বর্ষপূর্তিতে বান্দরবানে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি


বান্দরবান প্রতিনিধি প্রকাশের সময়: ডিসেম্বর 1, 2017

বর্ষপূর্তিতে বান্দরবানে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি

পার্বত্য শান্তি চুক্তির দুই দশকেও পাহাড়ে শান্তি আসেনি। ১৯৯৭ সালের আজকের এদিনে (২ ডিসেম্বর) পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তৎকালীন আওয়ামীলীগ সরকার শান্তি চুক্তি করলেও পার্বত্যাঞ্চলে অস্ত্রের ঝনঝনানি এখনো থামেনি। পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাতিল ও চুক্তি সংশোধনের দাবিতে সমঅধিকার আন্দোলন ও ইউপিডিএফ এবং চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) পাল্টাপাল্টি আন্দোলন আর সংঘাতে আজও উত্তাল পাহাড়ী জনপথ। চুক্তির দুই দশক পূর্তিকে ঘিরে এবারও শনিবার ২ ডিসেম্বর সমঅধিকার আন্দোলন ও জনসংহতি সমিতি বান্দরবান’সহ তিন পার্বত্য জেলায় পাল্টাপাল্টি নানা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। চুক্তির পক্ষে অবস্থানকারী জনসংহতি সমিতি শান্তি চুক্তির ২০ বছর পূতি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি, সমাবেশ এবং চুক্তি বাতিলের দাবীতে সমঅধিকার আন্দোলনসহ বাঙালি সংগঠনগুলো কালো পতাকা উত্তোলন, কালো ব্যাজ ধারণ এবং বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে। জেলা প্রশাসন ও পার্বত্য জেলা পরিষদের উদ্যোগেও দু’দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালা চলছে। এছাড়াও স্থানীয় রাজারমাঠে সেনা রিজিয়নের উদ্যোগে ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

এদিকে পাহাড়ি-বাঙালি দু’পক্ষের দ্বন্দ্বের সুযোগে চাঁদাবাজি, অপহরণ এবং সন্ত্রাসী রাজত্ব কায়েম করে চলেছে অস্ত্রধারীরা। চাঁদাবাজি আর অপহরণ পার্বত্যবাসীর জীবনে নিত্যনৈমত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এদিকে পার্বত্য শান্তি চুক্তি সম্পাদনকারী আওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধীন সরকার শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের কথা বললেও জনসংহতি সমিতির নেতারা এটি মানতে নারাজ। তাদের দাবি, আশার বাণী আর নয়, চুক্তি বাস্তবায়ন দেখতে চাই জনসংহতি সমিতি। এ সরকারের আমলে চুক্তির শতভাগ বাস্তবায়ন হবে, এটি বিশ্বাস করতে পারছে না জেএসএস নেতারা। ফলে পার্বত্যাঞ্চলে বাড়ছে রক্তক্ষয়ী সংঘাত। আর থামছেনা অস্ত্রের ঝনঝনানি। চুক্তি বাস্তবায়নে বাঁধা হয়ে দাড়িয়েছে অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি, চাঁদাবাজি, অপহরণ, হত্যা এবং ঘুমের ঘটনাগুলো দাবী আওয়ামীলীগের।

ভূমি সমস্যার সমাধান ছাড়া শান্তি চুক্তির বাস্তবায়ন কোনোদিনও সম্ভব নয়। পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ফিরিয়ে আনতে ভূমি সমস্যা সমাধানে গঠিত ভূমি কমিশনকে কার্যকরের দাবী জানিয়েছেন জেএসএস নেতারা। এদিকে আওয়ামীলীগ নেতা মংপ্রু মারমাকে অপহরণের পর হত্যার ঘটনা নিয়ে বান্দরবানে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন জনসংহতি সমিতি ও আওয়ামীলীগ চুক্তির পক্ষে অবস্থানকারী সংগঠন দুটির নেতারা। পাহাড়ে অস্ত্রের ঝনঝনানি, চাঁদাবাজি, অপহরণ, হত্যা এবং ঘুমের ঘটনাগুলো চুক্তি বাস্তবায়নের প্রধান অন্তরায় হিসেবে দেখছে আওয়ামীলীগ।

পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান সন্তু লারমা’সহ জেএসএস নেতাদের দাবি জুম্ম জনগণ ও পার্বত্যাঞ্চলের স্থানীয় অধিবাসীদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলন করছি এবং শান্তি চুক্তি সম্পাদন করেছি। কিন্তু সরকার ভূমি বিরোধ নিস্পত্তির মাধ্যমে পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের কথা বললেও ভূমি কমিশনকে কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় জনবল এবং অবকাঠামোগত সুযোগ সুবিধাগুলো নিশ্চিত করেনি। শান্তি চুক্তির ধারা অনুযায়ী জেএসএস সকল শর্ত পূরণ করলেও সরকার করেনি, সরকারের উচিত শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন করা।

জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কে.এস.মং মারমা বলেন, শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নে সরকারের সদিচ্ছার অভাব রয়েছে। বর্তমান সরকারের আমলে শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন হবে, এমনি আমরা মনে করতে পারছি না। তারপরও সরকারের উপরে আমাদের আস্থা রাখতে চাই।

অপরদিকে শান্তি চুক্তি বাতিল, পাহাড়ি-বাঙালি সমান অধিকার নিশ্চিত এবং ভূমি জটিলতা নিরসন ছাড়া পার্বত্যাঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয় বলে দাবি করেছে সমঅধিকার আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। এছাড়াও তিন পার্বত্য জেলায় শান্তি ফিরিয়ে আনতে শান্তি চুক্তির মৌলিক ধারাগুলোর সংশোধন জরুরি বলে দাবি করেছে পার্বত্য চুক্তি বিরোধী সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস্ ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)।

পার্বত্য নাগরিক পরিষদ বান্দরবানের আহবায়ক আতিকুর রহমান বলেন, পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পার্বত্য শান্তি চুক্তি করা হলেও পাহাড়ে শান্তি আসেনি। চুক্তির লক্ষ্য উদ্দেশ্যেগুলো বাস্তবায়িত হয়নি, পার্বত্যাঞ্চলে অস্ত্রের ঝনঝনানি এখনো থামেনি। চুক্তির মৌলিক অনেকগুলো ধারা বাস্তবায়নের পরও পাহাড়ে চাঁদাবাজি, অপহরণ এবং সন্ত্রাসী রাজত্ব কায়েম করে চলেছে অস্ত্রধারীরা।

বান্দরবান জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও জেলা সন্ত্রাস প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক একেএম জাহাঙ্গীর বলেন, ১৯৯৭ সালে দেশের অভ্যন্তরিণ সমস্যা দেশের মাটিতে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শান্তি চুক্তি সম্পাদন করেছিল। চুক্তির ৭২টি ধারার মধ্যে সিংহভাগ বাস্তবায়িত হয়েছে। ৪৮টি শতভাগ এবং ১৫টি ধারা আংশিক বাস্তবান করেছে সরকার। চুক্তির বাকি ৯টি ধারা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াও চলমান। চুক্তির বাস্তবায়নের পথে এগুচ্ছে সরকার।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Top advertise


এই সংবাদটিতে আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Notify of
avatar
Sort by:   newest | oldest | most voted
Mostu Marma
Guest

সেনাবাহিনী করেছে চুক্তি বাস্তবায়ন।

wpDiscuz