পুনবার্সন চান ক্ষতিগ্রস্তরা


জিয়াউল জিয়া, প্রকাশের সময়: সেপ্টেম্বর 23, 2017

পুনবার্সন চান ক্ষতিগ্রস্তরা

‘কি লাভ হলো এতো দিন আশ্রয় কেন্দ্রে রেখে? গত ৭ সেপ্টেম্বর জেলা প্রসাশন থেকে ৩০ কেজি চাউল আর ১ হাজার টাকা দিয়ে বিদায় করে দিল। সরকার আমাদের ধোকা দিল। গত তিন মাস আশ্রয় কেন্দ্র থেকে ভাংগা ঘরে ফিরে এভাবেই কষ্টের কথাগুলো বলছিলেন ভেদভেদী রেডিও এস্টেশন এলাকার আনোয়ারা বেগম।

আনোয়ারা বেগম বলেন, ‘চার মেয়ে এক ছেলে নিয়ে আশ্রয় কেন্দ্র ছিলাম। ‘স্বামী অসুস্থ ঘরে পড়ে আছে। তিনি কোন কাজ করতে পারেন না। গত ২০ সেপ্টেম্বর ইউএনডিপির আমাদের ৫ হাজার টাকা দিছে। এই দিয়ে কোন মতে ভাংগা ঘরে আছি। আশ্রয় কেন্দ্রে যখন ছিলাম তখন আমাদের সবাইকে বললো তোমাদের পুনর্বাসন করবো আশা দিয়ে, পরে কিছু দিয়ে বের করে দিব। ভাড়া ঘর থাকলে ৪/৫ হাজার টাকা লাগে। সেই টাকাও নাই। আমাদের আর কোন জায়গা নাই তাই এখানে থাকি। তিনি আরো বলেন, বৃষ্টি হলে ভয় করে। এখানে থাকতে মন চায় না কিন্তু সরকারি পুনর্বাসনের আশায় ছিলাম। সেই আশা ছেড়ে দিছি। ভাঙ্গা ঘরে খাওয়া দাওয়া আর ঘুম একসাথেই’।

প্রসঙ্গত, গত ১৩ জুন প্রবল বর্ষাণে ভয়াভহ পাহাড় ধ্বসে ৫ সেনা সদস্য সহ মোট ১২০ জনের প্রাণহাণির ঘটনা ঘটে। প্রায় ১২ শত পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইউএনডিপি থেকে গত ২০ সেপ্টম্বর সম্পূর্ণ ২৫৪ পরিবার ক্ষতিগ্রস্তের মাঝে ১৫ হাজার ২০০ টাকা এবং আংশিক ৬১৯ পরিবার ক্ষতিগ্রস্তের ৫ হাজার টাকা করে সর্বমোট ৮ শত ৭৩ জন। এর আগে গত ৫ সেপ্টম্বর জেলা প্রশাসন হতে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্তদের ২ বান্ডেল টিন ও ৬ হাজার টাকা এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্তদের ৩০ কেজি চাউল ও ১ হাজার টাকা করে দেয়া হয়।

ভেদভেদী রেডিও এস্টেশন এলাকার আরো দুই বোন রেজিয়া বেগম ও নিলুফারা আক্তার। তারা দুই বোন একই সাথে পাশাপাশি দুটি ঘরে থাকতেন। তাদের কথায় ভাগ্যের জোরই বেঁচে আছেন তারা। পাশের বাড়িতে মাটি পাড়ায় তাদের সাহয্যের জন্য ঐ বাড়ি ছিলেন। পরে এসে দেখেন তাদেরও বাড়িটি মাটি পড়ে ধংস হয়ে গেছে।

নিলুফারা আক্তার বলেন, ‘আমাদের জায়গাটির রাজ্জাক নামের একজনের কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকায় কিনেছিলাম রাজ্জাক সাহেব কবির সওদাগর নামে একজন থেকে কিনেছে বলে শুনেছি। পরে জায়গার মূল মালিক আমাদের উচ্ছেদ করার হুমকি দিলে অনুরোধ চাকমার কাছ থেকে ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকায় বন্দোবস্তি করি’।

তিনি আরো বলেন, ‘বলার মতো কোন ভাষা নেই। সরকার ২ বান টিন আর ৬ হাজার টাকা দিছে। ৬ হাজার টাকা দিয়ে কি ঘর বানানো যায়। লেবার কই, ঘরের খুটি কই কিভাবে? কি দিয়ে ঘর বানাবো। আশ্রয় কেন্দ্র থেকে আসার পর প্রতিবেশির ঘরে ছিলাম কয়েক দিন। এভাবে কয়দিন থাকা যায় তাই ছোট্ট করে মাথা গোজার জন্য এই ঘরটি বানিয়ে গত কয়েকদিন হলো থাকি এখানে। ব্র্যাক অথবা আশা সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে আস্তে আস্তে ঘরটা তৈরি করবো সেভাবে চিন্তা করছি কিন্তু আবার ভয়ও করে একটু বেশি বৃষ্টি হলে। সরকার যদি আমাদের অন্য কোন নিরাপদ জায়গায় পুনর্বাসন করতো আমাদের সুবিধা হতো’।

গত ২০ সেপ্টম্বর ইউএনডিপি থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু বলেছিলেন, এমনভাবে আর ঘরবাড়ি বানাবেন না, যাতে আবার অতি বৃষ্টিতে আপনাদের জীবন ঝুকিতে পড়ে। পাহাড় ধ্বসের পর বন্যা আর রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে সরকার ব্যস্ত আছেন। আশা করছি খুব শীঘ্রই সরকার আপনাদের পুনর্বাসন করবেন।

একই অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান বলেন, আমরা জানতে পেরেছি আপনারা অনেকেই আমাদের দেয়া টিন দিয়ে অনেকেই আবাও ঝুকিপূর্ণ এলাকায় বাড়ি তৈরি করছেন। আমরা আশা করবো আপনি আপনার নিরাপত্তার জন্য ঝুকিপূর্ণ এলাকায় আর বসতঘর নির্মান করবেন না।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Top advertise


এই সংবাদটিতে আপনার মতামত প্রকাশ করুন

avatar
  Subscribe  
newest oldest most voted
Notify of
Littlebirddhaka Dhaka
Guest

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে পরিকল্পিত আবাসন ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করুন ।