এ যেনো রোম পুড়ছে, বাঁশী বাজাচ্ছে নিরো….


হেফাজত সবুজ, প্রকাশের সময়: জুলাই 19, 2017

এ যেনো রোম পুড়ছে, বাঁশী বাজাচ্ছে নিরো….

ইতিহাসে আছে, রোম নগরী যখন ভয়ংকর আগুনে পুড়ছিলো সেই রোমের স¤্রাট নিরো তখন বাঁশী বাজাচ্ছিলেন, ৬৪ খ্রিস্টাব্দে ঘটে যাওয়া রোমের সেই ভয়াবহ অগ্নিকান্ড আর নিরোর বাশী বাজানো নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে আজও বিতর্কের শেষ নেই। সমসাময়িক রোমান ঐতিহাসিক টেসিটাসের মতে সেই ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে রোমের ১৪টি জেলার মধ্যে ১০টি জেলা সম্পুর্ণ পুড়ে যায়, আর আগুনের স্থায়িত্বকাল ছিলো ছয়দিন। প্রাচীন রোম নগরীর ঐ অগ্নিকান্ডের জন্য প্রায় সব ঐতিহাসিকগন স¤্রাট নিরো কে দায়ী করে আসছেন।

অতীত বাদ দিয়ে বর্তমানে তাকানো যাক, সম্প্রতি তথা গত ১২ জুন রাত থেকে প্রবল বর্ষনের ফলে রাঙামাটিতে মহাবিপদ নেমে এসেছিল, এক রাতের প্রবল বর্ষনে খরকুটোর মত ধসে পরেছিল পাহাড়, কেড়ে নেয় ১২০টি প্রাণ, আহত হয় প্রায় দুইশতাধিক মানুষ। বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় সড়ক যোগাযোগ ও বিদ্যুত ব্যবস্থা। শহরে নেমে আসে মানবিক বিপর্যয়।

এ থেকে পরিত্রানের পথ খুজতে থাকেন শহরের কর্তা ব্যাক্তিসহ সাধারন মানুষ, কিন্তু যাদের সব চাইতে বেশি ভূমিকা রাখার কথা, যারা আমাদের নিয়ে ভাবেন, যাদের হাতে নির্ভর করছে আমাদের ভবিষ্যত, সেই মহা ক্ষমতাধর রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদকে কেনো যেন খুঁজে পাওয়া যায়নি ঠিক সেভাবে। মৃত ব্যক্তিদের ২০ হাজার টাকা প্রদান করা ছাড়া আর তেমন কোন কাজে দেখা যায়নি জেলা পরিষদকে, অথচ এই জেলা পরিষদ পার্বত্য অঞ্চলের অত্যন্ত প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান। যাদের হাতে ন্যস্ত জেলার শিক্ষা,স্বাস্থ্য,সমাজসেবা, কৃষি, মৎস সহ এমন গুরুত্বপুর্ণ ২৭টি সরকারি বিভাগ, যারা এই পরিষদের নির্দেশ পালন করতে বাধ্য। আমাদের এই মহা বিপর্যয়ে সকল প্রতিষ্ঠানকে কম বেশি কাজ করতে হয়েছে, উক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের জন্য তাদের তেমন কোন নির্দেশনা ছিলো বলে মনে হয়নি। পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষগুলোকে ঈদের বিশেষ দিনে আনন্দ দেবার জন্য শহরের সব মানুষ যখন হুমড়ি খেয়ে পরেছিল ১৯ আশ্রয় কেন্দ্রে , তখনও চোখে পড়েনি রাঙামাটি জেলা পরিষদকে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে বা আমরা শুনেছি, জেলা পরিষদের হাতে টাকা বা ত্রান নেই তাই এ দুর্গত মানুষকে কোন প্রকার সহায়তা দিতে পারবেনা, যদিও এমনটা হবার কথা নয়। ধরে নেয়া যাক পরিষদের হাতে টাকা নেই, এমটা হতেও পারে, মানসিক বা শারিরিক ভাবে পাশে থাকতে সমস্যাটা কোথায় ছিল, সেটাও কি পেয়েছে ঐ ভাগ্যাহত মানুষগুলো ?

এবার আসা যাক বরাদ্দের বিষয়ে, পার্বত্য অঞ্চল বিশেষায়িত অঞ্চল, দেশের সকল মন্ত্রনালয়ের সাথে শুধু মাত্র আমাদের জন্য পৃথক ১টি মন্ত্রনালয় আছে, যা শুধু ৩ পার্বত্য জেলার মানুষের জন্য কাজ করে থাকে, আর এই মন্ত্রনালয়ের অধিনে পরিচালিত হয় জেলা পরিষদগুলো, এমন ভয়াবহ দুর্যোগে এই মন্ত্রনালয় কোন ত্রান সহায়তা দেবেনা, তা মানা যায়না, হয়তো আমাদের পরিষদ আবেদন করেনি বা আবেদন করতে পারেননি। তাইতো জেলার অনেক কর্তা ব্যক্তিরা প্রকাশ্যেই বলতে বাধ্য হয়েছেন, এ দুর্যোগে জেলা পরিষদের ভূমিকা চোখে পরার মত ছিলোনা।

বর্তমানে যেসব মানুষ এখনো আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান করছে তাদের কি করা হবে, আগের স্থানে পুনর্বাসন করা হবে নাকি অন্য কোন নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসন করা হবে, তা নিয়ে ভাবার কথা ছিলো আমাদের এই জেলা পরিষদের। তারা কি তা করছেন ? অথচ এদের নিয়ে বেশী ভাবার কথা ছিল তাদেরই । তবে কি জেলা পরিষদ শুধু নিয়োগ দানকারি প্রতিষ্ঠান হিসাবে স্বীকৃতি লাভ করতে চাচ্ছে, তবে কি এই নিয়োগদানে বিশেষ কোন মধু আছে??? সে যাই হোক বিপর্যয়ের বেশ কিছুদিন পরে বিভিন্ন দুর্গত এলাকায় ত্রান বিতরণ করেছে পরিষদ।
আমরা আরও দেখতে পেলাম বিপর্যয়ের কিছুদিন পরেই আমাদের এই পরিষদ মানুষের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী, উপাসনালয়ে ঢোল তবলার মতো নানাবিধ সামগ্রী বিতরণ করছে। ব্যাপারটি হাস্যকর নয় কি?? এ যেন রোম পুড়ে যাচ্ছে আর নিরো বাঁশী বাজাচ্ছে।
শেষ করার আগে আবার রোমের কথা চলে আসায় সামনে এসে দাঁড়ালো নিরো, তার এমন কর্ম মানুষকে হতাশ করেছে, নিজে পরিণত হয়েছেন গবেষনার বস্তুতে, ঐতিহাসিকগনের গবেষনায় প্রতিয়মান হয়, নিরো একজন প্রজাবিচ্ছিন্ন রাজা বা শাসক ছিলেন। তবে কি আমাদের এই জেলা পরিষদও জনবিচ্ছিন্ন্ পরিষদে পরিনত হচ্ছে???

লেখক : সংবাদকর্মী,সময় টেলিভিশন,রাঙামাটি

সংবাদটি শেয়ার করুন

Top advertise


এই সংবাদটিতে আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Notify of
avatar
Sort by:   newest | oldest | most voted
Maksudur Rahaman Mitu
Guest

কথাগুলো যেন আমারই মনের কথা…..

wpDiscuz