ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বান্দরবানের পর্যটন শিল্প


বান্দরবান প্রতিনিধি প্রকাশের সময়: নভেম্বর 21, 2017

ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বান্দরবানের পর্যটন শিল্প

বিপর্যয় কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে পাহাড়ের পর্যটন শিল্প। শীত যেন আশির্বাদ হয়ে এসেছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের জন্য। শীতের আগমনে বদলাতে শুরু করেছে জনশূন্য পর্যটন স্পটগুলোর চিত্র। ভ্রমণ পিপাসু মানুষদের আনাগোনা বেড়েছে দর্শনীয় স্থানগুলোতে। ধস কাটিয়ে পর্যটন শিল্পের সঙ্গে চাঙ্গা হয়ে উঠছে পাহাড়ের অর্থনীতিও। শীতে কুয়াশার চাদরে ঢাকা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বান্দরবানে বেড়ানোর জন্য অনেকে ছুটে আসছেন দূর পাহাড়ে। সোম-মঙ্গলবার বান্দরবানের অন্যতম পর্যটন স্পট নীলাচল পাহাড়ের চূড়ায় এবং মেঘলা পর্যপন কমপ্লেক্সে ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে বেড়াতে আসা পর্যটকদের। আর শীত মৌসুমই হলো পাহাড়ের অরণ্যের জেলা বান্দরবানের দুর্গমাঞ্চলগুলোর দর্শনীয় স্থানগুলো ভ্রমণের উপযুক্ত সময়। চিরসবুজের ছোঁয়া যারা পেতে চান, তাদের যেতে হবে পাহাড়ি জনপদের পাহাড়ের আনাচে-কানাচে।

শীতে কুয়াশার চাদরে ঢেকে থাকা বান্দরবানের পাহাড়গুলো দূর থেকে দেখে মনে হয় বরফের স্তুপ। প্রকৃতি যেন সবটুকু উজাড় করে দিয়ে পেখম মেলে বসে আছে সৌন্দর্য বিকাশে। যান্ত্রিক জীবনের নানা কর্মব্যস্ততার জীবনের ছক থেকে বেরিয়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বান্দরবানসহ তিন পার্বত্য জেলায় ভিড় জমাচ্ছে ভ্রমণ পিপাসু মানুষেরা। চিরসবুজের ছোঁয়া পেতে পাহাড়ি জেলাগুলোতে পাহাড়ের আনাচে-কানাচে ঘুরে বেড়াচ্ছেন পর্যটকেরা। শীতের হিমেল পরশে সজীবতা এসেছে পাহাড়ের প্রকৃতিতে। শীত যেন পর্যটন শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের জন্য আশির্বাদ হয়ে এসেছে। ভ্রমণ পিপাসু মানুষদের আনা-গোনা বেড়ে যাওয়ায় চাঙ্গা হয়ে উঠছে পাহাড়ের অর্থনীতিও। পাহাড়ে পর্যটন শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে গেছেন এখানকার পাহাড়ি-বাঙালি মানুষগুলোর রুটি-রুজিও। শীতের সময় পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে আবাসিক হোটেল, রেস্টুরেন্ট, হস্তশিল্পের তৈরি শো-পিজ, কোমর তাঁতের কাপড়সহ ঐতিহ্যবাহী ব্যবসাগুলোর বেচা-বিক্রিও জমে উঠতে শুরু করেছে। পর্যটকবাহী গাড়িগুলোসহ পরিবহন ব্যবসাও অনেকটা চাঙ্গা হয়ে উঠেছে।

পর্যটকেরা ঘুরে বেড়াচ্ছেন বান্দরবানের অন্যতম পর্যটন স্পট নীলাচলের কুয়াশায় ঢাকা পাহাড়ে। মেঘলা পর্যটন কেন্দ্রের লেকের স্বচ্ছ জলে, ঝুলন্ত সেতু আর ক্যাবল কারে। সাঙ্গু নদীতে ডিঙ্গি নৌকায় চরে। আর মেঘ পাহাড়ের নীলগিরি, জীবননগর, চিম্বুক, নীলদিগন্ত, ক্যাওক্রাডং চূড়ায়।

পাহাড়ে ভ্রমণ যাদের বেশি পছন্দ, তারা আজই বেড়িয়ে পড়তে পারেন পার্বত্যাঞ্চলের উদ্দেশ্যে। শীতে পাহাড়ের আঁকাবাঁকা সড়কপথে বেড়ানোর মজায় আলাদা। শীতের আগমনে পাহাড়ি জেলা বান্দরবানে বেড়ানোর জন্য অনেকে ছুটে আসেন দুর পাহাড়ে। আর শীত মৌসুমই হলো পাহাড়ের অরণ্যের জেলা বান্দরবানের দুর্গমাঞ্চলগুলোর দর্শণীয় স্থানগুলো ভ্রমণের উপযুক্ত সময়।

আবাসিক হোটেল মালিক সমিতির বান্দরবানের জেলা সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম জানান, পাহাড়ের অর্থনৈতিক চালিকা শক্তির অন্যতম খাত হচ্ছে পর্যটন শিল্প। প্রাকৃতিকে দুর্যোগে ধস নামে এখানকার পর্যটন শিল্পে। কিন্তু শীতের শুরুতে পর্যটকদের আনা-গোনা বাড়ায় আবারো ঘুরে দাড়াচ্ছে পর্যটন শিল্প। চাঙ্গা হয়ে উঠছে এ অঞ্চলের অর্থনীতিও। তিনি বলেন, পর্যটন শিল্পের বিকাশে বান্দরবানে আবাসিক হোটেলগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রেস্টুরেন্ট এবং হস্তশিল্পের তৈরি শোপিজ, কোমর তাঁতের কাপড়ের দোকানসহ পর্যটন শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও।

স্থানীয় পাহাড়ি ব্যবসায়ী লাল পিয়াম বম বলেন, পাহাড়িদের তৈরি কোমর তাঁতের পোষাক (কাপড়) এবং বাঁশ, কাঠের তৈরির হস্তশিল্পের বিভিন্ন জিনিসপত্রের প্রধান ক্রেতা হচ্ছে পর্যটক। বেড়াতে আসা দেশি-বিদেশি পর্যটকেরাই এসব জিনিসপত্র কিনে নিয়ে যায়। শীতের সঙ্গে পর্যটকেরাও আসতে শুরু করেছে। মোটামুটি বেচা বিক্রিও হচ্ছে কদিন ধরে। এবার সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবো মনে হচ্ছে।

ট্যুরিস্ট জিপ গাড়ি শ্রমিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কামাল বলেন, পর্যটকবাহী প্রায় তিনশ গাড়ি রয়েছে বান্দরবান। গাড়িগুলোর সঙ্গে জড়িত কয়েকশ শ্রমিক প্রায় ছয়মাস ধরে ভীষণ কষ্টে দিন কাটিয়েছেন। কিন্তু শীত পড়তে শুরু করায় পর্যটকরাও আসতে শুরু করেছেন। ট্যুরিস্ট গাড়িগুলোও পর্যটকে মুখরিত হয়ে উঠছে।

রেস্টুরেন্ট মালিক সমিতির সভাপতি গিয়াস উদ্দিন বলেন, পর্যটকের ওপর এখানকার রেস্টুরেন্টগুলোও অনেকটা নির্ভরশীল। পর্যটক আসায় রেস্টুরেন্টগুলোতে আবারো বেচা-বিক্রি বেড়েছে।

বান্দরবানের জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক বলেন, পাহাড়ের সম্ভাবনায় শিল্প হচ্ছে পর্যটন। এ অঞ্চলের অর্থনীতির সঙ্গে পর্যটন শিল্প সম্পৃক্ত। পর্যটক নির্ভর ব্যবসা বাণিজ্য পাহাড়ে সম্প্রসারিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। পর্যটকদের আগমন বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক চাকাও সচল হচ্ছে। নতুন নতুন পর্যটন স্পট এবং অবকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। জেলা প্রশাসক আরো বলেন, আনা-গোনা বেড়েছে পর্যটকের। বিপর্যয় কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে পাহাড়ের পর্যটন শিল্প। পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াতে বর্ষায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলো মেরামত করে ঠিকঠাক করা হচ্ছে। পর্যটকদের নিরাপদ আরামদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করতে প্রস্তুত প্রশাসন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Top advertise


এই সংবাদটিতে আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Notify of
avatar
wpDiscuz