নীড় পাতা / ব্রেকিং / ‘পাহাড় ধসের ক্ষয়ক্ষতি কমানোর জন্যে আমাদের প্রস্তুত হতে হবে’

‘পাহাড় ধসের ক্ষয়ক্ষতি কমানোর জন্যে আমাদের প্রস্তুত হতে হবে’

২০১৭ সালের ১৩ জুন রাঙামাটিতে যে পাহাড় ধস হয়েছিলো এতে করে বহু প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পাহাড় ধস হবেই, এটা প্রাকৃতিক সৃষ্ট দুর্যোগ, আবার কিছু আমাদেরও দোষ রয়েছে। আমাদের অবহেলা ও ভুলের জন্যেও পাহাড় ধস হয়। সামনে বর্ষায় যদি পাহাড় ধস হয় তখন যেনো বেশি কিছু ক্ষয়ক্ষতি হতে না পারে সেজন্যে আমাদেরকে এখন থেকে প্রস্তুত হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন রাঙামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ। শনিবার সকালে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন’র আয়োজনে ‘জানবে বিশ^ জানবে দেশ দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রস্তুত বাংলাদেশ’ এ শ্লোগানকে সামনে রেখে ‘জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস’ উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এছাড়া আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নুরুল আমিন সিদ্দিকী, সাবেক পৌরসভার চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, ফায়ার বিগ্রেড ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক দিদারুল আলম, রাঙামাটি প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাখাওয়াৎ হোসেন রুবেল, স্কাউটসের সম্পাদক নুরুল আবছার প্রমূখ।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ বলেন, রাঙামাটিতে যে স্থানগুলোতে দুর্যোগ হয়েছিলো সে সকল স্থান চিহ্নিত করে এগুলোতে জনসচেতনতার জন্যে বিভিন্ন জনসচেতন মূলক কর্মকান্ড করতে হবে। সেসকল স্থানে প্রয়োজনক্রমে দুর্যোগ মোকাবেলা প্রস্তুতি কমিটি করতে হবে। দুর্যোগের পূর্বে সাড়া দেওয়ার জন্যে কমিটির মাধ্যমে এলাকাগুলোকে সর্তক করে রাখতে হবে। তিনি আরো বলেন, রাঙামাটি ফায়ার বিগ্রেডকে আরো উন্নত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এছাড়া পাহাড় কাটা ও অবৈধ স্থাপনা না করার প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার জন্যে রাঙামাটির সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দদেরকে আহ্বান জানান এবং প্রয়োজনে যে কোন তথ্য জেলা প্রশাসনকে জানানো জন্যেও আহ্বান করেন তিনি।

পরিকল্পিত দুর্যোগ মোকাবেলার মডেল করার প্রতি জোর দেবেন এমন মন্তব্য করে জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ আরো বলেন, দুর্যোগ মোকাবেলার জন্যে একটি পরিকল্পিত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ পরিকল্পনাটি দেশের অন্য জেলা গুলোর জন্যে মডেল হয়ে থাকবে বলে জানান তিনি। বক্তাদের এক প্রস্তাবের ভিত্তিতে রাঙামাটিতে যে কোন দুর্যোগ মোকাবেলায় নগর স্বেচ্ছাসেবক গঠন করা হবে বলেও জানান জেলা প্রশাসক। জেলা প্রশাসক আরো বলেন, কাপ্তাই হ্রদ হচ্ছে রাঙামাটির প্রাণ, এটাকে বাঁচাতে আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করতে হবে। হ্রদে ঝুলন্ত টয়লেট থাকলে তা উচ্ছেদ করতে হবে এবং পরিবেশ সম্মত টয়লেট তৈরি করতে হবে।

এর আগে দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস উপলক্ষে রাঙামাটি পৌরসভা থেকে একটি র‌্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। র‌্যালিতে বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থী, যুব রেড ক্রিসেন্ট সদস্য, রোভার স্কাউট সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লোক অংশগ্রহণ করেন।

আরো দেখুন

রাঙামাটি শহরে আওয়ামীলীগ-বিএনপি সংঘর্ষে আহত ৮

পার্বত্য শহর রাঙামাটিতে নির্বাচনী পথসভাকে কেন্দ্র করে আওয়ামীলীগ ও বিএনপির কর্মীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

twenty − fifteen =