নীড় পাতা / ব্রেকিং / এক ‘মার্ডার’র জবাবে ‘ডাবল মার্ডার’ !

এক ‘মার্ডার’র জবাবে ‘ডাবল মার্ডার’ !

বুধবার রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলায় ইউপিডিএফের এক সদস্যকে গুলি করে হত্যা করার ২৪ ঘন্টার মধ্যে পাল্টা প্রতিশোধ হিসেবে জনসংহতি সমিতি(এমএনলারমা)’র দুই কর্মীকে হত্যা করেছে ইউপিডিএফ,এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে ! ফলে ২৪ ঘন্টার মধ্যেই একসময় ইউপিডিএফ এর শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে এবং সম্প্রতি নিয়ন্ত্রন ‘আলগা’ হয়ে পড়া নানিয়ারচর উপজেলায় অন্তত: ৩ জনের মৃত্যুর ঘটনার নিশ্চিত করেছে বিভিন্নসূত্র। রাঙামাটি হাসপাতাল মর্গে বৃহস্পতিবার সকাল অবধি দুইজনের মৃতদেহ আনা হয়েছে, ৩ জনের মৃত্যুই নিশ্চিত করেছে আইনশৃংখলাবাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। জনসংহতি সমিতি (এমএনলারমা)’র কেন্দ্রীয় নেতা সুদর্শন চাকমাও নিজেদের ২ কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন। তিনি এই ‘ডাবল মার্ডার’ এর জন্য ইউপিডিএফকে দায়ি করেছেন। তবে যোগাযোগ করেও অভিযোগের জবাব জানা যায়নি ইউপিডিএফ এর পক্ষ থেকে।

গত বুধবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে নানিয়ারচর উপজেলার ২ নং সাবেক্ষং ইউনিয়নের ফরেস্ট অফিস এলাকায় ইউপিডিএফ সদস্য জনি তঞ্চঙ্গ্যা (৪০)কে গুলি করে হত্যা করে যায় একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত। ইউপিডিএফ সমর্থিত পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের রাঙামাটি জেলার সভাপতি কুনেন্টু চাকমা এ হত্যাকান্ডের এ ঘটনায় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (এমএনলারমা)’কে দায়ী করেছিলেন।

যদিও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (এমএনলারমা) অন্যতম শীর্ষ নেতা ও নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান এডভোকেট শক্তিমান চাকমা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এসব ইউপিডিএফের মিথ্যা অপপ্রচার, ভাওতাবাজি। তারা হত্যা,গুম,খুনের রাজনীতি করে,আমরা নই।

এই ঘটনার কয়েকঘন্টার মধ্যে জনসংহতি সমিতি (এমএনলারমা)র কর্মী পঞ্চায়ন চাকমা ওরফে সাধন চাকমা (৩০) ও কালোময় চাকমা (২৯ )কে পেরাছড়া এলাকা থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায় ইউপিডিএফ,এমন অভিযোগ করে সংগঠনটির অন্যতম শীর্ষ নেতা সুদর্শন চাকমা জানিয়েছেন, তাকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার পর হত্যা করে তার গলাকাটা লাশ কেঙ্গালছড়ি এলাকায় একটি সেতুর উপর ফেলে যায় ইউপিডিএফ এর সন্ত্রাসীরা। এর কয়েকঘন্টা পরই একটি স্কুলের পেছনে কালোময় চাকমার গুলিবিদ্ধ লাশ ফেলে রেখে যায়। তিনি এই ডাবল মার্ডারের জন্য ইউপিডিএফকে দায়ি করেছেন। নিহত পঞ্চায়ন চাকমার বাড়ি নানিয়ারচর উপজেলার সাবেক্ষ্যং ইউনিয়নের মগাছড়া গ্রামে এবং তিনি শশী বিকাশ চাকমার পুত্র বলে জানিয়েছেন তিনি। কালোময় চাকমা একই উপজেলার যগনাথলি এলাকার নির্মল কান্তি চাকমার পুত্র।

সুদর্শন চাকমা অভিযোগ করে বলেছেন, ‘সম্প্রতি সন্তু লারমার জনসংহতি সমিতি ও প্রসিক বিকাশ খীসার ইউপিডিএফ এর মধ্যে যে সমঝোতা হয়েছে,তারই অংশ হিসেবে তাদের পারস্পরিক যোগসাজশে এই হামলা শুরু হয়েছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও উপজেলা নির্বাচনকে টার্গেট করে পাহাড়ে অস্থিতিশীলতা তৈরির জন্যই এসব করা হচ্ছে’ বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

ইউপিডিএফ মুখপাত্র নিরন চাকমাকে তাদের বক্তব্য জানার জন্য বারবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বৈসাবির শুভেচ্ছা জানিয়ে ইমেইলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হলেও বুধবার নিজেদের কর্মী হত্যা কিংবা বৃহস্পতিবারের ‘ডাবল মার্ডার’ নিয়ে কোন বিবৃতি পাঠায়নি সংগঠনটি। মোবাইলে যোগাযোগ করেও পাওয়া যাচ্ছে না সংগঠনটির কোন মুখপাত্রকেই।

নানিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল লতিফ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, নানিয়ারচর উপজেলায় পাল্টাপাল্টি হামলায় দুইদিনে তিনজন মারা গেছেন। নিহতদের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাঙামাটিতে আনা হয়েছে। পাহাড়ের আঞ্চলিক দলগুলোর অন্তঃকোন্দলের জন্য এই তিনজনকে হত্যাকান্ড হতে পারে বলে ধারণা করছেন ওসি।

 

আরো দেখুন

নানিয়ারচরে দুই ইউপিডিএফ কর্মীকে গুলি করে হত্যা

‘দলত্যাগ’ করে ইউপিডিএফ-এ যোগ দেয়ার ‘অপরাধে’ দুই কর্মীকে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে সংস্কারপন্থী হিসেবে পরিচিত …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

eleven + seventeen =