নীড় পাতা / ব্রেকিং / ভালোবাসা : প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম…….

ভালোবাসা : প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম…….

ভালোবাসা কি ভালোবাসা কেমন এই সংজ্ঞায়ন আসলেই কি সম্ভব!যে ভালোবাসে সেই জানে ভালোবাসা কি আর যে ভালোবাসা পায় সে জানে ভালবাসা কেমন।হয়তো।আর ভালোবাসা দিবস।ভালোবাসার মানুষটাকে ভিন্নভাবে আরো খানিকটা বেশি ভালোবাসার প্রকাশ!ভালোবাসাবাসির গল্প জমলো আশির দশক আর এই প্রজন্মের সাথে……………….


নীল চাষীদের জীবন দুখ বেদনার গল্প নীলদর্পন!নবম দশম শ্রেনীর তখনকার পাঠ্য!দীনবন্ধু মিত্র নিজেও কি জানতেন পাঠ্য নাটকের নামেই খুনসুটি জমে যাবে সদ্য নবম শ্রেনীতে পা রাখা কিশোর কিশোরীর!
নীল কে নীলু দর্পন কে দীপন বানিয়ে চলতো নাম্বার কাটাকাটির খেলা।কেউ কাউকে টপকে সামনে এগুতে দিবেনা!কেউ কাউকে টপাকায়নি শেষব্দী পুরোটা পথ হেঁটেছে পাশাপাশিই।বিদ্যালয় পেরিয়ে কলেজে পা রাখতেই শিক্ষাঙ্গন আলাদা!কখনো কখনো দূরত্বেই হয়তো জানান দেয় ভালোবাসা।অথবা সময় ঠিকি কাছে টেনে নিয়ে যায়!রাজনৈতিক অস্থিরতায় শহর ছেড়ে বন্ধুর শহরেই পাড়ি অন্যজনেরও।চিঠির যুগ!হোস্টেলের দিনকাল।কথা বলা দেখা করা দূরহ।নীলদর্পনের দীপন খুজে নিলেন দেখা করার কাছাকাছি থাকার উপায়।কৈশোরের খুনসুটি সম্পর্ক কবে গড়িয়ে প্রেমে ঠেকেছে তা অজানা।শৈশব কৈশোর কলেজ পড়াশোনার গন্ডি পেরিয়ে প্রেম ঠেকেছে চাকুরীজীবনে।নিজের সমস্তা ব্যস্ততা তুড়ি মেরে সপ্তাহান্তে প্রিয় মানুষটাকে পৌঁছে দেয়া তার কর্মস্থলে,শহর ছাড়িয়ে ওই অদূরে।মিস হয়নি কখনো।প্রিয় মানুষটাকে একাযে ছাড়া যাবেনা!আর দেখা না হওয়ার সময়গুলোতে ডায়রীর সাদা পাতা পূর্ন করা কালির আচড়ে।সর্বোচ্চ ১৬ পাতা চিঠির গল্পও ভেসে আসে বাতাসে।গল্প করতে করতেই ফিরে যাওয়া সোনালি দিনলোতে।আজো প্রিয় মানুষটাকে একা ছাড়তে ভয় পান দীপন সাহেব।অথচ দুজনই চাকুরীজীবি।
সেই আশির দশকের দীর্ঘ প্রেম আর সংসার জীবনে ২২বছর।দুই মেয়ের গর্বিত বাবা-মা দীপন কুমার ঘোষ এবং নীলু রানী দাশ।সেই খুনসুটি অভিমানী বন্ধুত্ব প্রেম সজীব আজো।ভালোবাসা কি? সাবলীল উত্তর অন্তরের সাথে অন্তরের মিল।যত্ন আত্তি বোঝাপড়া এইসব মিলেইতো ভালোবাসা।এত দীর্ঘদিনের সম্পর্ক আজকালের প্রজন্মে আশা করা কি যায়!কঠিন!এখনখার ছেলেমেয়েরা রংয়ে ভাসে বেশি ভালো লাগলো দুমদাম প্রেম করে ফেললো।
আর কদিন বাদেই নাই!আর প্রযুক্তির আধুনিকায়নই হয়তো অনেকাংশে সম্পর্কগুলোকে হাল্কা করে ফেলছে।
বিশ্ব ভালোবাসা দিবস সামনে বাঙালী সংস্কৃতিতে এর সমাগমও বেশ পুরোনো।কিভাবে দেখেন দিনটাকে?
ভালোবাসার জন্য বিশেষ একটা দিন অবশ্যই জরুরী।একটা দিন অন্যভাবে আয়োজন করা মন্দ কি!
দু মেয়ে আর সংসার এই নিয়েই জীবনের বাকিটা সময় পাশাপাশিই কাটিয়ে দিতে চান দুজনই।
এই ছিলো দীপন আর নীলু দম্পতির ভালোবাসা ভাবনা।
##
প্রার্থি ঘোষ,চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী।প্রযুক্তির আলো ছায়ায় বেড়ে উঠা এই প্রজন্মের প্রার্থীও মনেকরেন চিঠিপত্রের দিনগুলোই আসলে ভালো ছিলো।প্রেমে হুটহাট কিনবা খুব বেশি বেশি দেখা না হওয়াই ভালো।
শেয়ারিং কেয়ারিং সারাদিনের জমানো গল্প দিনশেষে ঝাপি খুলে বসা প্রিয়জনের কাছে এমনটাই হওয়া উচিত যে কোন সম্পর্ক আর ভালোবাসা সেতো পবিত্র ভালোবাসা পেলে সুখ সে আর কি!সন্তানের জন্য মায়ের ভালোবাসা কিনবা গোধূলী লগ্নে বাড়ির কাছে ডালে বসা পাখি জোড়া ভালোবাসার পবিত্র সে অনুভূতিই প্রকাশ করে।স্নাতকের শিক্ষার্থী প্রার্থীর মতে প্রেমের শুরুই হয় বন্ধুত্ব থেকে।বন্ধুর সাথে প্রেম বন্ধুর সাথে বিয়েটাই সুন্দর শ্বাশ্বত এই তরুনীর কাছে।
বাবার মায়ের ছায়ায় বড় দীপন নীলু দম্পতির বড় কন্যা প্রার্থী কি জানি হয়তো গড়ে উঠেছে বাবা মায়ের ভালোবাসার আদলেই!তাই হয়তো দুপ্রান্তে বসেও উত্তর মিলেই যায় ভালোবাসা মানে বোঝাপড়া,ভালোবাসা মানে এপোলাইজেশন!
##
অজপাড়া এলাকা।পাশাপাশি দুটো গ্রাম।এ পাড়ায় বাস দশম শ্রেনীর ললিতের আর ওপাড়ায় সপ্তম শ্রেনীর আনুমার।সম্পর্কে মামাতো ভাইবোন।বয়সে আর ক্লাশে বড় হওয়ায় পাঠ্যবইয়ের পাঠের জন্য আনুমার ভরসা দাদা ললিত।কৈশোরের সেই উচ্ছ্বল দূরন্ত বয়স।প্রেম কি আর ভালোবাসা কি সে আর কার জানা!তবুও বুকের কোথাও দুরু দুরু অনুভূতি নাড়াতো দিয়েই যায়।বইয়ের পাঠ পড়াতে পড়াতেই শুরু জীবনের চৌকাঠের পাঠ।বইয়ের আর টিওশনের সীমা ছাড়িয়ে প্রেম জমে উঠলো অজপাড়া গায়ের বিস্তৃর্ত খেলার মাঠ জুড়ে।ওই ভেতরের গায়ে বিদ্যৎ আর কই! পাড়ায় সপ্তাহান্তে জমতো ভিসিয়ারে সাদা কালো বাংলা সিনেমার মেলা।এপাড়া ওপাড়া সব হাজির।প্রেম বাড়ছিলো এভাবেই।স্কুলের গন্ডী পাড় করতেই উচ্চশিক্ষার তাগিদে কৈশোর পেরোনো ছেলেটা ছুটলো এশহর ওশহর।লাজুক কন্যা আটকে রইলো সে গ্রামেই।দূরত্ব টেনেছে আরো কাছে।কলেজের পাঠ চুকিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে পা রাখা ললিত চাকমা বন্ধু আড্ডায় জমিয়েও মন ছুটলেই ফুরুত করে হাজির গ্রামে।প্রিয়জনকে এক পলক দেখতে।গ্রাম পাড়া আত্নজের চোখ এড়িয়ে প্রেমের বাড়ছে বয়স।এক যুগের শেষে এসে শুভ পরিণয়ে বন্দী ললিত সি চাকমা এবং আনুমা মারনা।ভিন্ন সম্প্রদায়।তাতে কি প্রেম কি আর বুঝে সীমান্তরেখা!
ছিলো শাসন অনুশাসন।হোঁচটও কম খেতে হয়নি সব পেরিয়ে এক যুগের এই প্রেমে সংসারের বয়স যুগ পেরিয়ে প্রায় ১৭বছর।দীর্ঘ পথচলা।এক ছেলে এক মেয়ের জনক জননী।বাস্তবতা সংসার!সহজ ভাষ্য প্রেম কমেনি একবিন্দুও।প্রাত্যহিক জীবনাচারণও অবশ্য তারই প্রমাণ দেয়।এই দম্পতির চোখে ভালোবাসা কি?
-ভালবাসা হল অন্ধ মানু‌ষের কোন কিছু পাওয়ার এবং দেখার ব্যাকুলতা।ভালবাসা থে‌কে সর্ম্প‌কের সুচনা। সেই সর্ম্প‌কের মুলমন্ত্র হ‌লো পরস্পরের প্র‌তি ক‌ম্প্রোমাইজ।তবেই সেই সর্ম্প‌ক দীর্ঘস্থা‌য়িত্ব হয়।
চিঠির সেই দিন পেরিয়ে এখন ছোঁয়া প্রযুক্তির এসবে খুব একটা আগ্রহ নেই আনুমা বৌদির।দাদাও ভীষন ব্যস্ত।দাদার মতে বৌদি যেন এখনো সেই গ্রামের সহজ সরল ঈর্ষাহীনই রয়ে গেছেন।আর দুজনের সম্পর্ক সেই সেই আগের মতই।দাদার কাছে মুগ্ধ হয়ে শুনছিলাম ভালোবাসার গল্প।এভাবেও ভালোবাসা যায়!!!!
আজ ভালোবাসা দিবস।যতদিনের প্রেম তখন কি আর এতশত ছিলো!!তবুও এটা নিয়ে কোন দ্বিমত নই,একটা দিন আয়োজন করে যদি কেউ ভালোবাসার মানুষটাকে বেশি ভালো বাসতে চায় বাসুক না!নিজেরাও সময় পেলে বেরিয়ে আসেন চট করে।
সুখে দুখে ভালোবাসায় বোঝাপড়ায় একসাথে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসে এখন কেবল প্রত্যাশা জীবনের শেষদিন অব্দি থাকতে চান একসাথে!
#
রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আল মামুন ভুঁইয়া ।কবিতা গল্পের ভুবনে চারণ বেশ।ভালোবাসা মানে যার কাছে একে অপরকে বুঝা।যাকে অনুভব করা যায়,যাকে সবসময় পাশে পাওয়া যায়। যার কথা মনে হলে দুঃখ ভুলে থাকা যায় কিছু সময়ের জন্য হলেও।বন্ধুকে প্রেমিকা নয় বরং প্রেমিকারই বন্ধু হয়ে উঠা বেশি গুরুত্বপূর্ন বলে মনে করেন স্নাতক পড়ুয়া এই শিক্ষার্থী।প্রেমে শাসন থাকবে অনুশাসন থাকবে তবেই না প্রিয় মানুষটার অনুপস্থিতি নাড়া দিবে বেশি।কেউ আমায় ভাবছে মনে করছে ব্যাপারটা ভালোলাগার তবে ব্যস্ত থাকলে কখনো সখনো বিরক্তিকরও বটে!সেটা কেবলই ব্যস্ততার দোষে।বিয়ের ক্ষেত্রে অপরিচিত কাউকে বিয়ে করার চেয়ে পরিচিত কাউকে করা করতে পারা নি:সন্দেহে ভালো।সেক্ষেত্রে প্রেমের বিয়েই উত্তম।
ভালোবাসা দিবস!প্রিয়জনের জন্য প্রতিটা দিনই ভালোবাসার সেক্ষেত্রে একটা বিশেষ দিন একটা ভালোবাসার দিন ভালোইতো!

#
সীমা ত্রিপুরা রাঙামাটি কলেজের শিক্ষার্থী।
চঞ্চল স্পষ্টবাদী সীমার কাছে ভালোবাসা মানে একটা মায়া। যাকে দেখে মনের মধ্যে এক ধরনের উচ্ছাসতা জাগে।ভালো লাগা কাউকে যে জীবনের এলোমেলো অনেকটা পথ পরিবর্তন এনে দেয় অল্প অল্প করে।
ভালোবাসে মানে বিশ্বাসের একটা নতুন যাত্রা। ভালোবাসা হচ্ছে সে জায়গা যেখানে অসাধারন ভাবে বাচাঁর প্রয়াস।
ভালোবাসায় শাষন বাড়ন থাকতেই পারে তাই বলে বাড়াবাড়ি নয়।ভালোবাসা মানেইতো বিশ্বাস আস্থা।আর প্রেমটা যদি বন্ধুর সাথেই হয়ে যায় সেক্ষেত্রে ভালোবাসাটা জমে বেশ, অন্তত অকারণ সন্দেহ অবিশ্বাসটা আসেনা খুব দ্রুত।
কখনো কখনো মনেহয় প্রুযুক্তিবিহীন সেই প্রেমগুলোই ভালো ছিলো।দূরে থাকলেই মনেহয় প্রেম ভালো থাকে।
আর বিয়ে হোক কিনবা প্রেম সবটাই হয়তো আসলে ভাগ্যর উপর নির্ভর করে আজকাল।বিয়ে প্রেমে হোক কিনবা পরিবারের ইচ্ছেয় ভালো মন্দ সবটাই কপাল!!
ভালোবাসা দিবস!খুব যে দরকার আছে তা নয় তবে আছেই যখন তখন প্রিয় মানুষটাকে একটু বিশেষ ভাবে বুঝানো তাকে কতটা ভালোবাসি,একটা দিন অন্যভাবে কাটানো ভালোবাসায়!
চট করে কি দারুন সব কথা বলে ফেললো মেয়েটা!!

আহ ভালোবাসা!!ভালোবাসা ভালোবাসাই।তফাত কেবল এক একজনের ভালোবাসার রূপ রঙ রসে।ভালো থাকুক পৃথিবীর সকল ভালোবাসাবাসি মানুষগুলো ভালো থাকুক সকল ভালোবাসারা………….ভালোবাসা ছড়িয়ে পড়ুক হৃদয় থেকে হৃদয়ে অদ্ভুদ সুন্দরতায় বাঁচুক জীবন……….

আরো দেখুন

ক্যাম্পাসবার্তার সম্মাননা প্রদান বিধান চন্দ্র বড়ুয়াকে

রাঙামাটি সরকারি কলেজের বিদায়ি উপাধ্যক্ষ প্রফেসর বিধান চন্দ্র বড়ুয়া সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণে বিদায়ী …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

17 − eight =