প্রধানমন্ত্রীর অবদান মনে রাখলোনা রাবিপ্রবি !


প্রকাশের সময়: জুলাই 25, 2017

প্রধানমন্ত্রীর অবদান মনে রাখলোনা রাবিপ্রবি !

যে প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক প্রচেষ্টায় যাত্রা শুরু করেছে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়,‘রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়’, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম প্রকাশনাতেই সেই প্রধানমন্ত্রীকেই যেনো ভুলে বসে আছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রথম প্রকাশনা ‘গিরিলহর’-র কোথাও উল্লেখ করা হয়নি প্রধানমন্ত্রীর অবদান !

২০১৩ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক ভিত উন্মোচন করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পাহাড়ের আঞ্চলিক দলগুলোর প্রবল বিরোধীতাকে উপেক্ষা করে রাঙামাটিবাসির দল মত নির্বিশেষে ব্যাপক আন্দোলনের মুখে ২০১৫ সালের ৯ নভেম্বর শুরু হয় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণী কার্যক্রম। কিন্তু দীর্ঘ তিন বছরেও নিজস্ব ক্যাম্পাসে যেতে না পারা বিশ্ববিদ্যালয়টির কার্যক্রম চলছে শহরের শাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের দুটি শ্রেণীকক্ষে।

মঙ্গলবার সকালে শাহ উচ্চ বিদ্যালয় মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় ব্যাচের নবীন বরণ ও প্রকাশনা ‘গিরিলহর’ এর প্রকাশনা অনুষ্ঠান হয়,যাতে প্রধান অতিথি ছিলেন ভিসি ড. প্রদানেন্দু বিকাশ চাকমা।

এই অনুষ্ঠানে প্রকাশিত হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম এই প্রকাশনাটি শিক্ষার্থীদের মাঝে বিলি করা হয়। এরপরই ব্যাপকভাবে সমালোচনা শুরু হয়।

শিক্ষার্থীরা অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত আগ্রহ ও প্রচেষ্টার কারণেই এই বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম এই প্রকাশনার কোথাও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অবদানের কথা নেই। সেই এনিয়ে কোন লেখা। এমনকি ভিসি ড. প্রদানেন্দু বিকাশ চাকমা, প্রক্টর ও শিক্ষক পরিষদের সভাপতি জুয়েল শিকদার,ও সাময়ীকিটির আহ্বায়ক প্রভাষক নিশু নাথ এর শুভেচ্ছা বাণী’র কোথাও একবারের জন্যও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কথা উল্লেখ নেই। শুধুমাত্র সম্পাদক এম কামরুল ইসলাম শারেক একবাক্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রচেষ্টা শব্দটি ব্যবহার করেছেন।

অথচ বিশ্ববিদ্যালয়টির ভিসি,কর্মকর্তা বা শিক্ষার্থীরা প্রধানমন্ত্রীর অবদানের কথা ভুলে গেলেও ঠিকই মনে রেখেছেন পার্বত্য সচিব ও মুক্তিযোদ্ধা নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা। তিনি তার বাণীতে বলেন ‘‘একবিংশ শতকে এসে বর্তমান সরকারের একান্ত প্রচেষ্টায় বিশেষত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বদান্যতায় এই অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নামের একটি উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।’

পার্বত্য সচিব মনে রাখলেও ভিসি,প্রক্টর ও শিক্ষকদের মনেই পড়েনি প্রধানমন্ত্রীর কথা। এমনকি পুরো প্রকাশনার ৬৪ পৃষ্ঠায় বিশ্ববিদ্যালয়টির নানান কার্যক্রমের সচিত্র বিবরণ থাকলেও প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক উদ্বোধনের কোন চিত্র,তথ্য এবং বিশ^বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার কোন প্রেক্ষিত নেই কোথাও।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র শামসুজ্জামান বাপ্পী বলেন, এই বিশ^বিদ্যালয় আমাদের প্রিয় প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের বিশ^বিদ্যালয়,তাঁর ব্যক্তিগত প্রচেষ্টার কারণেই এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম প্রকাশনায় প্রধানমন্ত্রীর অবদানের বিষয়টির কোন উল্লেখ না থাকায় ছাত্র হিসেবে আমিও লজ্জিত।’

এনিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আরো অসংখ্য শিক্ষার্থী। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভয়ে নাম প্রকাশ করতে চাননি তারা। কারণ ইতোমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনিয়মের প্রতিবাদ করায় হল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক কার্যক্রম থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন এক শিক্ষার্থী। শোকজ করা হয়েছে আরো ছয়জন শিক্ষার্থীকে।

তবে নিজেদের দায় এড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপ রেজিস্ট্রার অঞ্জন কুমার চাকমা বলেন, ‘এটি ছাত্রদের নিজস্ব প্রকাশনা, এর সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পর্ক নেই।’ ‘ভিসির বক্তব্যে কেনো আসেনি প্রধানমন্ত্রীর প্রসঙ্গ’-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ছাত্ররা বাণী লিখে নিয়ে এসেছে,ভিসি হয়তো না দেখেই সাক্ষর করে দিয়েছে’। তবে উপ-রেজিষ্ট্রার নিজেদের দায় অস্বীকার করলেও এই প্রকাশনার সম্পাদনা পর্ষদের আহ্বায়ক হিসেবে আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক নিশু নাথ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Top advertise


এই সংবাদটিতে আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Notify of
avatar
wpDiscuz