খাগড়াছড়িতে রাসেল হত্যাকান্ড

খাগড়াছড়ি ছাত্রলীগের আরেক অংশের পাল্টা সাংবাদিক সম্মেলন


খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি প্রকাশের সময়: মার্চ 31, 2018

খাগড়াছড়ি ছাত্রলীগের আরেক অংশের পাল্টা সাংবাদিক সম্মেলন

খাগড়াছড়িতে রাসেল হত্যাকান্ডের ঘটনায় পৌর মেয়র রফিকুল আলমসহ ছাত্রলীগ-যুবলীগ ও আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে পাল্টা সাংবাদিক সম্মেলন করেছে জেলা ছাত্রলীগ।

শুক্রবার সকালে খাগড়াছড়ি প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে এই কর্মসূচির অয়োজন করে ছাত্রলীগের একাংশ। এর আগেরদিন পৌর মেয়রের গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছিলো জেলা ছাত্রলীগের আরেকটি অংশ,যার নেতৃত্বে ছিলেন সভাপতি টিকো চাকমা।

শুক্রবারের সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দীন ফিরোজ।

এসময় রাসেল হত্যাকান্ডের ঘটনা নিয়ে জেলার একটি দুষ্টু চক্র রাজনৈতিক ফায়দা লুটার হীন চেষ্ঠা করছে এমন অভিযোগ করে বলা হয়, গত পৌর নির্বাচনের পর থেকে সাংসদ কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার গুটিকয়েক অনুসারীরা বিএনপি-জামাত জোট সরকারের আমলে হামলা-মামলার শিকার ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের কোণঠাসা করে নিজেদের পকেট ভারীর যে অপরাজনীতি করছে তারই অংশ হিসেবে এ হত্যাকান্ডের মামলায় দলীয় নেতাকর্মীদের আসামি করে প্রকৃত খুনীদের আড়াল করার অপচেষ্ঠা চালাচ্ছে। এসব সুবিধাবাদীরা এমপির ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে জেলা আওয়ামীলীগের ত্যাগী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত ৬০-৬২ টি মিথ্যা মামলা দিয়ে স্বীয় স্বার্থ চরিতার্থ করছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।

সাংবদিক সম্মেলনে জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি মো. ফারুক, ইমাম হোসেন মানিক, প্রজ্ঞাবীর চাকমা, নাজমুল হোসেন অপু, সাংগঠনিক সম্পাদক হৃদয় মারমা, পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হাসান আলীসহ সংগঠনটির বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে দুর্বৃত্তের হামলায় নিহত রাসেল ছাত্রলীগের কোন কর্মী নয় উল্লেখ করে আরো বলা হয়, হত্যাকান্ডের পর রাজনৈতিক হীন ফায়দা লুটার জন্য তাকে ৬ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের কর্মী বানানো হয়েছে। বাস্তবে ছাত্রলীগের পৌর ও ওয়ার্ড কমিটি পর্যালোচনা করে কোথাও রাসেলের নাম পাওয়া যায়নি। হত্যাকান্ডের মূল রহস্য উদঘাটন করে প্রকৃত খুনীদের গ্রেফতারে প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানানো হয় কর্মসূচি থেকে। অন্যথায় মানববন্ধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটির একাংশের নেতাকর্মীরা।

পরে এক প্রশ্নের জবাবে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দীন ফিরোজ বলেন, রাসেল হত্যাকান্ডে দায়ের করা মামলাটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মামলা।

প্রসঙ্গত, গত (২৪ মার্চ) শনিবার সন্ধ্যায় জেলা শহরের মিলনপুর এলাকার ব্রীজের উপর দুর্বত্তের ছুরিকাঘাতে নিহত হন রাসেল। এ ঘটনার পর তাকে ৬নং পৌর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সদস্য বলে দাবি করে সাংসদ কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার অনুসারীরা। ঘটনার পর থেকে খাগড়াছড়ি পৌরসভার মেয়র রফিকুল আলম ও তার ছোট ভাই জেলা আওয়ামীলীগ নেতা দিদারুল আলমসহ তাদের অনুসারীদের দায়ী করে তাকে গ্রেফতারের দাবি করে আসছেন তারা।

এদিকে, ঘটনার পরের দিন রাতে রাসেলের মা খোদেজা বেগম বাদি হয়ে পৌর মেয়র ও তার ছোট ভাই জেলা আ’লীগ নেতা দিদারুল আলমকে প্রধান আসামি করে ছাত্রলীগ-যুবলীগসহ ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় এ পর্যন্ত তিনজন জেল হাজতে রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Top advertise


এই সংবাদটিতে আপনার মতামত প্রকাশ করুন

avatar
  Subscribe  
Notify of