নীড় পাতা / ব্রেকিং / পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে রাঙামাটির ১৫ হাজার মানুষ

পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে রাঙামাটির ১৫ হাজার মানুষ

রাঙামাটিতে গত শুক্রবার থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হলেও রোববার বিকাল থেকে ভারী বর্ষণ শুরু হয়। টানা ভারী বর্ষণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে জনজীবন। ভারি বর্ষণের ফলে আবারও পাহাড় ধসের আশংকা দেখা দেওয়ায় জেলা প্রশাসন পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরত লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দেন। প্রশাসনের এই নির্দেশ অমান্য করে এখনো পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন স্থানে ঝুঁকিতে বসবাস করছে সাধারণ মানুষ। রাঙামাটিতে ৩,৩৭৮ পরিবারের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়।

এদিকে রোববার দুপুরে শহরের উন্নয়ন বোর্ড এলাকায় দেয়াল ধস পড়ে। রাত গভীর হওয়ার সাথে সাথে ভারী বর্ষণে শহরর চম্পকনগর, শিমুলতলি, ভেদভেদী ও কলেজ গেইট এলাকায় বেশ কয়েক স্থানে পাহাড় ধসে পড়ার সংবাদ পাওয়া যায়। অপরদিকে ঘাগড়ার শালবন এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি রাস্তায় ওপর পড়লে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়ক যোগাযোগ দীর্ঘ দুই ঘন্টা বন্ধ রাখা হয়ে। এছাড়া ঘাগড়ায় লোকবসতিতে পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। তবে বিভিন্ন স্থানে সংবাদ নিয়ে দেখা গেছে এসব ঘটনায় কোন কেউ হতাহত হয়নি।

রাঙামাটির আবহাওয়ার পরিস্থিতি দেখে জেলা প্রশাসন রোববার সকাল থেকে লোকজনদেরকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করে যাচ্ছে।

এছাড়া রাঙামাটির জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশিদ সোমবার মধ্য রাতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে সকলকে সরে যাওয়ার আহ্বান করেন। ইতিমধ্যে ২১টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। রোববার রাতে ঝুঁকিপূর্ণ অনেকে আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিলেও অনেকে এখনো বাস করছে পাহাড়ের পাদদেশে।

রাঙামাটির জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশিদ বলেন, ‘আমাদের সকল ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রচুর বৃষ্টিপাত হচ্ছে যে কোন সময় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটতে পারে তাই সকলকে দ্রুততম সময়ের মধ্য নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্যে আহ্বান করছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা চাই না গত বছরের মত এবারও মানুষের জান-মালের ক্ষয়ক্ষতি না হোক। সবাই নিজের জীবন বাঁচাতে নিরাপদ স্থানে চলে যাবে এটা আমাদের প্রত্যশা।’

তবুও দেখা গিয়েছে রাঙামাটির ভেদভেদী, উত্তর-দক্ষিণ মুসলিম পাড়া, সনাতন পাড়া, শিমুলতলী, রুপনগর, নতুন পাড়া, মনতলা, হাজংতলা, কলেজ গেইট, আমানত বাগ, মন্ত্রী পাড়া সহ আরো বেশ কিছু স্থানে এখনো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাস করছে সাধারণ মানুষ। প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলেও অনেকে মানছেন না প্রশাসনের এ নির্দেশ।

সনাতন পাড়ার বাসিন্দা রতন কান্তি ঘোষ বলেন, বৃষ্টি হলে সবার মনে ভয় কাজ করে। গত বছর নিজের চোখে যা দেখলাম এখনো তা ভুলতে পারিনি। ভগবান জানে এবছর কি হয়। স্ত্রী, সন্তান, সন্তানের বউ, নাতিদেরকে নিয়ে ভয়ে দিন কাটাচ্ছি। ভগবানের কাছে প্রার্থনা করছি আর যেনো এমন বৃষ্টি ও পাহাড় ধস না হয়। তবে নিরাপদ স্থান বলতে যে আশ্রয় কেন্দ্র ঠিক করা হয়েছে সেখানে যাবো না। দেখি ভগবানে কপালে কি রাখছে।

নতুন পাড়ার বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, আবারো যে বৃষ্টি শুরু হয়েছে এতে সকলের মনে ভয় বিরাজ করছে। ভোর রাতে যখন বৃষ্টি পরছিলো তখন থেকে আর চোখে ঘুম আসেনি। তবুও ভয় নিয়ে বাস করতে হচ্ছে। কোথায় যাবো, নিজের ভিটা-মাটি ছেড়ে কেউ কি যেতে চাই।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ১৩ জুন রাঙামাটিতে পাহাড় ধস দুর্ঘটনায় সেনা সদস্য সহ ১২০ জন মারা যায় এবং জেলা জুড়ে ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

আরো দেখুন

পাহাড়ে রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিতে স্কুল শিক্ষার্থীদের ব্যবহার না করার আহ্বান

‘পাহাড়ে আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের সংঘাতপূর্ণ অবস্থার কারণে একের পর এক হত্যার ঘটনা ঘটছে। প্রতিদিনই পড়ছে …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

one × three =