নীড় পাতা / ব্রেকিং / এখনো ঘরে ফেরেনি তারা…

এখনো ঘরে ফেরেনি তারা…

শুকিয়ে গেছে স্বজনদের চোখের পানি। তারপরও প্রিয়জনকে ফিরে পাওয়ার জন্য আহাজারি যেন থামছে না। সান্তনা দেয়ার ভাষাও নেই স্থানীয়দের। এখনো সবার অপেক্ষা হয়তো ফিরবে নিখোঁজ মানুষগুলো।

খাগড়াছড়ির মহালছড়ি এবং দীঘিনালায় এক দিনের ব্যবধানে অপহরণ করা হয় ৪জনকে। এরমধ্যে গত ১৫ এপ্রিল দীঘিনালা বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে নিখোঁজ হন কলেজ ছাত্র জেরান চাকমা(২১) এবং ১৬ এপ্রিল মহালছড়ির মাইসছড়ি থেকে নিখোঁজ হন কাঠ ব্যবসায়ী মো: সালাহ উদ্দিন (২৮), মহরম আলী (২৭) ও ট্রাকচালক বাহার মিয়া (২৭)। জিরান দীঘিনালার কৃপাপুর গ্রামের এবং বাকী তিন জন মাটিরাঙ্গার আদর্শ গ্রাম ও নতুন পাড়ার বাসিন্দা।

এদিকে জিরানের বিষয়ে কেউ কথা বলতে না চাইলে কাঠ ব্যবাসায়ীসহ বাকি তিনজনকে অপহরণ করা হয়েছে বলে দাবি পরিবারের। তারা বলছেন নিখোঁজদের উদ্ধারে পুুলিশের তেমন তৎপরতা নেই।

জানা যায়, গত ১৬ এপ্রিল খাগড়াছড়ির মহালছড়ির মাইসছড়ি এলাকায় কাঠ কিনতে গিয়ে নিখোঁজ হন তিন যুবক। তারা হলেন মাটিরাঙ্গা উপজেলার নতুনপাড়া এলাকার মো. খোরশেদ আলমের ছেলে মো. সালাহ উদ্দিন (২৮), মৃত- আবুল কাশেমের ছেলে মহরম আলী (২৭) ও আদর্শ গ্রামের বাসিন্দা ট্রাকচালক বাহার মিয়া (২৭) নিখোঁজ হন। পরিবারের অভিযোগ তাদের অপহরণ করা হয়েছে। অপহরণকারীরা ২৫হাজার টাকা নিয়ে গেলেও এখনো অপহৃতদের মুক্তি দেয়নি।

এ ঘটনায় নিখোঁজ সালাউদ্দিনের বাবা মো: খোরশেদ আলম মাটিরাঙ্গা থানায় একটি জিডি করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘পুলিশ প্রথম দিকে তৎপরতা দেখালেও এখন আর কোন তৎপরতা দেখছি না। আমাদের সন্তানদের নিয়ে কারো কোন মাথা ব্যাথা নেই।’

এদিকে ঘটনার প্রতিবাদে বাঙালি সংগঠনগুলো মিছিল, সমাবেশ, হরতালের মত কর্মসূচি পালন করেছে।

বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাঈন উদ্দিন বলেন, গত ছয় বছরে ২৮ জন মোটর সাইকেল চালক এ পর্যন্ত নিখোঁজ হয়েছে। এর মধ্যে তিন জনের লাশ ছাড়া বাকীদের আজও সন্ধান মেলেনি। আমরা তিন বাঙালি ব্যবসায়ীর মুক্তি চাই। অন্যথায় সহসা কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও জানান তিনি।

মাটিরাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ সৈয়দ মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। প্রযুক্তির ব্যবহারে আমাদের কাছে অনেক তথ্য রয়েছে। আশা করি সহসা ভালো কোন খবর দিতে পারবো।

অপর দিকে গত ১৫ এপ্রিল রবিবার বিকালে জেরান চাকমা দীঘিনালা বাস স্টেশন থেকে অটোরিক্সা করে বাড়ি যাওয়ার পথে কয়েকজন পাহাড়ি যুবক তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। ওই অটোরিক্সা চালক বিষয়টি পরিবারে জানানোর পর থেকে খোঁজাখুজি করার পরও তার কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি।

জেরান দীঘিনালা উপজেলার কৃপাপুর গ্রামের সুনীতি রঞ্জন চাকমার ছেলে। সে খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজের ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের ছাত্র বলে জানা গেছে। তবে স্থানীয় একটি সূত্র জেরান চাকমার নিখোঁজের সাথে আঞ্চলিক একটি দলের সম্পৃক্ততার কথা বলা হচ্ছে। তবে এই বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে কথা বলতে রাজি হননি। সূত্রটি বলছে ভয় ও জেরানকে জীবিত পাওয়ার আশায় তারা এই বিষয়ে কথা বলছে না।

খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম এম সালাউদ্দিন বলেন, মহালছড়ি থেকে নিখোঁজ তিনজনকে উদ্ধারে আমরা আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছি। তবে দীঘিনালা জেরানের বিষয়ে আমাদের কাছে কেউ অভিযোগ করেনি। তারপরও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

আরো দেখুন

লংগদু মনোরম বিহারে ২১তম কঠিন চীবর দানোৎসব

লংগদু বামে আটারকছড়া মনোরম বৌদ্ধ বিহারে ২১তম দানোত্তম কঠিন চীবর দানোৎসব ২০১৮ উদ্যাপন উপলক্ষে মহতি …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

1 × five =