বৈঠকের অভাবে চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে শূন্যতা সৃষ্টি হচ্ছে


মো. মোস্তফা কামাল প্রকাশের সময়: অক্টোবর 26, 2017

বৈঠকের অভাবে চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে শূন্যতা সৃষ্টি হচ্ছে

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সেমিনারে চাকমা রাজা

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তায়নের ইতিবাচক অগ্রসর এবং বিদ্যমান দ্বন্দ্ব  এবং পারস্পরিক অনাস্থা ও অবিশ্বাস দূরীকরণের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান সন্তু লারমার মধ্যে সরাসরি দ্বি-পাক্ষিক আলোচনা এবং দেখা সাক্ষাতের ওপর গুরুত্ব দিয়ে চাকমা সার্কেল চিফ ব্যারিস্টার দেবাশিষ রায় বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সন্তু লারমার অনেক দিন সরাসরি দেখা সাক্ষাৎ কিংবা বৈঠক হচ্ছে না। এর ফলে এখানে একটি শূন্যতা এর সৃষ্টি হচ্ছে।

‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের বর্তমান চিত্র এবং সামনে অগ্রসর’ শীর্ষক জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চাকমা রাজা ব্যারিস্টার দেবাশিষ রায় এ কথা বলেন। বুধবার রাঙামাটির হোটেল সাবেরাংয়ে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। মানবাধিকার কমিশনের সদস্য অধ্যাপিকা বাঞ্ছিতা চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য গুনেন্দু বিকাশ চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটির সভাপতি গৌতম দেওয়ান, মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য নিরুপা দেওয়ান, জেলা পরিষদের সদস্য মনোয়ারা জসিম, রাঙামাটির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রুহুল আমিন ছিদ্দিকীসহ রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি বিভিন্ন এনজিও প্রতিষ্ঠাানের কর্মকর্তা, আইনজীবী, হেডম্যান, নারী নেত্রীসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সেমিনারে চাকমা সার্কেল চিফ পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির বিভিন্ন বিষয়ে উল্লেখ করে বলেন, মানবাধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে বোঝা যাবে আমরা কতটা খারাপ অবস্থায় আছি। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে সরকার এবং জনসংহতি সমিতির বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত নিয়ে বলেন, প্রকৃত পক্ষে চুক্তির কতভাগ বাস্তবায়িত হয়েছে সে সম্পর্কে সঠিক তথ্য প্রচার দরকার।

রাঙামাটিসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন বিষয়ে অনেক সময় প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেয়া হয় বলে উল্লেখ করে চাকমা রাজা বলেন, এখানে অনেক ক্ষেত্রে মশা মারতে কামান ডাকা হয়, যেটির কোনও প্রয়োজন নেই। যার কাজ তাকে দিয়ে করানো হলেই ভাল ফলাফল পাওয়া যাবে। চাকমা রাজা পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে সেনাবাহিনীর উপস্থিতির বিষয়ে কৌশলী বক্তব্যে বলেন, এখানে চুক্তি অনুযায়ী সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহার করা হলেও ৬টি সেনানিবাস থাকবে, যেটা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি আর জনগণের সম্মতির প্রেক্ষিতে সেনাবাহিনীকে উন্নয়ন কাজে সম্পৃক্ত করা যায় তবে তা সককিছুতে নয়। তিনি সেনাবাহিনীর মর্যাদাহানি হয় এমন কোনও কাজে সেনা সদস্যদের সম্পৃক্ত না করার আহবান জানান।

পার্বত্য চট্টগ্রামে মেডিকেল কলেজ এবং প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ব্যাপারে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিসহ উপজাতীয় নেতৃবৃন্দের বিরোধিতার বিষয়টি উল্লেখ করে চাকমা রাজা বলেন, সরকার যদি আলোচনার মাধ্যমে এই দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের উদ্যোগ নিতো তাহলে এই বিরোধিতা আসতো না। আমরা এই দুটি প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে শর্তযুক্ত হ্যাঁ বলতে রাজি ছিলাম, কিন্তু সকলকে পাশ কাটিয়ে এই উদ্যোগ কাক্সিÿত ছিল না।

চাকমা রাজা তিন পার্বত্য জেলায় বিভিন্ন উপজাতীয় স¤প্রদায়ের লোকজনের অস্তিত্ব নিয়ে বলেন, আগামীতে এখানে উপজাতীয় লোকজন সংখ্যালঘু স¤প্রদায়ে পরিণত হবে। বর্তমানে এখানকার সব কয়টি পৌরসভার মেয়র বাঙালি স¤প্রদায়ের। আগামীতে দেখা যাবে অন্যান্য পদে জনপ্রতিনিধিদের ও বাঙালিদের আধিক্য।

পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির আলোকে স্থাপিত বিভিন্ন সংস্থাসমূহকে কার্যকরী না করায় তিনি হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ এখন কোন কাজ করতে পারছে না। তিন পার্বত্য জেলা পরিষদগুলো সরকার মনোনিত দলীয় লোকজনদের দ্বারা পরিচালিত। পার্বত্য চট্টগ্রাম শরণার্থী এবং আভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু পুনর্বাসন বিষয়ক টাস্কফোর্স এ পর্যন্ত একজন আভ্যন্তরীণ উদ্বাাস্তুকেও কোন সহায়তা করেনি। পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি কমিশনের বর্তমান চেয়ারম্যানের মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে কিন্তু কমিটির কাজের কোন অগ্রগতি নেই। সব জায়গায় শুধু হতাশা।

মানবাধিকার কমিশনের এই সেমিনারে চাকমা সার্কেল চিফে এই বক্তব্যকে সেমিনারে উপস্থিত লোকজন ভিন্নভাবেই মূল্যায়ন করেছেন। সেমিনারে উপস্থিত কয়েকজন অংশগ্রহণকারী নাম প্রকাশ না করার সূত্রে বলেছেন, চাকমা রাজার সাথে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের একটি মহলের সু সম্পর্ক রয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথেও চাকমা রাজার মাঝে মধ্যে সাক্ষাৎ হয়। অপরদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান তথা পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি সন্তু লারমার অত্যন্ত আস্থাভাজন ব্যক্তি চাকমা রাজা। আন্তর্জাতিক মহলেও চাকমা রাজার আলাদা একটি গ্রহণ যোগ্যতা রয়েছে। সে হিসাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি নিয়ে বর্তমানে সরকার এবং সন্তু লারমার মধ্যে যে দোটানা মনোভাব চলছে তাতে মধ্যস্থতাকারী হিসাবে চাকমা রাজা মূল্যবান ভূমিকা রাখতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সন্তু লারমার সরাসরি সাক্ষাতের বিষয়টির মধ্যস্থতাকারী হিসাবে চাকমা রাজা উদ্যোগী হয়েছেন বলে তাদের ধারণা।

এদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২০ বছর পূর্তি হতে যাচ্ছে আগামী ২ ডিসেম্বর। বর্তমান সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে এটিই শেষ বর্ষপূর্তি পালন। আগামী বছরেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন সে হিসাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম ইস্যুর একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের বিষয়ে উভয় পক্ষ আন্তরিক বলে কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে। বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা, চাকমা রাজার বক্তব্যের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সন্তু লারমার দ্বি-পাক্ষিক বৈঠকের ইঙ্গিত রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২০ বছর পূর্তির আগেই অর্থাৎ ২ ডিসেম্বরের আগেই এই কাক্সিÿত সাক্ষাৎ হতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Top advertise


এই সংবাদটিতে আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Notify of
avatar
Sort by:   newest | oldest | most voted
Md Sarwar
Guest

চোরের মায়ের বড় গলা।

Gk Rubel
Guest

চুক্তি কি?, পাহারে সকল পাহারি বাজ্ঞালী মিলেমিশে থাকবে।এমনি তে বাজ্ঞালী রা জায়গা কিনতে পারছেনা,তার উপর অপহরন,চাদাবাজি,খুন চলছেই।কথায় কথায় বলে বাজ্ঞালীকে ভৃমি ছেরে চলে যেতে হবে! কেনো পাহার কি আপনাদের ইজারা দিসে নাকি!!??চুক্তিতে অনেক সংশোধন করতে হবে।পাহারি বাজ্ঞালী সমান অধিকার হতে হবে।জেলা পরিষোদ ও আঞ্চলিক পরিশোধের নির্বাচন দিতে হবে এবং তাতে পাহারি বাজ্ঞালী সবাই প্রতিদন্দীতা করবে এবং ভোট দিবে।প্রোচলিতো আইনে ভৃমি সমস্যা সমাধান করতে হবে।সরকার কে বলছি পাহারিরা কিন্তু বিদেশীদের দারা পরিচালিতো।ওদের বেশী মাথায় তুলবেনা।মনে রাখবেন ওরা মিয়ানমারের বংশধর।

Asraful Alom
Guest

1🚽

Apple Nizami Apple Nizami
Guest

চুক্তির মায়েরে চুদি,তগো বাপের দিইন্যা দেশ।
একজন শেখ মুজিবের বেশি প্রয়োজন!!

wpDiscuz