বান্দরবানের নিন্মাঞ্চল প্লাবিত


বান্দরবান প্রতিনিধি প্রকাশের সময়: জুন 11, 2018

বান্দরবানের নিন্মাঞ্চল প্লাবিত

টানা ভারী বর্ষণে বান্দরবানে নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বেইলী ব্রীজ তলিয়ে যাওয়ায় বান্দরবানের সঙ্গে রাঙামাটির সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অবিরম বর্ষণে বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনাও ঘটেছে। পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী লোকজনদের ঝুকিপূর্ন বসতিগুলো থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে।

প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, গত রোববার ভোররাত থেকে বান্দরবানে টানা ভারী বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। রোববার সকাল নয়টা থেকে সোমবার সকাল নয়টা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় ২০২ মিলি মিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অবিরাম বর্ষণে বান্দরবানে জেলা শহরের আর্মীপাড়া, শেরেবাংলানগর, ইসলামপুর’সহ আশপাশের এলাকা এবং লামা উপজেলায় নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। জেলা শহরের বালাঘাটায় পুলপাড়া বেইলী ব্রীজ খালের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বান্দরবানের সঙ্গে রাঙ্গামাটি জেলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে সাঙ্গু নদীর পানি। সাঙ্গু নদীর তীরবর্তী অসংখ্য ঘরবাড়ি ¯্রােতে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।
মৃত্তিকা পানি সংরক্ষণ কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মাহাবুবুল ইসলাম বলেন, গত ২৪ ঘন্টায় বান্দরবানে ২০২ মিলি মিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এটি এ অঞ্চলে রেকর্ড পরিমাণে সবচেয়ে বেশি। টানা ভারী বর্ষণের ফলে বান্দরবানে পাহাড় ধস এবং বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। ঝুকিপূর্ন বসতিগুলো ছেড়ে লোকজনদের নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান নেয়ার পরামর্শ দিচ্ছি।
এদিকে প্রবল বর্ষণে বান্দরবানের বনরুপা পাড়া, ইসলামপুর’সহ কয়েকটি স্থানে পাহাড় ধসে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী লোকজনদের ঝুকিপূর্ন বসতিগুলো থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে প্রশাসন ও পৌরসভার পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। বনরুপা পাড়ার বাসিন্দার মোহাম্মদ মনির বলেন, পাহাড় ধসে বনরুপায় গতবছর যেখানে শিশু মারা গিয়েছিল, সেখানে সোমবারও পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। আশপাশে আরো কয়েকটি স্থানে পাহাড় ধসে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো: আসলাম হোসেন জানান, পাহাড় ধসের ঝুকিতে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে। বন্যা ও পাহাড় ধসে প্রাণহাণি ঠেকাতে জেলার সাত উপজেলায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। বেইলী ব্রীজ তলিয়ে যাওয়ায় বান্দরবানের সঙ্গে রাঙ্গামাটির সড়ক যোগাযোগ বিচিছন্ন রয়েছে। প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবেলায় প্রস্তুত রয়েছে প্রশাসন। তবে এখনো পর্যন্ত বড় ধরণের কোনো দূর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Top advertise


এই সংবাদটিতে আপনার মতামত প্রকাশ করুন

avatar
  Subscribe  
newest oldest most voted
Notify of
রিগ্যান চাকমা
Guest

যেখানে রাস্তা ঘাটের বেহাল দশা সেখানে বাহাদুর বিশ্ববিদ্যালয় খোলার লাইগা ব্যস্ত ।