ঘুরে দাঁড়াচ্ছে প্রতিবন্ধি ইমরান


খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি প্রকাশের সময়: জানুয়ারী 13, 2018

ঘুরে দাঁড়াচ্ছে প্রতিবন্ধি ইমরান

প্রতিবন্ধি হিসেবে জন্ম নেয় খাগড়াছড়ির দীঘিনালার ১৩ বছরের শিশু ইমরান। তাঁর ডান হাতের কনুই পর্যন্ত নেই। তবে অদম্য ইচ্ছা শক্তির কাছে পরাজিত তাঁর প্রতিবন্ধি শরীর। ইমরান এবার পিইসি পরীক্ষায় বাম হাত দিয়ে লিখে মেধার পরিচয় রেখেছে। প্রায় আড়াই শতাধিক শিক্ষার্থীকে পিছনে ফেলে মেধা তালিকায় তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে।

প্রতিবন্ধি এমন শিশুর মেধার পরিচয় দেয়ায় অন্য শিশুদের জন্য অনুকরণীয় বলছে স্থানীয়রা। এদিকে অভাব অনটনের সংসারে ইমরানের এমন খবরে খুশি হলেও ভবিষ্যতের কথা ভেবে চিন্তিত পরিবার।

প্রতিবন্ধি শিশু হয়ে জন্ম নেয়ার কয়েক বছর পর থেকেই নানী ও মামাদের কাছে থেকেই বড় হচ্ছে সে। একদিকে দারিদ্রতা অন্যদিকে প্রতিবন্ধি হয়ে জন্ম নেয়ায় স্ত্রী সন্তানকে রেখে নিরুদ্দেশ হয়ে যায় পিতা এরশাদ আলী। অন্যদিক ইমরানকে প্রাক প্রাথমিকে ভর্তি করিয়ে নানীর কাছে রেখে কাজের সন্ধ্যানে চট্টগ্রাম চলে যায় মা পারভিন বেগম। দীঘিনালার মানিকছড়ি হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের থেকে পাশ করা এই শিক্ষার্থী প্রাক প্রাথমিকে ভর্তি হয়ে মেধার পরিচয় রেখেছে।

দীঘিনালা মানিকছড়ি হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ঝর্ণা চৌধুরী বলেন, ‘ইমরান শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত আমাদের বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেছে। প্রতিবন্ধি হওয়ার কারণে তাকে পড়াশুনায় বিশেষ সুবিধা দিতে চাইলেও সে তা গ্রহণ করে না। নিজের অদম্য ইচ্ছা শক্তিই তাকে এগিয়ে নিচ্ছে।’

স্থানীয় সাংবাদিক জাকির হোসেন বলেন, দরিদ্র পরিবারে তাঁর জন্ম। মামা-নানীর কাছে থেকেই পড়াশুনা করছে সে। ইমরান যদি সরকারি বা ব্যক্তি বিশেষভাবে সহযোগীতা যদি পাই তাহলে সে বাধাহীন ভাবে পড়াশুনা এগিয়ে নিতে পারবে।

এদিকে ইমরানের নানী মোছাম্মদ আছিয়া বেগম জানান, অন্যের ঘরে কাজ করে যা পাই তা দিয়ে সংসার আর ইমরানের পড়াশুনার খরচ চালাচ্ছি। এখন আমার জন্য ইমরানের পড়াশুনার খরচ চালানো কঠিন হয়ে গেছে। যদি সে একটু সহযোগিতা পাই তাহলে আমাদের জন্য উপকার হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা গুলজার হোসেন ও আতিকুর রহমান জানান, ইমরান মেধাবী শিশু। আমরা সবাই মিলে যতটুকু সম্ভব তাকে সহযোগীতা করছি। যদি সরকারিভাবে সে একটু সহযোগিতা পায় তাহলে ইমরান তাঁর স্বপ্ন পূরণ করতে পারবে। এদিকে ইমরান স্বপ্ন দেখছে বড় হয়ে সে বড় সরকারি অফিসার হবে। কিন্তু দারিদ্রতা ও পরিবারের অভাব অনটন তাঁর এগিয়ে চলাতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইমরান জানায়, ‘আমি বড় হয়ে সরকারি বড় অফিসার হতে চাই। আপনারা সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। আমি যেন এগিয়ে যেতে পারি। এসময় সে পড়াশুনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করে।

বর্তমানে সে দীঘিনালার হাছিনছনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। এদিকে মেধাবি এই শিক্ষার্থীকে সব ধরনের সহযোগিতা করার কথা জানিয়েছেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। দীঘিনালা হাছিনছনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেবপ্রিয় বড়–য়া জানান, ‘মেধাবী ইমরান প্রতিবন্ধি হওয়ায় আমরা বিদ্যালয় থেকে যতটুকু সম্ভব তাকে সহযোগীতা করবো। যেন সে পড়াশুনা চালিয়ে যেতে পারে।’

স্থানীয়দের প্রত্যাশা প্রতিবন্ধি অদম্য ইমরান যেন প্রতিবন্ধকতা ঠেলে এগিয়ে যেতে পারে এই ব্যাপারে সহযোগিতা করবে সরকার।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Top advertise


এই সংবাদটিতে আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Notify of
avatar