বৈসাবি উৎসব:শেষমূহুর্তের বিকিকিনি…….


তানিয়া এ্যানি প্রকাশের সময়: এপ্রিল 12, 2018

বৈসাবি উৎসব:শেষমূহুর্তের বিকিকিনি…….

সূর্য্য ডুবে রাত ঘনিয়ে প্রায়।এখনো জীর্ন শাক সবজি সামনে নিয়ে বসে কিছু মানুষ। বিক্রি হবে তারপর ঘরে ফিরবে তারপর জমবে বিজুর আয়োজন।নব্বয়ের কোঠা ছুঁই ছুঁই সাবেত্রি চাকমা।তিন ছেলে এক মেয়ে।স্বামী বিগত হয়েছেন বেশ অনেকদিন।ছেলেরা সংসার নিয়ে যে যার মত।তাই সংসারের হাল এখনো নিজের ঘাড়েই।পানি শুকিয়েছে আগে নৌকায় আসতে এখন আসে হেটে।শহরের বনরুপা বাজারে হাজির হয়েছেন নিজের গাছের ফলফলাদি নিয়ে। বিজুর আগে শেষ বাজার আজ।এসব বিক্রি হবে তবেই না বাড়িতে খানিকটা বিজুর আয়োজন হবে।পাচনতো রাঁধতেই হবে।বিষন্ন ভীষন জানালেন বেচা বিক্রি ভালো না তেমন।আর পাহাড় ধ্বসে অনেক ফলফলাদির গাছের ক্ষতি সাধন হওয়ায় এইবার বাজারে উঠাতে পারেনি অনেক কিছুই। একই অবস্থা শোভা চাকমারও।তিন ছেলে মেয়ে আর নাতনী বাড়িতে।গত কদিনের বাজারে নিয়মিত এসে হাতে যে ক’টাকা এসেছে তা দিয়ে ছেলে মেয়ে নাতনীর জন্য কিনেছে নতুন জামা কাপড়।নিজের জন্য কিনেনি কিছুই।টাকায় টানাপোড়ন।রোদে গরমে নিস্তেজ হয়ে পড়া কিছু মুলো নিয়ে এখনো বসে আছে বাজারে।যদি বিক্রি হয়ে যায় সে আশায়। সরকারী চাকরীজীবি বিকাশ চাকমা অফিস থেকে ফিরতি পথে নেমেছে বাজারে।কেনাকাটা সব শেষ।তবুও বাজারে চোখ বুলিয়ে যাওয়া কিছু বাদ পড়েছে কিনা।বাজার দরও ঠিকঠাক। গৃহকর্মী জয়া নিজের ঘরের বাজার নিজেই করেন।এসেছেন বাজার পাঁচনের আরো কিছু আনুষঙ্গি কিনতে।বিজুর মমূল খাদ্য পাঁচনে উপাদান যতবেশি তত মঙ্গল এমনটাই বিশ্বাস তার।ষাটের কোঠার সাধন।বেশ উৎফুল্ল।বেচা বিক্রি খুবযে ভালো তা নয় কিন্তু উৎসবতো তাই ভীষন খুশি।চোখে মুখেই ভেসে আছে উৎসবের রেশ। তরমুজ বিক্রেতা উজ্জ্বল প্রতি বিজুর আগেই হাজির হোন ছোট বড় নানা সাইযের তরমুজ নিয়ে।বেচা বিক্রিও বেশ ভালোই।গরমটা বেশ পরেছে এবার আর বিজু উৎসবের অন্যতম উপাদান তরমুজ তাই বেচাবিক্রির রেশটাও বেশ।ভীড় জমে আছে শহরের মিষ্টির দোকান গুলোতেও।অন্যান্য যে কোন সময়ের চেয়ে এসময় মিষ্টির চাহিদা বেশি।উপলক্ষ্যে মাথায় রেখেই বেশ মিষ্টির দোকান গুলোতেও উৎসব আমেজ।কাচা বাজার জুরে তারা,মাশরুম,নানা প্রকার সবজি,বিচি,মুলা আর কাচা ফলের চাহিদা বেচাবিক্রি চলছে বেশি। আজ রাত পেরোলে কাল ভোরে ফুল বিজু।আনুষ্টানিকভাবে হৃদের জলে ফুল ভাসানোর মধ্যে দিয়ে শুরু হবে পাহাড়ের আদিবাসীদের সবচেয়ে বড় উৎসব বৈসাবী।কাল ফুল বিজু তারপর দিন থেকে শুরু মূলত মূল উৎসব। চাকমা সম্প্রদায়ের বিজু,মারমা সম্প্রদায়ের সাংগ্রাই,ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের বৈসুক।সবমিলিয়ে বৈসাবীর রঙ এখন পাহাড়ের বাঁকে বাঁকে……পাহাড় ধ্বসের দু:সহ স্মৃতি কাটিয়ে উৎসবের রঙে রঙিন হয়ে থাক পাহাড়।রঙ ছড়িয়ে যাক সাবেত্রি শোভাদের ঘরে ঘরেও…….

সংবাদটি শেয়ার করুন

Top advertise


এই সংবাদটিতে আপনার মতামত প্রকাশ করুন

avatar
  Subscribe  
Notify of