বড়গাং : শীত আমেজে এই পাহাড়ে……


তানিয়া এ্যানি প্রকাশের সময়: নভেম্বর 28, 2017

বড়গাং : শীত আমেজে এই পাহাড়ে……

শহর রাঙামাটির বুক জুড়ে শীতের আমেজ এখনো স্পষ্ট না হলেও শীত জেঁকে বসেছে রাঙামাটি-কাপ্তাই সংযোগ সড়ক আর এই দিককার জনজীবন জুড়ে।ভরদুপুরেই ডুবি ডুবি সূর্য্যের আবছা উষ্ণ আলোয় ছুটে চলা।চট করে কমে যাওয়া লেকের জলে চোখ ফেরালেই শীতের প্রকোপ স্পষ্ট।ঘোলাটে জল নেমে গিয়ে জ্বল জ্বল করছে স্বছ নীলাভ জলরাশি।শীত দুপুরের মিষ্টি রোদে ভেসে ভেসে জলে জাল বুনছে জেলে দল।গন্তব্য ‘বড়গাং’।লেকের ডুবো জলে হাতছানি দেয়া ডুবো শহর আদি রাঙামাটির গাঁ ঘেষেই বহমান ছিলো কর্নফুলী।এই অঞ্চলের মানুষের জীবন জীবিকা নির্ভর ছিলো কর্ণফুলীকে ঘিরেই।স্থানীয় ভাষায় কর্ণফুলী কে বলা হত ‘বড়গাং’,বড় নদী।কর্ণফুলীর প্রতি ভালোবাসাতেই নিজ এই রিসোর্টের নাম করে করা বড়্গাং।এমনটাই জানা গেলো রিসোর্টের স্বত্তাধিকারীর সাথে কথা বলে।বড়্গাংয়ে পৌঁছাতেই দেখা গেলো জমজমাট পরিবেশ।আড্ডায় মুখর বন্ধু বান্ধব,পরিবার পরিজন,প্রিয়জন সদল বলে।শীতের আমেজে বৈকালিক আড্ডা।ঢুকতেই হাতের ডানে পড়ে বড়্গাং রেষ্টুরেন্ট।পাহাড়ী বাঙালী সহ পেয়ে যাবেন সব ধরনের খাবারের স্বয়ংসম্পূর্ণ মেনু।আছে বিরিয়ানীর ব্যবস্থাও।সকালের নাস্তা থেকে সন্ধ্যা রাত অব্দী রয়েছে খাবারের ব্যবস্থা।তবে হ্যাঁ ভারী খাবার খেতে চাইলে আসার পূর্বে খাবার খাবার মেনু ফোনে কনফার্ম করে যাওয়া সবচেয়ে উত্তম।
এই রেষ্টুরেন্টের ঝুল বারান্দায় পা রেখে সম্মুখে তাকালে দেখবেন স্বচ্ছ জল পাহাড়ের মুগ্ধ মেলবন্ধন।কুয়াশায় আবছা হয়ে আসছে দূর পাহাড়ের চূড়া।
রেস্টূরেন্টের চারপাশ জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসানো হয়েছে বেশকিছু বসার স্থান।কাঠের গুড়ি ব্যবহার করে করা হয়েছে বসার ব্যবস্থা।রয়েছে একদম লেকের গা ঘেষে ছোট খোলা মাচা।আড্ডা দেয়া লেক ভিউ দেখা ছবি তোলার জন্য এই অংশটা পারফেক্ট।আরেকটু সামনে রয়েছে একদম পরিপূর্ন জুম ঘর।ঘরের সামনের অংশ সাজানো আছে মাটির পানির পাত্র/জগ দিয়ে।মূলত পাহাড়ি জন গোষ্টীই এই পাত্র ব্যবহার করে পানি পানে।গরমে পানি ঠান্ডা রাখতে বিশেষ উল্লেখ্য এই পাত্র।আপনি চাইলেই দিন ভর বিচরণ করতে পারেন এই জুম ঘর জুড়ে।দুপুরের খাবারটাও সেরে নিতে পারেন এই ঘরের মাচাংয়ে।খাবার পৌঁছে দিবে রেষ্টুরেন্ট থেকেই।খাওয়া দাওয়া আড্ডা কিনবা জিরিয়ে নেয়া সবটাই পারবেন এই জুম ঘরেই।
বড়্গাংয়ের সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন দিক হচ্ছে পুরো জায়গাটা জুড়ে অসংখ্য গাছ গাছড়ার সমাবেশ।গাছে গাছে ফুঁটে আছে নাম জানা না জানা কত ফুল।
একদম শেষে ডানে লেকের জল ঘেষে করা হয়েছে কয়েকটি কটেজ।হ্যা কটেজ।বাঁশের বেড়া টিনের চালের যথেষ্ট আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্পন্ন।মানে আপনি চাইলে রাতেও থাকতে পারেন এখানে।শহরের খুব কাছাকাছি একদম পাহাড়ী স্বাদে পাহাড়ী পরিবেশে বাঁশের বেড়া টিনের মাচাং ঘরে থাকার জন্য এর চেয়ে পারফেক্ট প্লেস হয়না।পাহাড়ের রাত দুপুর ভোর সব পেয়ে যাবেন একসাথেই।এই তল্লাটে কেবল বড়্গাংয়েই পাবেন রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা।শীত নামছে ভীর বাড়বে পর্যটকদের।তাই বুকিং দিতে হবে আগে আগেই।১৫০০- ২০০০-৩০০০য়ের মধ্যে পেয়ে যাবেন আপনার পছন্দমত কটেজ রুম।
প্রয়োজনে শহর থেকে কটেজ অব্দি নিয়ে যাওয়ার রয়েছে তাদের নিজেস্ব পরিবহন ব্যবস্থাও।লেকে ঘুরে বেড়ানোর জন্য পেয়ে যাবেন রিজার্ভ বোটও।
সোজা সাপ্টায় এক ছাদের নিচে সব পেতে এই শীতে ঢুঁ দিতে পারেন আপনিও এই এখানে।শহর থেকে একটু দূরে নাগালের সীমায় অন্য ভুবনে…….

সংবাদটি শেয়ার করুন

Top advertise


এই সংবাদটিতে আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Notify of
avatar
Sort by:   newest | oldest | most voted
Joy Megh
Guest

Adrija Chowdhury এই দেখ..

Adrija Chowdhury
Guest

Ai ta koi?

Joy Megh
Guest

এখানে ই নতুন একটি place

Farhana Ferdous Mumu
Guest

ai ta koi??

wpDiscuz