নীড় পাতা / পাহাড়ের সংবাদ / বান্দরবান / পর্যটকে মুখর অপরূপা বান্দরবান

পর্যটকে মুখর অপরূপা বান্দরবান

বাংলাদেশ একটি অপরূপা চির সবুজ দেশ। বান্দরবান পার্বত্য জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। ১৯৮১ সালের ১৮ই এপ্রিল, তৎকালিন লামা মহকুমার ভৌগলিক ও প্রশাসনিক সীমানাসহ সাতটি উপজেলার সমন্বয়ে জেলা হিসেবে বান্দরবান পার্বত্য আত্মপ্রকাশ করে। এ জেলায় বাঙালি জনগোষ্ঠী ছাড়াও ১১ টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জনগণ বসবাস করে। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ তাজিংডংএ জেলায় অবস্থিত। যা “বিজয়” বা “মদক মুয়াল” নামেও পরিচিত। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম পর্বতশৃঙ্গ “কেওক্রাডং” এবং সর্বোচ্চ খাল “রাইখিয়াং” এ জেলায় অবস্থিত। এখানকার আরও দর্শনীয় স্থান হলো মেঘলা, নীলাচল, শৈলপ্রপাত, প্রান্তিকলেক, বনপ্রপাত, চিম্বুক পাহাড়, স্বর্ণমন্দির, নীলগিরি, নীল দিগান্ত, নাফাখুম ও বগালেক ইত্যাদি।

১৯৮১ সালে বান্দরবান কে জেলা ঘোষণা করার পর থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ৩০০নং সংসদীয় আসনে এমপি বীর বাহাদুর উশৈসিং এর নেতৃত্বে ধাপে ধাপে এগিয়ে যাচ্ছে এ অপরূপ সবুজের লীলাভূমি পর্যটন নগরী বান্দরবান।

চিরসবুজের ছোঁয়া যাঁরা পেতে চান, তাঁদের যেতে হবে পাহাড়ি জনপদের পাহাড়ের আনাচে-কানাচে। শীতের হিমেল পরশে সজীব হয়ে ওঠে পার্বত্য প্রকৃতি ও। বান্দরবানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের খ্যাতি ছড়িয়েছে এরই মধ্যে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশেও। আর তাই এবারের পর্যটন মৌসুম শুরু হতে না হতেই নানা হোটেল-মোটেল আর গেস্ট হাউসে শুরু হয়েছে পর্যটকদের আনাগোনা। প্রতিবছরের মতো এবারও শীতকে সামনে রেখে বান্দরবানে পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে। বিদেশি পর্যটকদের ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে নীলাচল, নীলগিরি, নীলদিগান্ত, মেঘলা, স্বর্ণমন্দির, রামজাদি, শৈলপ্রপাত, প্রান্তিকলেক, ঝরনাসহ দর্শনীয় স্থানগুলোতে। বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তার ব্যাপারে প্রশাসনে নজরদারির কারণে শীতের শুরুতেই বান্দরবানে বিদেশি পর্যটকদের আসা দেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন হোটেল-মোটেলের মালিকরা।

বান্দরবানের পর্যটন মোটেলের ম্যানেজার মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ্ বলেন, দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে আশা করা যাচ্ছে আগামীতে আরো বাড়বে। শীতের সময়টা বেড়ানোর উপযুক্ত সময় হিসেবে বেছে নেয় ভ্রমণপিপাসুরা। প্রতিবছর শীতকে সামনে রেখে বান্দরবানে পর্যটকদের বাড়তি চাপ দেখা যায়। শীতের পরশে পর্যটকদের সরব উপস্থিতিতে চাঙ্গা হয়ে উঠছে বান্দরবানের আবাসিক হোটেল, রিসোর্ট, গেস্টহাউস, রেস্টুরেন্ট এবং পর্যটনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলো। বান্দরবানে শীতের সময়েই পর্যটকের আগমন ঘটে বেশি বলে জানান এই কর্মকর্তা।

বান্দরবান জেলা আবাসিক হোটেল মালিক সমিতির সভাপতি অমল কান্তি দাশ বলেন, পর্যটকদের বরণে জেলার প্রায় ৫৫টি আবাসিক হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট এবং গেস্টহাউসগুলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। পর্যটকদের সঙ্গে ভালো আচরণ এবং সকল ব্যবসায়ী-কর্মচারীদের পর্যটকবান্ধব হতে যথাযথ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাড়তি ভাড়া আদায় বন্ধ এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধা নিশ্চিতের ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে।

বান্দরবান জেলা ট্যুরিস্ট পুলিশের উপ-পরির্দশক সুরিত চাকমা বলেন, ‘পর্যটকদের নিরাপত্তায় দুর্গমাঞ্চলের দর্শনীয় স্থানগুলো ভ্রমণে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। প্রশাসনের তালিকাভুক্ত গাইডের মাধ্যমে নির্ধারিত ফরমে নাম-ঠিকানা, মোবাইল নম্বর এবং ভ্রমণের স্থানগুলো লিখে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে ফরমটি জমা দেওয়ার নিয়ম চালু করা হয়েছে। তবে শহরের আশপাশে নীলগিরি, চিম্বুক, নীলাচল, মেঘলা, নীলদিগন্ত, প্রান্তিক লেক, রামজাদি, স্বর্ণমন্দিরসহ স্পটগুলো ভ্রমণে কোনো বাধা নেই। বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তায় দর্শনীয় স্থানগুলোতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’

এদিকে মাইক্রোবাস জিপ কার শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ হারুন বলেন, পর্যটকদের সঙ্গে ভালো আচরণ করার জন্য সকলকে যথাযথ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাড়তি ভাড়া আদায় বন্ধ এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধা নিশ্চিতের ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে।

পৌর মেয়র মোহাম্মদ ইসলাম বেবী বলেন, বান্দরবানে পর্যটকের আর্কষন বৃদ্ধির লক্ষ্যে জেলা শহরের বিভিন্ন স্থানে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। বান্দরবান জেলা শহরের প্রবেশ পথ লাল ব্রিজকে আলোক সজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে। অন্যদিকে বান্দরবান বাজার (ক্যান্ট. ব্রিজ) ট্রাইফিং মোড় চত্ত্বর, ধনেশ চত্ত্বরকে আলোক সজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে। ময়ূর চত্ত্বর ও কালাঘাটা ব্রিজ(নতুন ব্রিজ) কে খুব শীঘ্রই আলোক সজ্জায় সজ্জিত করা হয়ে।

নেজারত ডেপুটি কালেক্টর মো.আলীনূর খান বলেন, ‘পর্যটকদের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ একটি স্থান বান্দরবান। শুধু শীত নয়, বর্ষায় পাহাড় আরো সবুজ ও বৈচিত্র্যময়। পর্যটনশিল্পের অনেক উন্নয়ন হয়েছে এ জেলায়, যোগাযোগব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা এবং আবাসন ক্ষেত্রেও। নতুন নতুন বেশকিছু কটেজ, হোটেল-মোটেল এবং গেস্টহাউস হয়েছে। নীলাচলের পর এবার শৈলপ্রপাতের সৌন্দর্যবর্ধনে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।এবছর পর্যটকদের জন্য থাকছে নীলদিগন্ত নামের একটি নতুন পর্যটক কেন্দ্র। শীতে পর্যটকদের বাড়তি চাপের কথা মাথায় রেখে পর্যটকের নিরাপদ এবং স্বাচ্ছন্দ্যময় ভ্রমণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা প্রদানের লক্ষে আমরা সার্বক্ষণিক মোবাইল টিম প্রস্তুত রেখেছি। পুলিশ, বিজিবিসহ আমাদের ম্যাজিস্টেট্রটরা সর্তক আছে। পরিবহন, হোটেলসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে মিটিং করেছি এভাবেই আমরা পর্যটকদের নিরাপত্তা প্রদানের চেষ্টা করছি। হোটেল বা গাড়ির অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কোন সুযোগ নেই। যেটা মূল্য নির্ধারিত আছে সেটাই নেয়া হবে।

আরো দেখুন

পানছড়িতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১, আহত ৩

খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলা সদর বাজারে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১জন নিহত এবং ৩জন আহত হয়েছে। সোমবার …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

five × 1 =