নীড় পাতা / ব্রেকিং / পাহাড় ধসের সড়ক মেরামতের নামে ‘নয় ছয়’

পাহাড় ধসের সড়ক মেরামতের নামে ‘নয় ছয়’

পাহাড়ধসের পর জোড়াতালি দিয়ে চালু রাখা হয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। রাঙমাটি-চট্টগ্রাম সড়কের দূরত্ব ৭৪ কিলোমিটার। এই সড়কের ৬০টি স্থানে পাহাড়ধস হয়ে সড়কের ওপর মাটি পড়ে। ২০টির বেশি জায়গায় বড় বড় ফাটল ধরে। দুটি স্থানে সড়কের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গিয়েছিল। ধসের পর বড় বড় ফাটলের অংশে খুঁটি দিয়ে সড়ক ধরে রাখার চেষ্টা করা হয়। ৮দিন পর হালকা যান চলাচলের ব্যবস্থা করা হলেও তা প্রায় ২ মাস পার ভারী যান চলাচল শুরু হয়। আসন্ন বর্ষায় প্রাণহানির পাশাপশি রাস্তাঘাট এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা নতুন করে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা ও পরিবহন ব্যবসার সাথে জড়িত নেতারা।

নেতারা বলছেন, গত বছর পাহাড় ধসের পর যে কাজ হয়েছে তা সাময়িক কিন্তু স্থায়ীভাবে কাজ না করলে এই বর্ষায় আবারো যদি পাহাড় ধস হয় তাহলে সেই ক্ষতি পুষিয়ে উঠা কঠিন হবে। পাহাড় ধসের ১ বছরেও ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট এবং স্থাপনা পুরোপুরি মেরামত করা হয়নি। আমরা দেখি এখানে কাজের সমন্বয়ের অভাব হয়েছে। সড়ক বিভাগ সব সময় নিজের মত কাজ করে। আশার কথা শোনালেন রাঙামাটি সড়ক বিভাগের দায়িত্বরত নির্বাহী প্রকৌশলী এমদাদ হোসেন। তিনি বলেন, স্থায়ীভাবে রাস্তাগুলো টেকসই করার জন্য আগমী সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে কাজ শুরু করা যাবে।

রাঙমাটি সড়ক বিভাগের দায়িত্বরত নির্বাহী প্রকৌশলী এমদাদ হোসেন জানান, সড়ক বিভাগের ৭টি সড়ক অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ৭টি সড়কের ১৪৫টি স্থানে পাহাড় ধস হয়, ৩টি স্থানে রাস্তা একাবারে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, ১১৩ টি স্থানে সড়কের পাশের অংশ ভেঙ্গে পড়ে এর কারনে ভারী যারচলাচনের জন্য অনুপযোগি হয়ে পড়েছিল। তার জন্য অস্থায়ী রক্ষা কাজ শুরু করি। এর জন্য ব্যয় হয়েছে ১৪ কোটি টাকা।

স্থায়ী রক্ষাপদ কাজ আমরা শুরু করেছি। তার জন্য সড়ক বিভাগের বিশেষজ্ঞগ টিম এসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন শেষে তারা আমাদের একটি নকশা দিয়েছেন এ বছরের জানুয়ারি মাসে। আমরা এপ্রিলে তা মন্ত্রণালয়ে তা পাঠিয়ে দিই। তা যাচাই বাছাই শেষে মে মাসের শেষ দিকে আভ্যন্তরিণ যাচাই কমিটির সভার সিন্ধান্ত অনুযায়ী জুলাই এর মাঝামাঝি সময়ে এটি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন হলে আগামী শুষ্ক মৌসুমে আমরা কাজ শুরু করতে পারবো। তখন আমাদের সব সড়কগুলো ঝুঁকিমুক্ত করা যাবে। প্রকল্পে আমরা সড়ক বিভাবের ক্ষতিগ্রস্ত ৬টি রাস্তার মোট ১২৮টি স্থানে ৪ হাজার ৭২৫ মিটার রিটেনিং ওয়াল করার পরিকল্পনা আছে এটির ২০১৫ সালের রেট শিডিউল অনুসারে সড়ক বিভাগের আওতার এর মূল্য দাঁড়িয়েছে ১শত ৭০০ কোটি টাকা। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০১৮ রেট সিডিউল আনুসারে আর কিছু বেড়ে এর মূল্য হবে দুইশত কোটি টাকা।

রাঙামাটি লঞ্চ ও বাস মালিক সমিতির সভাপতি মাঈন উদ্দিন সেলিম বলেন, ‘দীর্ঘ এক বছর পর রাস্তার যা কাজ হয়েছে তা স্থায়ী কোন কাজ হয়নি। গত বছরের মত যতি বর্ষা হয় তাহলে এই রাস্তা টিকবে না। আমরা সরকারের কাছে দাবি করবো যাতে এটি স্থায়ীভাবে রাস্তাটি রক্ষার ব্যবস্থা করে। আমরা দেখি এখানে কাজের সমন্বয়ের অভাব হয়েছে। সড়ক বিভাগ সব সময় নিজের মত কাজ করে। আমরা মনে করি জেলা প্রশাসনসহ অন্যান্য বিভাগের সাথে সমন্বয়ে কাজ করলে কাজটি আরো সহজভাবে করা যেত। সড়ক বিভাগ এত কোটি টাকার কাজ যে করলো তার কোন স্থায়ী কোন কাজ না। গত বছরের মতো এবার যদি বর্ষা হয় তাহলে আবারো রাঙামাটিতে ভয়াবহ অবস্থা হবে।

প্রসঙ্গত, গেলো বছর প্রবল বর্ষণে ব্যাপক পাহাড় ধসে রাঙামাটিতেই ২ সেনা কর্মাকর্তাসহ ৪ সেনা সদস্য সহ ১২০ জন নিহত হন। এতে আহত হয় দুই শতাধিক মানুষ। ব্যাপক ক্ষতি হয় পুরো জেলায়। তিন মাস আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছিল প্রায় তিন হাজার মানুষ।

আরো দেখুন

পাহাড়ে রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিতে স্কুল শিক্ষার্থীদের ব্যবহার না করার আহ্বান

‘পাহাড়ে আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের সংঘাতপূর্ণ অবস্থার কারণে একের পর এক হত্যার ঘটনা ঘটছে। প্রতিদিনই পড়ছে …

One comment

  1. পুরাতন কাহিনী। নতুন কিছু থাকলে সেটা দেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

twelve + 15 =