বান্দরবানে ঘরোয়া পর্যটনের হাতছানি


মনু ইসলাম, রুমা ঘুরে এসে প্রকাশের সময়: ডিসেম্বর 13, 2017

বান্দরবানে ঘরোয়া পর্যটনের হাতছানি

বান্দরবানের রুমা উপজেলা। নৈসর্গিক সৌন্দর্যে ভরা জনপদ হলেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা এখানকার জনজীবনকে শিক্ষার আলো থেকে দূরে সরিয়ে রাখার পাশাপাশি বেকারত্বও চাপিয়ে দিয়েছিল। গত কবছর জুম ফসলও আসছে না প্রয়োজন অনুযায়ী। তাই এলাকাবাসীর অবস্থান ছিল দারিদ্র্যসীমার নিচে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ঘরোয়া পর্যটন বা ‘হোম স্ট্যা ট্যুরিজম’ এই এলাকাবাসীর জীবনে নতুন আলোক রশ্মি এনে দিয়েছে।

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের এই সম্ভাবনাময় ইচ্ছার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে ‘হিমালিকা’ প্রকল্প। পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের জন্যে টেকসই উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট (আইসিআইএমওডি) পাইলট প্রকল্প হিসেবে বান্দরবানের রুমা উপজেলায় পর্যটন খাতের উন্নয়নের মাধ্যমে পরিবর্তিত জলবায়ুজনিত সমস্যার সাথে খাপ খাওয়ানোর এই উদ্যোগ নেয়।

বেপরোয়া পাহাড় কাটা, বনের বৃক্ষ নিধন এবং পাথর ও বালুসহ প্রাকৃতিক উপাদানসমুহ উত্তোলনের কারণে পাহাড়ি নদীগুলোর জলপ্রবাহ মারাত্মক আকারে হ্রাস পায়। পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় পাহাড়ের ঢালে হাজার বছরের জুমচাষও হুমকির মুখে পড়ে। এসব কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের ভূমিচ্যুত হওয়ার যে আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল-হিমালিকার ‘হোম স্টে ট্যুরিজম’ ধারণা এই অঞ্চলের মানুষের জন্যে বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ এনে দিয়ে তাদেরকে নিজ এলাকায় বেঁচে থাকার আশা জাগিয়েছে।

নতুন জীবনের হাতছানি দেখতে বান্দরবান থেকে সড়কপথে ৪৮ কিলোমিটার দূরের এই উপজেলায় আমাদের অভিযাত্রা।
সাথে তরুণ সাংবাদিক হ্লাচিং মারমা। বাংলাদেশ-ভারত-মিয়ানমার ত্রি-সীমান্ত অঞ্চল লাগোয়া একটি পাহাড়ি অঞ্চল। ভারতের মিজোরাম রুমার কাছাকাছি। ফলে পুরো পার্বত্য চট্টগ্রামের মধ্যে রাঙামাটির সাজেক এবং বান্দরবানের রুমা উপজেলার অনন্য প্রাকৃতিক পরিবেশ সাধারণ চোখেই ধরা পড়ে।

রুমা থেকে কয়েক ঘন্টার হাঁটাপথ পেরিয়ে অনায়াসেই মিজোরামের রাজধানী আইজল শহরে পৌঁছা যায়।

প্রবীণদের সাথে কথা বলে জানা গেল, মারমা, ম্রো, ত্রিপুরা, খুমি, বম এবং লুসাই জনজাতির বসবাস হলেও মিজোরামের বাসিন্দাদের সাথে ধর্ম ও কৃষ্টিগত সাযুজ্য থাকায় বম ও লুসাইরা এই অঞ্চলে কিছুটা এগিয়ে থাকায় পর্যটন খাতে অন্যদের তুলনায় সঙ্গত কারণেই বমরা বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে। রুমা থেকে বগালেক হয়ে তাজিন ডং পর্যন্ত পর্যটন সম্ভাবনাময় ট্যুরিস্ট স্পটগুলোতে যেসব রেস্টুরেন্ট, রিসোর্ট বা গেস্টহাউস গড়ে ওঠেছে, দু’একটি বাদ দিলে অবশিষ্ট সব বিনিয়োগ বমদেরই।
এ ক্ষেত্রে হিমালিকা প্রকল্প ছিল তাদের অন্যতম সহায়ক। পর্যটনসমৃদ্ধ দেশ সফর, হাতে-কলমে ক্যাটারিং ও রুম ম্যানেজমেন্ট প্রশিক্ষণ এবং নিবিড় পরিচর্যা দিয়ে স্থানীয় উদ্যোগকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে যাচ্ছে হিমালিকা।

বান্দরবান থেকে নদীপথে রুমায় যেতে লাগে ৪ থেকে ৫ ঘন্টা। কিন্তু সড়কপথে মোটরসাইকেলে চেপে মাত্র দু’ঘন্টায় পৌঁছে গেলাম রুমায়।

বান্দরবান থেকে যাত্রা করে পূর্ব দিকে এগোতে থাকলে আকাশছোঁয়া সারি সারি পাহাড় পার হয়ে রুমা উপজেলা সদরে পৌঁছেই চোখে পড়ে গেল জৌমি রিসোর্টের ছোট্ট সাইন বোর্ডে। ভেতরে ঢুকে দেখা গেল, বাঁশ-কাঠের তৈরি দু’কক্ষের একটি ঘর। দুটি কক্ষে দুজন করে বড়জোর চারজন থাকা সম্ভব। তার খানিকটা নিচে শঙ্খ নদীর পাড়া ঘেঁষে লম্বা একটি ঘর। ওখানে বড়জোর ১০ জনের শয্যা পাতা যায়। নিজেদের থাকার ঘরের পাশের এক চিলতে উঠোন জুড়ে একটি রেস্টুরেন্ট কাম মিটিং রুম। ওখানে জনা ত্রিশেক লোকের বসার ব্যবস্থা রয়েছে। রুম পাওয়া গেল না।

জানা গেল, এই রিসোর্টটি ‘ফুল বুকিং’ থাকে প্রায় সারা বছর। হঠাৎ করে গিয়ে রুম চাইলে রিসোর্টের মালিক পাঙাক বম নিজেই পড়ে যান বিপাকে।

কথা হয় পাঙাক বমের সাথে। টগবগে এক তরুণ। নতুন কিছু একটা করার নেশায় চটপট করে সারাক্ষণ।

পাঙাক জানান, উচ্চতর পড়াশোনা শেষ করে জীবিকা হিসেবে কোন পথ বেছে নেবো-এই চিন্তায় অস্থির ছিলাম। সে সময়ে পর্যটন সম্ভাবনার বার্তা নিয়ে আমার সামনে এগিয়ে এলো ‘হিমালিকা। ’ তাই চাকরিতে না গিয়ে নতুন একটা কিছু করার নেশায় নেমে গেলাম পর্যটন ব্যবসায়।

পাঙাক বলেন, ব্যবস্থাপনা ব্যয় কমিয়ে আনার জন্যে মা-বাবা এবং আমি নিজের রুম পরিষ্কার করি, সাজাই, অতিথি অভ্যর্থনা এবং তাদের ছোটখাটো প্রয়োজন সেরে দেই নিজেরাই।

পাঙাক জানান, শখ থেকে শুরু করে এখন আমার ধ্যান-জ্ঞান শুধুই পর্যটন কেন্দ্রিক।

পাঙাকের একাগ্রতায় আশার আলো দেখেন হিমালিকা প্রকল্প কর্মকর্তারাও। অনুপ্রেরণা হিসেবে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় নেপালে। সেখানে গিয়ে ঘরোয়া পর্যটন ব্যবস্থাপনা শিখে এসেই এ বছরের শুরুতে রেস্টুরেন্ট স্থাপনের কাজে হাত দেন। এর পাশাপাশি দেশে অনুষ্ঠিত আরো কয়েকটি কর্মশালায় যোগ দিয়ে অতিথিদের স্বাগত জানানো, ওয়েলকাম টি কিংবা ওয়েলকাম জুস পরিবেশন করা, নাস্তা, মধ্যাহ্ন ভোজ কিংবা নৈশভোজ বা ছোটখাটো পার্টি সামলানো রপ্ত করে নিয়েছেন পাঙাক। এখন স্বেচ্ছাসেবী উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সব সেমিনার-কর্মশালা বা ছোটখাটো পার্টির জন্যে সবাই অনেকটা নির্ভরশীল আদিবাসী বাড়ির এক চিলতে আঙিনায় গড়ে তোলা জৌমি রিসোর্টের ওপর।

জৌমি রিসোর্ট ঘুরে দেখা গেল, কটেজ আকারের এই রিসোর্টে কক্ষ সংখ্যা মাত্র দুটি হলেও অন্য হোটেল বা রিসোর্টের সাথে বিশেষত্বের দিক থেকে যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে। কাঠের খুঁটির উপর পাটাতন বিছিয়ে তৈরি করা হয়েছে কক্ষের মেঝ। চারপাশে কাঠের তক্তা এঁটে দেওয়া দেয়াল। মাথার উপর টিনের চালা। রুমে আছে ডিস কানেকশনযুক্ত এলইডি টিভি। আছে বিদ্যুৎ না থাকলে সোলার প্যানেলের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা। ল্যাপটপ-কম্পিউটার চালানোর মতো একাধিক সকেটও। বাথরুমগুলোর ফ্লোর পাকা। তাতে ফ্লাশযুক্ত হাই কমোট, আছে শাওয়ারের জলধারায় গোসল করার ব্যবস্থা। বাথরুম লাগোয়া ঝুল বারান্দায় দাঁড়িয়ে বা বসে নদী আর পাহাড় দেখার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে ছোট্ট এ দু’টি কক্ষের মাঝখানে।

জৌমি রিসোর্ট তৈরি করা হয়েছে একটি পাহাড়ি ঝিরির উপর। কক্ষের ভেতরে কিংবা ঝুল বারান্দায় বসে দিনরাত বৃষ্টির শব্দের মতো পানির কল কল ধ্বনি শোনা যায়।

পাঙাক জানালেন, এক একটি কক্ষের ভাড়া দৈনিক এক হাজার টাকা। এক সময় রেস্টুরেন্ট ছিল না। অতিথিদের খেতে পাঠাতে হতো অন্য কোথাও। এখন আর সে অসুবিধাও নেই।

জৌমি থেকে বগালেক

আড়াই হাজার ফুট উচ্চতার পাহাড় চূড়ায় বিশাল এক জলাধারের নাম বগালেক। রুমা বাজার থেকে মোটর সাইকেলে যেতে লাগলো ঘন্টাখানেক। বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিতে এই লেককে ‘সুপ্ত আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ’ বলে বিবেচনা করা হলেও এই বগালেক ঘিরে মারমা, ম্রো এবং বম জনজাতির চমৎকার চমৎকার মিথ রয়েছে।

জানা গেল, এক সময় এখানে একটি ম্রো গ্রাম ছিল। সে গ্রামের মানুষ একদিন দেখে আস্ত একটি ছাগল দাঁতে চেপে একটি গর্তের মধ্যে ঢুকে যাচ্ছে বিশাল এক প্রাণী। তাকে ধরতে বড়শীতে একটি শুকর ছানা গেঁথে সে গর্তে ফেলে দেয়া হয়। শুকর গিলতে গিয়ে অদ্ভুত প্রাণীটি বড়শীতে গেঁথে যায়। সবাই মিলে অনেক কষ্টে অর্ধেকটা তুলতে সক্ষম হয়। উপায়হীন হয়ে অর্ধেকটাই কেটে নিলে লেজের অংশটি বিকট আওয়াজ করে গর্তে পড়ে যায়। মনের আনন্দে গ্রামবাসী অদ্ভুত প্রাণীর মাংস রান্না করে খেয়ে ফেলে। এক বৃদ্ধ সে মাংস খান নি। রাতে তাকে স্বপ্ন দেখানো হলো-‘তুমি আমাকে কষ্ট দাওনি। তাই তোমাকে মারবো না। রাতের মধ্যেই তুমি গ্রাম ছেড়ে চলে যাও। আমি অভিশপ্ত এই গ্রামকে পাতালে তলিয়ে দেব। ’ ভোরের আলো ফোটার আগে ভাগে গ্রাম ছেড়ে পালাতে গিয়ে বৃদ্ধ দেখলেন-তার চোখের সামনেই আস্ত একটা গ্রাম কীভাবে পাতালে তলিয়ে যায়! পানি জমতে জমতে সৃষ্টি হয় বিশাল জলাশয়। সেই এটিই আজকের বগালেক।

রুমা উপজেলা সদর থেকে ১৭ কিলোমিটার দূরে এর অবস্থান। নব্বইয়ের দশকে সেনাবাহিনীর পৃষ্ঠপোষকতায় এখানে একটি বম পাড়া গড়ে ওঠে। এখন এই গ্রামে বাস করে ২৮টি পরিবার।

এক সময় শঙ্খ নদী আর রুমা খালের পাড় ধরে হাঁটা পথে যেতে হতো বগালেকে। সরকারি অর্থে এখন পাকা সড়ক নির্মাণ হচ্ছে। ইতোমধ্যে ১৬ কিলোমিটার সড়কের মাটির কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। বগালেক পাড়ায় ওঠার শেষ পাহাড়টির পাশ ঘেঁষে চলছে অবশিষ্ট কাজ। এই কাজ শেষ হলে আগামী বছরেই পাকা সড়ক বেয়ে গাড়িতে চড়ে রুমা থেকে সরাসরি চলে যাওয়া যাবে বগালেক পাড়ায়।

বগালেক পাড়ায় সবাই বম। ব্যাপ্টিস্ট অনুসারী খ্রিস্টান তারা। এই পাড়া ঘিরেই এখন ঘরোয়া পর্যটন বা হোম স্টে ট্যুরিজম বেশ জমজমাট। সরকারি ব্যবস্থাপনায় এখানে একটি চমৎকার গেস্টহাউস নির্মাণ করা হলেও পর্যটকদের পছন্দ পাহাড়ি ঘরের উপরের অংশে মাচাং বেঁধে গড়ে তোলা গেস্টহাউস।

নব্বইয়ের দশকে পাড়া গঠনের শুরুতে অভাব অনটনে পর্যদুস্ত ছিল সবাই। সে অবস্থা এখন আর নেই।

‘হিমালিকা’ প্রকল্পের সুবিধা পেয়ে ৭টি পরিবার তাদের ঘরের উপরের অংশে কাঠের মাচাং বেঁধে নির্মাণ করেছে ঘরোয়া গেস্টহাউস।

পাড়ার কার্বারি রিয়াল মুন বম। হিমালিকার পরামর্শে তিনি তার বাড়ির সিলিংয়ের উপর পাটাতন বিছিয়ে স্থাপন করেছেন ঘরোয়া পর্যটন।

রিয়াল মুন বম কার্বারিও ইতোমধ্যে নেপালে ঘুরে এসেছেন। এখন সেই অভিজ্ঞতায় সাজিয়ে তুলছেন নিজের কটেজ।

তার রিসোর্টের নাম ‘বগালেক কটেজ অ্যান্ড স্টোর। ’ নিচতলার সামনের অর্ধেকটা জায়গায় নানা পণ্যের পসরা সাজানো। পেছনের অংশে বসবাস।

ছেলে-মেয়েরা নিয়োজিত পড়ালেখায়। স্বামী-স্ত্রী দু’জনে মিলে কটেজ সামলান।

বগালেক পাড়া রিসোর্টে জনপ্রতি ভাড়া দেড় শত টাকা। এর বাইরে দু’বেলা ভাত এবং সকালের নাস্তাসহ ব্যয় হয় আড়াই শ’ টাকা। বান্দরবান থেকে রুমা পর্যন্ত বাস ভাড়া ১১০ টাকা। রুমা থেকে কমলাবাগান পাড়া চাঁদের গাড়ি ভাড়া জনপ্রতি ১০০ টাকা। যেতে আসতে গাড়ি ভাড়া ৪২০ টাকা। রাতে অবস্থান এবং খাওয়া বাবদ চার শ’ টাকা। জনপ্রতি ৮২০ টাকা ব্যয় করলে বগালেক ঘুরে আসা যায়। এই সুযোগটিকেই কাজে লাগাচ্ছেন দেশি-বিদেশি পর্যটকরা। নৈশ কোচে বান্দরবান বাসস্টেশনে নেমে ভোরে ভোরেই অন্য বাসে চেপে দুপুর দেড়টা নাগাদ বগালেক। দিনমান ঘুরে পরদিন সকালের নাস্তা সেরে উল্টো যাত্রা করে বিকেলে পৌঁছা যায় বান্দরবানে। এখান থেকে রাতের বাসে নিজ নিজ গন্তব্যে।

প্রায় দশ একরের বগালেকের স্বচ্ছ জলে গোসল করা এবং পাহাড়ি পথ বেয়ে নিসর্গের কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ার এক নতুন ভুবন এই বগালেক। পর্যটক আগমনের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এখানে গড়ে ওঠেছে বেশ কিছু দোকান-পাট। খাবার সামগ্রী, পাহাড়ে উৎপাদিত নানা মৌসুমি ফল, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত কফি পান এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর হাতে কিংবা কোমর তাঁতে বানানো পরিধেয় সামগ্রীর নানা দোকান। ইচ্ছেমতো কেনাকাটা করেও পুরো দিন কাটিয়ে দেয়া যায়।

বান্দরবান-রুমা-বগালেক ভ্রমণের এই সুযোগ রুমা উপজেলায় পর্যটন কেন্দ্রিক নতুন জীবনধারা গড়ে উঠেছে। দিনদিন বাড়ছে এর ব্যাপ্তি। ফলে ট্যুরিস্ট গাইড পেশা ছাড়াও রেস্টুরেন্ট ব্যবসা, পরিবহন, আবাসন এবং হস্তশিল্প বিক্রির সুযোগ পুরো রুমা উপজেলায় বিকল্প অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এনে দিয়েছে।

পর্যটনের এই বিকল্প জীবিকা জলবায়ুর নেতিবাচক প্রভাবে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীগুলোর শেকড় থেকে উৎপাটিত হবার আশঙ্কাকেও উবিয়ে দিতে পেরেছে।

রুমার ঘরোয়া পর্যটন কেন্দ্রীয় জীবিকা অন্য এলাকাগুলোতেও প্রভাব বিস্তার করতে পারলে পরিবর্তিত পরিবেশে নিজেদের খাপ খাইয়ে নেওয়ার স্বপ্নকেও বাস্তবায়িত করবে।

(দৈনিক কালের কন্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদন,১৩ ডিসেম্বর-২০১৭)

সংবাদটি শেয়ার করুন

Top advertise


এই সংবাদটিতে আপনার মতামত প্রকাশ করুন

avatar
  Subscribe  
Notify of