মধ্যেই পুরো শহরের শিমুলতলি,রূপনগর,টিভিস্টেশনসহ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে স্থানীয়দের সাথে দেখা করেন,কথা বলেন,আশ্বস্ত করেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন। অনেককেই তাৎক্ষনিক সড়িয়ে নিতে নির্দেশ দেন।

মধ্যরাতে বৃষ্টির মধ্যেও জেলা প্রশাসককে দেখে আবেগে আপ্লুত হন বিপন্ন মানুষগুলো। তারা অবাক হয়ে দেখেন যাদের তারা প্রতিবার ভোটে নির্বাচিত করে নেতা বানান,তারা নন, বরং সরকারের একজন শীর্ষ কর্মকর্তাই আসন্ন বিপদে তাদের খোঁজ নিতে এসেছেন।

শুধু ১১ জুন রাতেই নয়,১২ জুন সকাল থেকেই পুরো শহরের সবগুলো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঘুরে ঘুরে বিপদাপন্ন মানুষের খোঁজ নিয়েছেন,পাশে দাঁড়িয়েছেন জেলা প্রশাসক মামুন।

তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘এমন ভয়াবহ বৃষ্টি,বাসায় বসে থাকি কি করে। আমার মন পড়ে আছে বিপন্ন মানুষগুলোর কাছে। তাই বৃষ্টির মধ্যেই বের হলাম। আমার দায়িত্বই তো তাদের পাশে থাকা।’

১১ জুন রাতে বৃষ্টির মধ্যে শহরের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসকের সাথে থাকা সংবাদকর্মী ও দৈনিক পার্বত্য চট্টগ্রামের সিটি এডিটর সৈয়দ হেফাজত উল বারি সবুজ বলেন, ‘ আমি ওনার সাথে পুরোটা সময় ছিলাম। তিনি মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে খুব উদ্বিগ্ন ছিলেন। তিনি বিপন্নদের আশ্বস্ত করছিলেন, আবার উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথেও যোগাযোগ করে পরিস্থিতির ভয়াবহতা জানাচ্ছিলেন। আমি বিস্মিত হয়েছি,রাঙামাটির মানুষের প্রতি তার দায়িত্ববোধ দেখে। শুধু তাই নয়,পরদিনও বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনকালে তার বুদ্ধিদীপ্ত পদক্ষেপ,আনসার সদস্যসহ সাধারন মানুষকে যেভাবে পরামর্শ ও নির্দেশনা দিচ্ছিলেন তা সত্যিই বিস্ময়কর। এমনকি তুমুল বৃষ্টির মধ্যেও যেখানেই কেউ তার গাড়ি সিগন্যাল দিয়েছে তিনি দাঁড়িয়ে তাদের সাথে কথা শুনেছেন,পরামর্শ দিয়েছেন। এমন জেলা প্রশাসকই চাই আমরা।’

আরো দেখুন

পাহাড়ে রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিতে স্কুল শিক্ষার্থীদের ব্যবহার না করার আহ্বান

‘পাহাড়ে আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের সংঘাতপূর্ণ অবস্থার কারণে একের পর এক হত্যার ঘটনা ঘটছে। প্রতিদিনই পড়ছে …

3 মন্তব্য

  1. স্যার লাকসাম ছিলেন। অনেক ভাল মানুষ।

  2. এই মানুষটা আসলেই ভাল। দোয়া করি তোমার জন্য

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

13 − twelve =