নীড় পাতা / পাহাড়ের রাজনীতি / পাহাড়ি গ্রামে আতংক, আত্মগোপনে নেতারা!

পাহাড়ি গ্রামে আতংক, আত্মগোপনে নেতারা!

মাসের মাথায় অন্তত ১০ জনকে খুনের ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে পাহাড়ি জনপদে। শক্তিমান চাকমা ও তপন জ্যোতি চাকমা বর্মাদের হত্যার মাসের মাথায় বাঘাইছড়ির সাজেকের করল্যাছড়িতে বোরবার ঘটে আরো ট্রিপল মার্ডারের ঘটনা। শক্তিমান ও বর্মাদের হত্যার ঘটনাটি যদিও সড়তপথে ও উপজেলা পরিষদের সামনেই ঘটেছে। কিন্তু এ ট্রিপল মার্ডারের হত্যাকান্ডটি ঘটে একেবারে দুর্গম জঙ্গলে। এতে করে আঞ্চলিক দলগুলোর মধ্যে এখন এক ধরণের উদ্বেগ কাজ করছে।

ট্রিপল মার্ডারের পর আঞ্চলিক দলের নেতাকর্মীরা এখন আতঙ্কে জীবন শঙ্কায়ও ভূগছে। ঘরে বাইরে কেবল নয়। দুর্গম পাহাড় এলাকা কিংবা জঙ্গলেও কেউ নিরাপদ নয় আজ। আর একে তারা বলছেন টার্গেট কিলিং। এ টার্গেট কিলিংয়ে প্রাণ ঝরছে প্রতিনিয়ত পাহাড়ে।

পাহাড়ের এ ধরণের হত্যার ঘটনার মুখ খোলেন না জনপ্রতিনিধি কিংবা কোনও পাহাড়ি লোকজন। এমনকি সাংবাদিকদেরও তারা কিছুই বলতে চান না জীবনের শঙ্কায়। ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায়ও ঘটেছে একই চিত্র। মুখ খুলছেন না কোনও পাহাড়ি।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এমন কয়েকজনের তথ্য মতে, ওই দিন হত্যার সময় খুনিরা ছিলো ৬-৮ জন। তারা খুনের ঘটনায় সফল হওয়ায় উল্লাস করতে করতে চলে গেছে। ওই সময় স্থানীয় একবাজারে গিয়ে তারা কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলিও ছুঁড়ে।

অথচ গত ছয়মাস আগে পাহাড়ের পরিস্থিতি এমন ছিলো না। এই ছয়মাসের বেড়েছে খুন। ঘটেছে অপহরণের ঘটনাও। আর এসব ঘটনার পর আঞ্চলিক দলের নেতাকর্মীরা জীবন শঙ্কায় কেউ কেউ ঘর থেকেও বের হচ্ছে না।

নাম প্রকাশ্যে অইচ্ছুক এক পাহাড়ি নেতা জানায়, এক মাসের মধ্যেই এতগুলো ঘটনার পর তারা জীবন শঙ্কায় আছেন। ঠিকমতো ঘর থেকেও বের হচ্ছেন না। আর ঘরে থেকেও তারা নিরাপত্তা হীনতায় ভূগছেন। কারণ হিসেবে বলছেন, ট্রিপল মার্ডারের ঘটনা ঘর গিয়েই ঘটিয়েছে সন্ত্রাসীরা।

ইউপিডিএফের (প্রসিত গ্রুপ) প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগের প্রধান নিরন চাকমা বলেন, আমাদের নেতাকর্মীরা নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েও মরতে হলো। যেখানে ঘরে ঢুকে তাদের হত্যা করেছে সন্ত্রাসীর;া এতেই স্পষ্ট যে আমাদের কেউ আজ ঘরে-বাহিরে কোথায় নিরাপদ না। দুর্গত পাহাড়ি গ্রামের মানুষও আজ আতঙ্কে আছে। আমাদের নেতাকর্মীরা আত্মনিয়ন্ত্রের জন্য তো চেষ্টা করবেই।

এক প্রশ্নে নিরন বলেন, রোববার রাতেই সন্ত্রাসীরা ওই এলাকার আশে-পাশে অবস্থান নেয়। ভোরের দিকে ১২ জনের একটি দল এ হত্যাযজ্ঞ ঘটায়। পরে তারা স্থানীয় বাজারে গিয়ে উল্লাস করে। কয়েকটি রাউন্ড ফাঁকাগুলি করে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।

জেএসএস (এমএন লারমা) তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সুধাকর ত্রিপুরা বলেন, ইউপিডিএফের ভাঙনের ফলে গত ছয়মাসে পাহাড়ে এ সাংঘষিক রূপ নিয়েছে। তারা (ইউপিডিএফ) আমাদের অনেক নিরীহ নেতাকর্মীকে খুন করেছে। আমরা খুনের রাজনীতিতে বিশ^াসী না। কিন্তু আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারতো সবারই আছে। এখন আমাদের নেতাকর্মীরা কোথায়ও নিজেদের নিরাপদ মনে করছে না।

এ বিষয়ে ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) এর নেতাদের মুঠোফোনে একাধিবার চেষ্ঠা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরো দেখুন

বিজয় উল্লাসে মেতেছে রাঙামাটি মারী স্টেডিয়াম

১৬ই ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস। ৩০লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত লাল সবুজের বাংলাদেশ। বিজয়ের ৪৭তম …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

twenty − seventeen =