পাহাড়ে মেধার ঝিলিক রবিন মারমা’র


সাইফুল বিন হাসান প্রকাশের সময়: মে 12, 2018

পাহাড়ে মেধার ঝিলিক রবিন মারমা’র

রাঙামাটি শহর থেকে অনেকটা দূরে দুর্গম পাহাড়ের ঝগড়াবিল’র খেপ্পাপাড়া এলাকার বাসিন্দা মৃত মংচাথই মারমার ছোট ছেলে রবিন মারমা। রবিনের চার বছর বয়সে তার বাবা মংচাথই মারমা মারা যান।

বাবা মারা যাওয়ার পর রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলায় প্রাইমারি স্কুল থেকে পঞ্চম শ্রেণি পাশ করেন সে। প্রতিটি ক্লাসেই প্রথম স্থানে ছিলেন এই শিক্ষার্থী। বাবার মৃত্যুর পর মা শুক্রা মারমা ছেলেকে পড়ালেখা করিয়েছেন। দুই ভাইয়ের মধ্যে রবিন ছোট। বড় ভাই চট্টগ্রাম শহরের প্রাইভেট কার চালক হিসেবে কাজ করেন। মা বাড়িতে হাঁস, মুরগিসহ নানান গবাদি পশু লালন-পালন করে ছেলের পড়ালেখার খরচ যোগাতেন।

পঞ্চম শ্রেণি পাশ করার পরে রবিন ভর্তি হয় রাঙামাটি শহরের তবলছড়ি এলাকার শাহ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা খেপ্পাপাড়া থেকে পায়ে হেঁটে স্কুলে যাতাযাত করতো রবিন। রোজ প্রায় ঘন্টাখানেক পায়ে হেঁটে দুর্গম ঝগড়াবিলের খেপ্পাপাড়া থেকে শহরের তবলছড়ি এলাকার স্কুলে আসতে হতো তাকে। যাওয়ার সময়ও ঠিক একই ভাবে পায়ে হেঁটে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা পেরিয়ে বাড়ি যেতে হতো রবিনকে। দুর্গম পাহাড় পাড়ি দিয়ে শিক্ষা লাভের প্রত্যয়ে আসা এ রবিন আজ জীবনের প্রথম ধাপ সফলতার সাথে পার করেছে।

অষ্টম শ্রেণির জেএসসি পরীক্ষায় মেধার সাথে জিপিএ-৫ অর্জন এবং গত ৬ মে এসএসসি ফলাফলেও জিপিএ-৫ পেয়েছে রবিন। পাহাড়ের দুর্গম এলাকার এ রবিন জীবনের প্রথম সফলতা অর্জন করে আজ আনন্দে আত্মহারা। সে একজন আর্দশ শিক্ষক হয়ে পাহাড়ের দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীদেরকে মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে চায়।

রবিন বলেন, আমি দুর্গম এলাকার একজন শিক্ষার্থী, রোজই পায়ে হেঁটে স্কুলে যাতায়াত করতাম। বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে মা আমাকে পড়ালেখা করিয়েছে। অষ্টম শ্রেণিতে বৃত্তি পাওয়ার ফলেও আমার পড়ালেখা করতে অনেকটা সুবিধা হয়। আমার এই সফলতার পিছনে আমার মা, শিক্ষকসহ সকল শুভাকাক্সিক্ষদের অবদান রয়েছে।

রবিনের জীবনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে সে বলে, দুর্গম পাহাড়ে দক্ষ শিক্ষক নেই। এমন কি আমি যে শহরে এত কষ্ট করে গিয়ে পড়ালেখা করি সেখানেও শিক্ষকদের সংকট রয়েছে। তাই আমার ইচ্ছে একজন শিক্ষক হয়ে মহান এ পেশাকে ধরে রাখা।

রবিনের মা শুক্রা মারমা ছেলের এমন সফলতার জন্য আনন্দে আত্মহারা হয়ে বলেন, ‘আমি কখনো কল্পনা করিনি আমার ছেলেটা এত ভালো করবে। অনেক কষ্ট করে হাঁস, মুরগি পালন করে আমি ছেলেকে পড়ালেখা করিয়েছি। আজ আমার ছেলে এসএসসি পাশ করছি আমি এখন অনেক খুশি। আশির্বাদ করি সে যেনো অনেক বড় কিছু হয়।’

শাহ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুজিবুর রহমান বলেন, ‘ছেলেটা অনেক ভালো। শিক্ষার্থী হিসেবেও সে অনেক মেধাবি। আমরা আশা করি সে অনেক দূর এগিয়ে যাবে। তার সফলতা কামনা করি এবং তার পাশে আমরা শিক্ষকরা সব সময় আছি।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

Top advertise


এই সংবাদটিতে আপনার মতামত প্রকাশ করুন

avatar
  Subscribe  
Notify of