নীড় পাতা / পাহাড়ের অর্থনীতি / কৃষকের হাসি কেড়ে নিয়েছে শিলাবৃষ্টি

কৃষকের হাসি কেড়ে নিয়েছে শিলাবৃষ্টি

রাঙামাটির লংগদুতে গত ১৩ মার্চ হঠাৎ শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে । কৃষকরা যে আশা নিয়ে ফসলের আবাদ করেছিলেন সেই কৃষকের মুখের হাসি ম্লান করে দিয়েছে অসময়ের এ প্রাকৃতিক দুর্যোগ। গত ১৩ মার্চ বিকেল সাড়ে চারটায় শুরু হওয়া আধা ঘন্টাব্যাপী বৃষ্টির সাথে ব্যাপক শিলা বর্ষণ উপজেলার সাতটি ইউনিয়নেই ক্ষয়ক্ষতির প্রমাণ রেখে গেছে। ফসলের যেমন ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, তেমনি বাদ যায়নি ঘরবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাটসহ নানা স্থাপনা।

উপজেলা কৃষি অফিসারের কার্যলয় সূত্রে জানা যায়, শিলাবৃষ্টিতে উপজেলার বেশ কয়েকটি ব্লকেই ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের মধ্যে তরমুজ ২.০০ হেক্টর, আম ২.০০ হেক্টর, লিচু ২.০০ হেক্টর, মরিচ ৩.০০ হেক্টর ও অন্যান্য সবজি ৪.০০ হেক্টর।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার খোঁজখবর নিয়েছি এবং ক্ষয়ক্ষতির তালিকাসহ প্রাথমিক একটি প্রতিবেদন জেলা পর্যায়ে উর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়েছি। মৌসুমী ফসলের যে ক্ষতি হয়েছে তাতে কৃষকদের আর্থিক সহযোগিতার প্রয়োজন, এ বিষয়ে জেলা পরিষদসহ সংশ্লিষ্ট সকলের এগিয়ে আসার অনুরোধ করছি।

তামাক ছেড়ে গত পাঁচ বছর যাবৎ তরমুজের আবাদ করেন লংগদু সদর ইউনিয়নের ঝর্নাটিলা গ্রামের কৃষক আবুল হোসেন। এবছরও ১২শ তরমুজের থালা করেছিলেন, ফলন যা হয়েছিল লাভ হতো ২ থেকে আড়াই লক্ষ টাকা। পাইকারের সাথে দরদামও ঠিক করেছিলেন। কিন্তু তরমুজ কাটার দু’দিন আগের শিলাবৃষ্টি সবকিছু ওলটপালট করে দিয়েছে। প্রতিটি তরমুজের গায়ে শিলার ক্ষত স্পষ্ট। গত মঙ্গলবার আবুল হোসেনের তরমুজ ক্ষেতে গিয়ে দেখা যায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অসংখ্য নষ্ট তরমুজ। যেগুলো নষ্ট হয়নি এমন তরমুজের এখন আর বাজার মূল্য নেই। কাটার পরে দু’দিনের বেশি টিকবে না বলে জানালেন আবুল হোসেন। এখন আবুল হোসেনের একটাই চাওয়া কৃষকের এমন দুঃসময়ে কৃষিবান্ধব সরকার যেন সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়।
তরমুজের পাশাপাশি আম ও লিচুর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে উপজেলার সর্বত্র। শিলাবৃষ্টির আগে ছোট বড় সব আম ও লিচু গাছে মুকুলের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তা এখন শুধুই স্মৃতি। গত ৩/৪ বছর যাবৎ আম ও লিচুর খুব একটা ভালো ফলন দেখা যায়নি। এবছর সব গাছে ভরপুর ফুলে চাষিরা যে স্বপ্ন দেখেছিলেন তা যেন এখন শুধুই কল্পনা।

উপজেলার ভাইট্টাপাড়া এলাকার তরুণ কৃষক মামুন হোসেন ১২শ আম গাছের একটি বাগান দু’বছরের জন্য ১ লক্ষ কুড়ি হাজার টাকায় লিজ নিয়েছেন। বাগানে আ¤্রপালি , ক্ষীরসাপাত, লেংড়াসহ বিভিন্ন জাতের আমগাছ আছে। বর্তমানে বাগান নিয়ে হতাশায় থাকা এ নবীন কৃষক জানালেন পুঁজি উঠাতেই কষ্ট হবে। শিলাবৃষ্টি সব শেষ করে দিয়েছে। আম ছাড়াও মামুন হোসেনের পেয়ারা ও পেঁপের দুটি বাগান আছে। সেসব বাগানেও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করেছে আধঘন্টার শিলাবৃষ্টি। সব মিলিয়ে প্রায় ৫-৬ লক্ষ টাকার লোকসানের বোঝা কৃষক মামুনের মাথার ওপর।

শুধু মামুন বা আবুল হোসেন নয়, শতশত কৃষক তরমুজ, আম, লিচু ও শাকসবজির চাষ করে সর্বস্বান্ত হয়েছেন।

অন্যদিকে তামাক চাষিরাও ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছেন। উপজেলার বামে আটারকছড়া গ্রামের স্কুল শিক্ষক টিটু চাকমা এবারই প্রথম নিজের অনাবাদী সাড়ে ৮ কানি জমিতে তামাকের চাষ করেছেন। এক শিলাবৃষ্টিতে সব আশা ভরসা শেষ করে দিয়েছে। এ গ্রামের আরো ২২জন কৃষক তামাক চাষ করে লোকসানের হিসেব কষছেন।

উপজেলা কৃষক সংগঠনের প্রবীণ নেতা নাজমুল হুদা আলম বলেন, সেদিনের এমন শিলাবৃষ্টি অতীতে কখনোই দেখিনি। কৃষকরা সহায় সম্বল সব উজাড় করে চাষাবাদ করেছেন, যা শিলাবৃষ্টিতে শেষ করে দিয়েছে। সাংগঠনিকভাবে প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিদের জানানো হয়েছে। আশা করছি কৃষিবান্ধব সরকার কৃষকদের রক্ষায় এগিয়ে আসবে।

আরো দেখুন

লংগদু মনোরম বিহারে ২১তম কঠিন চীবর দানোৎসব

লংগদু বামে আটারকছড়া মনোরম বৌদ্ধ বিহারে ২১তম দানোত্তম কঠিন চীবর দানোৎসব ২০১৮ উদ্যাপন উপলক্ষে মহতি …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

13 + seventeen =