ঝুঁকির পাহাড়ে আবারও বসত তৈরি!


সাইফুল বিন হাসান , প্রকাশের সময়: সেপ্টেম্বর 23, 2017

ঝুঁকির পাহাড়ে আবারও বসত তৈরি!

রাঙামাটিতে ভয়াবহ পাহাড় ধসে ১২০ জন মারা যাওয়ার পর টানা তিনমাস আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা আশ্রয়হীন মানুষেরা গত ৭ সেপ্টেম্বর আশ্রয়কেন্দ্র বন্ধ হলে আবার ফিরে গেছে পুরানো সেই পাহাড়েই। ঝুঁকি আছে জেনেও বসতবাড়ি নির্মাণ করছে পাহাড়ের বিভিন্ন স্থানে।

শুক্রবার বিকালে রাঙামাটি শহরের বিভিন্ন স্থানে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় অনেকেই আবারও সেই ঝুঁকির পাহাড়ে বসত বাড়ি তৈরি করছে কিংবা অনেকে বসত বাড়ি নির্মাণ করে আবারো বসবাস করা শুরু করে দিয়েছে।

রাঙামাটি শহরের শিমুলতলি এলাকার বাসিন্ধা নিলুফা আক্তার বলেন, পাহাড় ধসে আমার বাড়ি-ঘর সব কিছু বিধ্বস্ত হয়ে যায়। আমরা দীর্ঘ দিন আশ্রয় কেন্দ্রে ছিলাম। কিন্তু প্রায় তিন মাস আমাদেরকে আশ্রয়কেন্দ্রে রাখার পরে নগদ ছয় হাজার টাকা, দুই বার টিন এবং এক বস্তা চাউল দিয়ে বাহির করে দেখ। এসমস্ত জিনিস দিয়ে কি করা যায় বলেন? তিনি ক্ষোভ জানিয়ে আরো বলেন, আমরা দীর্ঘ দিন কষ্ট করে আশ্রয় কেন্দ্রে ছিলাম, সরকার আমাদেরকে প্রতিনিয়ত দেখাশুনা করেছে। কিন্তু শেষে এসে এই কেমন বিচার করলো? যে সহায়তা দিয়েছে এদিয়ে তো কোন ঘরই তৈরি করা যাবে না। কোন একটা এনজিও থেকে লোন নিয়ে ঘর তৈরি করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখনো বৃষ্টি হলে ভয় লাগে, তবুও কি করবো? বৃষ্টি হলে স্বামী, সন্তান সবাই বসে বসে আল্লাহ্কে ডাকি।

একই স্থানে বসবাস করা আনোয়ারা বেগম বলেন, পাঁচ সন্তান আর অসুস্থ স্বামী নিয়ে আমি দীর্ঘ দিন আশ্রয় কেন্দ্রে ছিলাম। প্রশাসন প্রথমে বলেছে আমাদেরকে এই ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে আর বসবাস করতে দেওয়া হবে না, সবাইকে পূর্ণবাসন করা হবে। কিন্তু পরে দেখা গিয়েছে টাকা, টিন, চাউল দিয়ে আমাদেরকে আশ্রয় কেন্দ্র ছেড়ে দিতে বলেছে। এখন আমরা কোথায় যাবো। তাই আগের স্থানেই এসে উঠেছি। আমাদের করার কিছুই নেই।

একে গরিব মানুষ, তার ্উপরে ভূমিধসের কারণে যা সম্ভব ছিলো সব হারিয়েছি এখন আমাদের যাওয়ার কোন পথ নেই বলেই ঝুঁকিপূর্ণ হলেও আগের জায়গায় বসবাস করছি বলে গভীর হতাশার কন্ঠ নিয়ে বলেন এ মহিলা।

শুধু আনোয়ারা বেগম কিংবা নীলুফারই নন,পাহাড় ধসের পর শংকায় কিংবা জীবন বাঁচাতে আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নেয়া মানুষগুলো আবারো পাহাড়ে বসত নির্মাণ করছে। তবে শংকা কিন্তু রয়েই গেলো,আবারো কোন দুর্ঘটনার।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Top advertise


এই সংবাদটিতে আপনার মতামত প্রকাশ করুন

avatar
  Subscribe  
newest oldest most voted
Notify of
Pbodhi Bhante
Guest

আরো ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্য প্রশাসনই দায়ী থাকবে।কারনটা তারাই জানবে