নীড় পাতা / ব্রেকিং / বিলাইছড়িতে ফের দীপংকর ভন্তের অনুসারিদের ওপর হামলা

বিলাইছড়িতে ফের দীপংকর ভন্তের অনুসারিদের ওপর হামলা

রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার দুর্গম এলাকা ‘ফারুয়া’য় আবারো ‘দীপংকর ভন্তে’ নামে পরিচিত এক বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরুর অনুসারিদের মারধর করেছে পার্বত্য চট্টগ্রামে সবচে প্রভাবশালী আঞ্চলিক দলটির কর্মীরা। এমন অভিযোগ করেছেন হামলার শিকার আহত এবং তাদের স্বজনরা। আহত একজনের পায়ে গুলিও করা হয়।
আহতদের শুক্রবার সন্ধ্যায় রাঙামাটি সদর হাসপাতালে আনা হয়।

তারা দাবি করেছেন, শুক্রবার সকালে রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়ায় দীপংকর ভন্তের কিয়াংয়ে যাওয়ার অপরাধে দুর্বৃত্তদের হামলার আহত হয় ৩ জন। এরা হলেন প্রদীপ তংচঙ্গ্যা, নিরলস তংচঙ্গ্যা ও সুবল তংচঙ্গ্যা আহত হয়। তাদের শরীরে প্রচুর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

প্রতিদিনের ন্যায় উপাসনা করার জন্য কিয়াংয়ে গেলে ৬ জন দুর্বৃত্ত তাদের ডেকে নিয়ে পাশের মাঠে বেধরক পেটায় কলে অভিযোগ করেছেন আহতরা। গুরত্বর আহত নিলরস তংচঙ্গ্যাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে স্থানন্তর করা হয়েছে, বাকি দুইজন রাঙামাটি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

তারা আরও বলেন, ‘সন্ত্রাসিরা আমাদের ডেকে নিয়ে গরু ছাগলের মত পিটিয়েছে, মানুষ মানুষকে এতো নির্দয়ভাবে পিটাতে পারে আমাদের জানা ছিলনা। আমাদের অপরাধ কি জানতে চাইলে ওরা বলেছে আমরা যেন আর দীপংকর ভন্তের কাছে না যাই। এই ভন্তে এখানে থাকতে পারবেনা।’
আহত প্রদীপ তংচঙ্গ্যা জানান, আমরা কোন রাজনীতি করিনা, জুম চাষ করে খাই আর ধর্ম পালন করি। আমাদের ওপর এতো নির্যাতন কেন? আমাকে মোটা লাঠিদিয়ে ইচ্ছা মত পিটিয়েছে, মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে।
নিলরস তংচঙ্গ্যা বলেন, ‘ ওরা আমাকে মাথা ফাটিয়ে ক্ষান্ত হয়নি, পায়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করেছে, আমার রান ফুটো হয়ে গুলি বের হয়ে গেছে।
সুবলমনি তংচঙ্গ্যা প্রায় একই ধরনে অভিযোগ করেছেন।

কারা এ হামলা করেছে তাদের চিনতে পেরেছেন কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন, জানি তারা কারা, তবে এখন বলতে পারবনা, আমার জীবনের নিরাপত্তা দিবে কে ?

তবে সঙ্গে আসা লোকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই হামলার জন্য সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিকে দায়ি করে বলেছেন, এটা তাদের সশস্ত্র গ্রুপর কাজ, তারা চায়না দীপংকর ভন্তে ওখানে থাকুন। এর আগেও তারা ওই এলাকায় আমাদের অনেক ভন্তের অনুসারিকে মারধর,গুলি করেছে।’

এই তিনজন সহ গত একবছরে ফারুয়া এলাকায় জনসংহতি সমিতির সশস্ত্র কর্মীদের হাতে অন্তত: ২০ জন দীপংকর ভন্তের অনুসারি নানাভাবে আহত হয়েছেন। আহত অনুসারিরা প্রতিটি হামলার জন্য সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতিকে দায়ি করে আসছেন।

তবে সবসময়ই জনসংহতি সমিতির মুখপাত্র সজীব চাকমা, এইসব ছোটখাটো সামাজিক বিরোধ বা ঘটনার সাথে তার সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি সম্পৃক্ত নয় বলে দাবি করেছেন।

শুক্রবার রাতে আহতদের দেখতে রাঙামাটি সদর হাসপাতালে গেছেন বিলাইছড়ি থেকে মনোনীত রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য রেমলিয়ানা পাংখোয়া। তিনি বলেন, এটা একটা অপরাজনীতি, সাধারণ মানুষের ওপর হামলা মেনে নেয়া যায় না। এই ঘটনা দু:খজনক।

আহতদের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তারা ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করবেন।

আরো দেখুন

নানিয়ারচরে দুই ইউপিডিএফ কর্মীকে গুলি করে হত্যা

‘দলত্যাগ’ করে ইউপিডিএফ-এ যোগ দেয়ার ‘অপরাধে’ দুই কর্মীকে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে সংস্কারপন্থী হিসেবে পরিচিত …

2 মন্তব্য

  1. সংবাদদাতা হিসেবে বার্তাতা একটু মানসম্মত করা উচিত ছিল এখানে ত দীপংকর ভান্তের অনুসারী বলতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে উল্লেখ করতে চেয়েছিলেন বলে মনে হচ্ছে ।

  2. দীপঙ্কর ভান্তের নীতি ঠিক নেহি তাই হয়তো জনসাধারণ বাধা দিয়েছে লোকজন বিপথগামী না হয় ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

five × two =