‘খাওন না দিলেও পইড়া থাকমু’


প্রান্ত রনি , প্রকাশের সময়: সেপ্টেম্বর 8, 2017

‘খাওন না দিলেও পইড়া থাকমু’

‘খাওন না দিলেও পইড়া থাকমু, আশ্রয়কেন্দ্র খাইতে না পারলেও তো থাকতে পারতেছি। এখান থেকে চলে কই যামু, কোথায় থাকমু কিছুই জানি না! এমনই বলতে লাগবে গত জুন পাহাড় ধসের পর ছেলেকে নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে পড়ে আছেন ভেদভেদী কালী বাড়ি এলাকার বাসিন্দা উমা বড়ুয়া।

আলাপকালে তিনি বলেন, আমার আমিও নাই, এক ছেলেকে নিয়ে বেঁচে আছি। পাহাড় ধসে একমাত্র সম্বল স্বামীর বাড়িটাও ধসে গেছে। এখন আমার থাকার মতো কোন জায়গা নাই। এখন কই যাবো? তাই আশ্রয়কেন্দ্রেই রয়ে গেছি।

রুবি বড়ুয়ার মতো শহরের রাজবাড়ি জিমনেশিয়াম আশ্রয়কেন্দ্রে রয়ে গেছেন অনেকেই। আশ্রয়কেন্দ্রের যুগমায়া চাকমা বলেন, আমাদের এক হাজার টাকা আর ত্রিশ কেজি চাল দিয়ে এখান থেকে যাইতে বলছে। আমরা কই যাবো? এক হাজার টাকা আর ত্রিশ কেজি চাল দিয়ে কি হবে এমন প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন যুগমায়া চাকমা।

যুগমায়ার মতো রুবি বড়ুয়া বলেন, বৃহস্পতিবার রাতের পর থেকে আজ আর আমাদের খাবার দেয়নি কেউ? আজকের দুপুরটা বনরুটি খেয়ে কেটেছি। রাতেও এমনই করবো। কিন্তু এখান থেকে চলে গেলে থাকারও জায়গায় নেই তাই পড়ে আছি।

খাইতে না পারলেও থাকতে পারছি, খাওয়া না দিলেও এখানেই পড়ে থাকমু এমনই মনের কথা জানালেন ভেদভেদী যুব উন্নয়ন এলাকার বাসিন্দা প্রুদি চাকমা।

এবিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আবু শাহেদ চৌধুরী বলেন, সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্তদের ৬ হাজার টাকা, ত্রিশ কেজি চাল, ২ বান টিন ও আংশিক ক্ষতিগ্রস্তদের ১ হাজার টাকা ও ত্রিশ কেজি চাল দিয়ে আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যারা এখনো আশ্রয়কেন্দ্রে পড়ে আছে, জেলা প্রশাসন তাদের ব্যাপারে খোঁজখবর নিচ্ছে, এরপর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত ১৩ জুন রাঙামাটিতে ভয়াবহ পাহাড়ধসে ৫ সেনাসদস্যসহ ১২০ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এতে জেলায় মোট ক্ষতিগ্রস্ত ১২৭৫৩টি পরিবার। সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত ১২৩১ ও আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ৯৫৩৭টি আর বাকীগুলো নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Top advertise


এই সংবাদটিতে আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Notify of
avatar
wpDiscuz