বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ এর শাহাদাৎ বার্ষিকী আজ


জিয়াউল জিয়া প্রকাশের সময়: এপ্রিল 20, 2018

বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ এর শাহাদাৎ বার্ষিকী আজ

আজ ২০ এপ্রিল ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ মুন্সি আব্দুর রউফ এর শাহাদাৎ বার্ষিকী। রাঙামাটির নানিয়ারচরের বুড়িঘাটের একটি দ্বীপে চির নিদ্রায় শায়িত আছেন মুক্তিযুদ্ধের ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ মুন্সি আব্দুর রউফ। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ৪৭বছর যাবৎ তাঁর শাহাদাৎ বার্ষিকীতে উপলক্ষে দিনটি সরকারি, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠিানিক ভাবে কখনো পালন করা হয়নি।

এবছর প্রথমবারের মত বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ ফাউন্ডেশন এর নামে ৩য় শ্রেণি থেকে ৯ম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে মেধা বৃত্তি চালু করেছে, ২০ এপ্রিল বীরশ্রেষ্ঠের শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষ্যে মেধা বৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে সকালে পুরস্কার প্রদান, দোয়া ও আলোচনা সভার আয়োজন রাখা হয়েছে।

কাপ্তাই লেকের অথৈ নীল পানির মাঝে ছোট্ট একটি দ্বীপে মুন্সি আব্দুর রউফের সমাধি। দেশের সাত জনের একজন ‘বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ’ এর সমাধি স্থান রাঙামাটির নানিয়ারচরের বুড়িঘাটে। ১৯৭১ সালের ২০এপ্রিল পাক বাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে বীরদর্পে যুদ্ধ করে শহীদ হয়েছিলেন এ বীর সন্তান। বাংলাদেশ বিডিআর এ কর্মরত মুন্সি আবদুর রউফ ছিলেন ল্যান্স নায়েক। ২৬মার্চ যুদ্ধ শুরু হলে বিডিআর দলের সাথে তিনিও ছুটে আসেন পার্বত্য চট্টগ্রামে। রাঙামাটি জেলার নানিয়ারচর উপজেলার বুড়িঘাটে শত্রুবাহিনীর সাথে তুমুল যুদ্ধ শুরু হলে মুন্সি আবদুর রউফ বীরদর্পে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে থাকেন। শত্রুবাহিনীর তিনটি নৌযান একাই ধ্বংস করেন তিনি।

তৎকালীন পার্বত্য চট্টগ্রামে রাঙামাটি-মহালছড়ি পানিপথ প্রতিরোধ করার জন্য ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের এক কোম্পনী সৈন্যের সাথে বুড়িঘাটে দায়িত্ব পালন অবস্থায় হঠাৎ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কমান্ডো ব্যাটেলিয়নের দুই কোম্পানী সৈন্য, বেশ কয়েকটি স্পীড বোট এবং দুটি লঞ্চে করে বুড়িঘাট দখলের জন্য আক্রমন করে ও মর্টার এবং অন্যান্য ভারী অস্ত্র দিয়ে অবিরাম গোলা বর্ষণ শুরু করে। হঠাৎ একটি গোলার আঘাতে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় মুন্সী আবদুর রউফের দেহ। পরে স্থানীয় দয়াল কৃষ্ণ চাকমা তার লাশ উদ্ধার করে নানিয়ারচরের বুড়িঘাটের চিংড়ি খাল সংলগ্ন এই দ্বীপের উপর সমাহিত করেন। পরে ১৯৯৬ সনে বিজিবির উদ্যোগে সেই দ্বীপের নির্মিত হয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফের সমাধি সৌধ।

বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ সমাধি সৌধের কেয়ার টেকার দয়াল কৃষ্ণ চাকমার ছেলে বিনয় কুমার চাকমা বলেন, ‘আমি তো মুক্তিযুদ্ধ দেখি নাই। আমার বাবা দেশের একজন বীরশ্রেষ্ঠের কবর দীর্ঘদিন দেখাশুনা করে আসছিল। এখন শারিরীক অবস্থা খারাপ করার কানে আমি দেখাশুনা করি। এই সমাধি স্থানটা দেখাশুনা করতেছি এটা করার আমার জন্য মুক্তিযুদ্ধা।

গাজীপুর থেকে ঘুরতে আসা মল্লিকা সেন জানান, ‘আমি আমার বইয়ে পড়েছি সাত বীরশ্রেষ্ঠের মধ্যে একজন রাঙামাটিতে। তাই ওনার সমাধি ন্থানটি দেখতে আসছি। এই সমাধি স্থানটি আরো সুন্দর ও প্রচার হলে অনেকেই আসবে দেখার জন্য। দেশের জন্য যিনি জীবন দিয়েছেন।

বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ স্মৃতি সংরক্ষনে ও নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানাতে কাজ শুরু করেছে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ ফাউন্ডেশন। ইতোমধ্যে ফাউন্ডেশন শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেধা বৃত্তি চালু করেছে। ২০ এপ্রিল বীরশ্রেষ্ঠের মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে বৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার প্রদান করা হবে।

বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ ফাউন্ডেশন পরিচালক ইয়াসিন রানা (সোহেল) জানান, ‘প্রতিবছর স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফের স্মৃতি সৌধে শ্রদ্ধা জানানো হলেও তাঁর শাহাদাৎ বার্ষিকীর দিনে তেমন কোন আয়োজন হতো না। এ বছর থেকে শাহাদাৎ বার্ষিকীর দিনে ফাউন্ডেশন শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেধা বৃত্তি প্রদানসহ নানা আয়োজনকে স্বাগত জানিয়েছে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা। আমরা আশা করছি আগামী বছর থেকে এই বীরশ্রেষ্ঠের মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষ্যে প্রতিটি বিদ্যালয়ে দোয়া ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এর মাধ্যমে শিশুদের মাঝে মুক্তিযুদ্ধেও চেতনা এবং বীরশ্রেষ্ঠের জীবন সম্পর্কে সকলে জানতে পারবে। এবছরই প্রথমবারের মত বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ ফাউন্ডেশনের উদ্যেগে তার মৃত্যু বার্ষিকী পালন করছে।

প্রসঙ্গত, ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার সালামতপুর গ্রামে ১৯৪৩ সালের ১মে জন্মগ্রহণ করেন বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ। বাবা মেহেদী হোসেন স্থানীয় একটি মসজিদে ইমামতি করতেন। তিন ভাই বোনের মধ্যে আব্দুর রউফ ছিলেন সবার বড়। উপজেলার কামারখালী হাই স্কুলে নবম শ্রেণিতে পড়াবস্থায় তৎকালিন ইপিআর বর্তমানে বিজিবিতে যোগ দেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Top advertise


এই সংবাদটিতে আপনার মতামত প্রকাশ করুন

avatar
  Subscribe  
Notify of