নীড় পাতা / ব্রেকিং / নির্বাচনের আগে ফের উত্তপ্ত নানিয়ারচর

নির্বাচনের আগে ফের উত্তপ্ত নানিয়ারচর

আগামী ২৫ জুলাই রাঙামাটি নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান’র শুন্য পদে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তার ঠিক আগেই ফের উত্তপ্ত নানিয়ারচর উপজেলা।

গত ৩মে রাঙামাটি নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমাকে নিজ কার্যালয়ের সামনে গুলি করে হত্যা করেন দুর্বৃত্তরা। তার পরের দিন ৪মে চেয়ারম্যানের দাহক্রিয়ায় যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তের হামলায় নিহত হন ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)’র প্রধান তপন জ্যোতি চাকমা ওরফে বর্মা সহ তার সহযোগিরা। তখন নানিয়ারচর জুড়ে ছিলো উত্তপ্ত হাওয়া। ঠিক তার কয়েক মাস পরে চেয়ারম্যানের শুন্য পদে উপ-নির্বাচন হওয়ার আগেই আবারো অপহরণ’র অভিযোগ তুলে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে নানিয়ারচর উপজেলা।

ইউপিডিএফ (প্রসীত) দলের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করে বলা হয়, নানিয়ারচরে গত রোববার সকাল সাড়ে ৭ টার দিকে ইঞ্জিনচালিত বোটযোগে কাঁচামালসহ বিভিন্ন গ্রামের লোকজন কুতুকছড়ি বাজারে যাওয়ার সময় ‘অস্ত্রের মুখে’ ২৫ জন গ্রামবাসীকে জেএসএস (এমএন লারমা) ও ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা হাতিমারা মুখের টিলায় তাদেরকে আটকায়। পরে সেখান থেকে ৯ জনকে ছেড়ে দিয়ে বাকী ১৬ জনকে অপহরণ করে উপজেলার বড়াদাম নামক গ্রামের দিকে নিয়ে যায়। এখনো তাদের কাউকে ছেড়ে দেয়া হয়নি। এরআগে গত বুধবার (৪ জুলাই) রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর বাজারে বাজার করতে আসলে আরো দুই গ্রামবাসীকে অপহরণ করা হয়। সবমিলে এখন পর্যন্ত ১৮ জন গ্রামবাসী অপহৃত আছেন।

অপহরণের অভিযোগে সোমবার দুপুরে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কের ঘিলাছড়ি, বোধিপুর ও জুরছড়ি নামক এলাকায় ‘নানিয়ারচর এলাকাবাসী’ ব্যানারে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন করেন শতাধীক নারী-পুরুষ। এছাড়া নব্য মুখোশধারী প্রতিরোধ কমিটি ও মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করা গ্রামবাসী মঙ্গলবার নানিয়ারচর উপজেলায় সকাল-সন্ধ্যা সড়ক ও নৌপথ অবরোধের ঘোষণা দেন।

এ প্রসঙ্গে ইউপিডিএফ (প্রসীত)’র সংগঠক মাইকেল চাকমা বলেন, সংস্কারবাদী জেএসএস-এমএনলারমা ও নব্য মুখোশধারীরা নানিয়ারচর উপজেলা নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে, মানুষের মনে ভয় জাগাতে এবং চাঁদাবাজির উদ্দ্যোশে এসব অপহরণ করছে। তাদের এমন কাজের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি যে সকল গ্রামবাসীকে অপহরণ করা হয়েছে তাদের দ্রুত উদ্ধারের জন্যে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

তবে ঘটনার সাথে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (এমএন লারমা) ও ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)।

ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)’র দপ্তর সম্পাদক মিটন চাকমা বলেন, আমাদের শীর্ষ স্থানীয় নেতাকে হারিয়ে বর্তমানে আমরা তেমন কোন রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনা করতে পারছি না। এছাড়া নানিয়ারচরে আমাদের অবস্থান তেমন একটা ভালো না। সেখানে এমন কর্মকান্ড করার কোন প্রশ্নই হয় না। আমরা এসব করিনি এবং করিও না।

তবে এ বিষয়ে ফোনে একাধীকবার পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (এমএন লারমা) নেতাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সংযোগ পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে অপহরণের বিষয়ে নানিয়ারচর থানার অফিচার্জ ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল লতিফ বলেন, অপহরণ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কেউ থানায় অভিযোগ করেনি । অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, আগামী ২৫ জুলাই নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যানের শুন্য পদে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে তিন জন প্রতিদ্বন্দ্বী অংশগ্রহণ করছেন।

আরো দেখুন

নানিয়ারচরে দুই ইউপিডিএফ কর্মীকে গুলি করে হত্যা

‘দলত্যাগ’ করে ইউপিডিএফ-এ যোগ দেয়ার ‘অপরাধে’ দুই কর্মীকে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে সংস্কারপন্থী হিসেবে পরিচিত …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

4 × 5 =