পাশের হারে হতাশা রাঙামাটিতে


প্রকাশের সময়: জুলাই 23, 2017

পাশের হারে হতাশা রাঙামাটিতে

উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলে দৃশ্যতঃ ব্যাপক ফলাফল বিপর্যয় হয়েছে পার্বত্য রাঙামাটিতে। রবিবার দেয়া ফলাফলে এই জেলায় পাশের হার মাত্র ৪৪.৮৫%। সার্বিক ফলাফলে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাঙামাটির শিক্ষাবিদরা।

পাশের হারে সবার চেয়ে এগিয়ে শহরে নতুন যাত্রা করা উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান লেকার্স পাবলিক কলেজ। এই কলেজে পাশের হার ৮৩ %। অন্যদিকে পাশের হারে সবচে পিছিয়ে ছিলো বরকল উপজেলার রাগিব রাবেয়া কলেজ। এখানে পাশের হার ২৫.৪৫%।

অন্যদিকে পুরো জেলায় ১৭ টি কলেজ থেকে ৫,২৩৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ ফাইভ পেয়েছে মাত্র ৪ জন। এদের মধ্যে তিনজন রাঙামাটি সরকারি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের এবং অন্য একজন লেকার্স পাবলিক কলেজের বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী।

ফলাফল সার্বিক বিশ্লেষন করে দেখা গেছে,জেলা সবচে পুরনো ও ঐতিহ্যবাহি রাঙামাটির সরকারি কলেজ থেকে ১১৯৫ জন শিক্ষার্থী তিনটি বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও পাশ করেছে মাত্র ৫৪৩ জন। এই কলেজে পাশের হার ৪৫.৪৫%।

জেলার আরেক ঐতিহ্যবাহি রাঙামাটি সরকারি মহিলা কলেজের ফলাফল খুবই হতাশাব্যঞ্জক। এই কলেজে ৭৭৯ জন ছাত্রী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও পাশ করেছে মাত্র ২৬৬ জন। পাশের হার ৩৪.২০%।

শহরের আরেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রাঙামাটি পাবলিক কলেজের ফলাফলও খুব একটা আশা জাগানিয়া নয়। এই কলেজ থেকে ১৪১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও পাশ করেছে মাত্র ৫৪ জন। পাশের হার ৩৮.৩০%।

শহরের আরেক কলেজ লেকার্স পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ থেকে একজন শিক্ষার্থী জিপিএ ফাইভ পেয়েছে। এই কলেজ থেকে ৯৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাশ করেছে ৭৮ জন। পাশের হার ৮৩%।

জেলা শহরের বাইরের কলেজগুলোর মধ্যে বিভিন্ন উপজেলার কলেজগুলোর ফলাফলেও সার্বিক হতাশার প্রতিচ্ছবি। লংগদু উপজেলার রাবেতা মডেল কলেজ থেকে ২৭৯ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও পাশ করেছে ১৮৭ জন,পাশের হার ৬৭.০২%,যা উপজেলার কলেজগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ এবং রাঙামাটির দুই সরকারি কলেজের চেয়েও ভালো।

অন্যদিকে সম্প্রতি সরকারি হওয়া কলেজগুলোর মধ্যে রাজস্থলী কলেজ এর ফলাফল সবচে খারাপ হয়েছে। এই কলেজ থেকে ২৩১ জন পরীক্ষা দিলেও পাশ করেছে মাত্র ৬৮ জন,পাশের হার ২৯.৪৫%।

একইসাথে সরকারি হওয়া নানিয়ারচর কলেজের পাশের হার ৩০.৪৫%,বাঘাইছড়ির কাচালং কলেজের পাশের হার ৫২%,কাউখালী কলেজের পাশের হার ৩২.৪৫%, কর্ণফুলি কলেজে পাশের হার ৪৬.৮২%।

অন্যদিকে জেলার সবচে বড় উপজেলা বাঘাইছড়ির কাচালং কলেজের ৫৫১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ২৮৭ জন,পাশের হার ৫২%। এই উপজেলার আরেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সিজক কলেজ থেকে ৩৮৩ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাশ করেছে ২১৮ জন। পাশের হার ৫৬.৯৫%।

ফলাফলের সার্বিক চিত্র ভিন্নমত পাওয়া গেছে অধ্যক্ষদের কাছ থেকেও। রাঙামাটি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ফলাফলে সন্তুষ্টির কথা জানালেও,অসন্তুষ্টি জানিয়েছেন রাঙামাটি সরকারি মহিলা কলেজ ও পাবলিক কলেজের দুই অধ্যক্ষ।

রাঙামাটি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক জাফর আহমেদ বলেছেন, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পাশের হারের সাথে তুলনা করলে আমাদের ফলাফল খুব একটা খারাপ হয়নি,তবে আরো ভালো হতে পারতো।

রাঙামাটি সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ এনামুল হক খন্দকার নিজ কলেজের ছাত্রীদের ফলাফলে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, আমি খুবই অসন্তুষ্ট,তবে চেষ্টা করব আগামীতে ভালো করার।

রাঙামাটি পাবলিক কলেজের অধ্যক্ষ তাছাদ্দিক হোসেন কবির বলেছেন, আমার কলেজে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত অনুপস্থিতিই এই ফলাফল বিপর্যয়ের জন্য দায়ি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Top advertise


এই সংবাদটিতে আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Notify of
avatar
wpDiscuz