পরিকল্পনাতেই আটকে আছে রাঙামাটির সড়ক সংস্কার


শংকর হোড় প্রকাশের সময়: জুলাই 10, 2018

পরিকল্পনাতেই আটকে আছে রাঙামাটির সড়ক সংস্কার

গত ১৩ জুন রাঙামাটিতে টানা বর্ষণে ব্যাপক পাহাড় ধস ঘটে। পাহাড় ধসে নিহত হয় ১২০ জন, এতে আহত দুই শতাধিক মানুষ। এদিন সড়কে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে সারাদেশের সাথে সড়ক পথে রাঙামাটির যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। শালবন এলাকায় রাস্তাসহ ধসে পড়ার নয়দিন পর বিকল্প সড়ক তৈরির পর যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল হয়। এ সময় জেলার সাতটি সড়ক ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সাত সড়কের ১৪৫টি স্থানে পাহাড়ধস এবং তিনটি স্থানে রাস্তা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ১১৩ স্থানে সড়কের পাশের অংশ ভেঙে যায়।

এদিকে রাঙামাটির ইতিহাসে স্মরণকালের এমন ভয়াবহ অবস্থা প্রতিরোধে তাৎক্ষণিক সড়ক সচলের নানান উদ্যোগ নেয় সড়ক ও জনপথ বিভাগ। প্রাথমিকভাবে নানান উদ্যোগে তাৎক্ষণিকভাবে সড়কে যান চলাচল শুরু হলেও অনেকটা ঝুঁকিপূর্ণভাবে বর্তমানে এসব সড়কে যান চলাচল করছে। সড়ক সংস্কার করতে তাৎক্ষণিক বরাদ্দ মেলে ১৪ কোটি টাকা। এই টাকা দিয়ে ভাঙ্গা রাস্তা সংস্কারে সাময়িকভাবে বল্লি(গাছের খুঁটি) দিয়ে মাটি ধরে রাখার চেষ্টা করা হলেও বছর শেষে বল্লিসহ আবারো সড়ক ভেঙ্গে পড়ছে। এতে আবারো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে রাঙামাটির সবকয়টি সড়ক।

২০১৭ সালের পাহাড়ধসের পর জোড়াতালি দিয়েই চালু রাখা হয়েছে রাঙামাটির যোগাযোগব্যবস্থা। রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের দূরত্ব ৭৪ কিলোমিটার। এ সড়কের ৬০টি স্থানে পাহাড়ধস হয়ে সড়কের ওপর মাটি পড়ে। ২০টির বেশি জায়গায় বড় বড় ফাটল ধরে। দুটি স্থানে সড়কের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গিয়েছিল। ধসের পর বড় বড় ফাটলের অংশে খুঁটি দিয়ে সড়ক ধরে রাখার চেষ্টা করা হয়। সে সময় নয় দিন পর হালকা যান চলাচলের ব্যবস্থা করা হলেও তার প্রায় দুই মাস পার ভারী যান চলাচল শুরু হয়। এবার কয়েক দিনের অবিরাম বর্ষণে বিভিন্ন জায়গায় সংস্কার করা সড়ক আবারও ভাঙনের কবলে পড়েছে।

গত বছর ১৩ জুন শালবাগান এলাকায় রাস্তা ধসের প্রায় নয়দিন পর ২১ জুন সড়ক সংস্কার করে হালকা যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। ঐদিন সড়ক উদ্বোধন শেষে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব এম এম সিদ্দিক জানান, ‘আমরা দুই ধাপে রাস্তাটি সংস্কার করবো। প্রথম ধাপে এক মাসের মধ্যে বড় গাড়ি চলাচলের মতো করে রাস্তাটি উপযুক্ত করে তুলবো। আর বর্ষার এই সময়ে আমরা দুই মাস এই সড়কটি বিভিন্ন ম্যাপ নিয়ে শুষ্ক মৌসুমে পরিকল্পনামাফিক রাস্তার কাজ শুরু করবো। যাতে ভবিষ্যতে এভাবে সড়ক ধসে না পড়ে।’

রাঙামাটির ইতিহাসে স্মরণকালের এই ঘটনার এক বছর পার হলেও এখনো পরিকল্পনাতেই সীমাবদ্ধ রয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। গত বছরের বর্ষা শেষে শুষ্ক মৌসুমে স্থায়ীভাবে সড়কের কাজ শুরুর কথা বলা হলেও শুষ্ক মৌসুম শেষে এখন আবারো বর্ষা মৌসুম হাজির। টানা বৃষ্টি হলেই বিভিন্ন স্থানে সড়ক ধসে এখন রাঙাামাটির সাথে অন্যান্য জেলার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। কিংবা সড়ক ভাঙ্গনের আশঙ্কায় টানা বৃষ্টির সময়ে যান চলাচলও বন্ধ রাখা হচ্ছে। এখনো স্থায়ীভাবে সড়ক সংস্কার না করায় যেকোনও সময় আবারও পাহাড় ধস বা রাস্তা ধসে অন্যান্য জেলার সাথে সড়ক যোগাযোগ বন্ধের আশঙ্কা রয়েছে।

সড়ক বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, স্থায়ীভাবে সড়ক সংস্কার করতে এরই মধ্যে মন্ত্রণালয়ে ১৭০ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে আরো কিছু সড়কে ভাঙ্গন দেখা দেয়ায় প্রকল্পটি প্রায় ২০০ কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকবে। গত জানুয়ারিতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন শেষে একটি নকশা দিয়েছে সড়ক বিভাগের বিশেষজ্ঞ দল। এপ্রিলে তা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। তা যাচাই-বাছাই শেষে মে মাসের শেষ দিকে অভ্যন্তরীণ যাচাই কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে এটি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর কথা রয়েছে।

রাঙামাটি বাস পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি মঈনুদ্দীন সেলিম জানান, সড়কগুলো যেভাবে সংস্কার করা হয়েছে তাতে চালকরা প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে যান চলাচল করছে। অচিরেই স্থায়ীভাবে সড়কের কাজ না করলে এখানে গাড়ি চলাচল অসম্ভব হয়ে পড়বে। ইতোমধ্যে রাস্তা ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ট্যুরিস্টরাও মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।

রাঙামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এমদাদ হোসেন বলেন, স্থায়ীভাবে সড়ক সংস্কারে প্রায় ২০০ কোটি টাকার একটি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হয়েছে। আশা করছি আগামী শুষ্ক মৌসুমে স্থায়ীভাবে সড়ক সংস্কারের কাজে হাত দিতে পারবো। এছাড়া শালবন এলাকায় যে সড়কটি ধসে পড়েছে সেটি পুনরায় সংস্কার করে ও প্রতিরোধক দেয়াল দিয়ে রাস্তাটি যান চলাচলের উপযুক্ত করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Top advertise


এই সংবাদটিতে আপনার মতামত প্রকাশ করুন

avatar
  Subscribe  
Notify of