ঊষাতন অতিথি, তাই অনুপস্থিত আওয়ামীলীগ !


প্রকাশের সময়: আগস্ট 14, 2017

ঊষাতন অতিথি, তাই অনুপস্থিত আওয়ামীলীগ !

শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমীতে রাঙামাটিতে ব্যাপক আয়োজন থাকলেও অতিথি সারিতে আওয়ামীলীগের কোনও নেতৃবৃন্দ উপস্থিত না থাকায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। সরকারের বিভিন্ন দায়িত্বে থাকা রাঙামাটি আওয়ামীলীগের গুরুত্বপূর্ণ চারজন নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও কাকতালীয়ভাবে এদিন একজনও উপস্থিত হননি। এতে অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তবে অনেকেই আবার দুষছেন আয়োজকদের ব্যর্থতাকেই। অতিথি তালিকায় ‘দীপংকর তালুকদার’এর না থাকা ও ‘ঊষাতন তালুকদার’ থাকার কারণেই আওয়ামীলীগ এর গুরুত্বপূর্ণ নেতারা এবারের জন্মাষ্টমীর কর্মসূচীতে অংশ নেয়া থেকে বিরত ছিলেন বলে দাবি করছে দায়িত্বশীল সূত্রগুলো।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছরের মতো এবারও জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে গর্জনতলী অখন্ডমন্ডলি মন্দিরে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সভা আহ্বান করা হয়। সভায় অতিথি নির্বাচনের জন্য পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। সিদ্ধান্তানুযায়ী, নেতৃবৃন্দ এবারের অনুষ্ঠানের উদ্বোধক হিসেবে পুরোহিত কল্যাণ সমিতির সভাপতি নির্মল চক্রবর্তী ও সম্পানিত অতিথি হিসেবে দুই সাংসদ ফিরোজা বেগম চিনু ও ঊষাতন তালুকদারকে অতিথি করে। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে জেলা প্রশাসক মো. মানজারুল মান্নান, পুলিশ সুপার সাঈদ তারিকুল হাসান, আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য হাজি কামাল উদ্দীন, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হাজি মুছা মাতব্বর, পৌর মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অরুণ কান্তি চাকমাকে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানায়। কিন্তু সোমবারের অনুষ্ঠানে শুধুমাত্র স্থানীয় সাংসদ ঊষাতন তালুকদার, উদ্বোধক নির্মল চক্রবর্তী ও এসপি’র প্রতিনিধি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শহীদুল্লাহ ছাড়া আর কেউই উপস্থিত থাকেননি।

পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন মন্দিরের কমিটির সাথে আলোচনা করে জানা যায়, মূলত অনুষ্ঠানে দীপংকর তালুকদারকে অতিথি হিসেবে না রাখায় ও ঊষাতন তালুকদারকে অতিথির তালিকায় দেখে বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে আর উপস্থিত হননি। এছাড়া গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন মন্দির থেকে শোভাযাত্রায় যাতে যোগ দেওয়া না হয়, সেজন্য প্রচারণাও চালানো হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে বিভিন্ন মন্দির কমিটি শোভাযাত্রায় অংশ নেননি। বিপরীতে একই সময়ে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি দীপংকর তালুকদার বাসায় কয়েকটি মন্দিরের নেতৃবৃন্দ দীপংকর তালুকদারকে জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা জানাতে দেখা যায়। তবে অন্যান্য বছর এভাবে বিভিন্ন নেতাদেরকে শুভেচ্ছা জানাতে দেখা যায়নি। এদিকে বিভিন্ন মন্দিরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও বর্তমান পূজা উদযাপন পরিষদের অতিথি নির্বাচনকে ভুল অ্যাখায়িত করে। তাদের দাবি, যেহেতু এখনো রাঙামাটির বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি অনুষ্ঠানে দীপংকর তালুকদারকে অতিথি রাখা হয়, সেখানে সনাতনী সমাজের একটি সর্বোচ্চ অনুষ্ঠানেও তাকে অতিথি না রাখাটা বেমানান বলে তারা অভিযোগ করেন। এছাড়া জেলা পরিষদে নিজ সম্প্রদায়ের দুই সদস্য ত্রিদীপ দাশ ও স্মৃতি বিকাশ ত্রিপুরাকে অতিথি না রাখায় অনেকে অনুষ্ঠানে যোগ দেননি বলে জানা গেছে। মূলত অনুষ্ঠানে দীপংকর তালুকদারকে অতিথি না রাখায় অনেক মন্দির থেকে শোভাযাত্রায় অংশ নেয়নি বলে জানা গেছে।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ পাওয়া মহিলা সাংসদ ফিরোজা বেগম চিনু বলেন, আমি রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামে অবস্থান করায় অনুষ্ঠানে যাওয়া হয়নি। অন্য কোনও কারণ ছিলো না বলে তিনি দাবি করেন।

জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হাজি মুছা মাতব্বর বলেছেন, একই সময়ে আমার অন্য একটি মিটিং থাকায় আমি যেতে পারেনি। আওয়ামীলীগের কোনও নেতায় অংশ না নেওয়াটা কোনও পূর্ব পরিকল্পিত নয় বলে তিনি দাবি করেন। তবে অতিথির বিষয়ে আয়োজকরা ভালোভাবে যোগাযোগ করেনি বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

শ্রী গীতাশ্রম মন্দিরের সভাপতি ও সাবেক পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আশীষ দাশগুপ্ত বলেন, পূজা উদযাপন পরিষদের অসহযোগিতাপূর্ণ আচরণ ও জেলা পরিষদের আমাদের সম্প্রদায়ের দুই সদস্য ত্রিদীব দাশ ও স্মৃতি বিকাশ ত্রিপুরাকে অতিথি হিসেবে না রাখায় বিভিন্ন মন্দির থেকে এর প্রতিবাদ জানিয়ে আমরা শোভাযাত্রায় অংশ নিইনি। সকালে দীপংকর তালুকদারকে জন্মাষ্টমী শুভেচ্ছা জানিয়েছি। তিনি বলেন, অনুষ্ঠান নিয়ে প্রত্যেক মন্দিরের সভাপতি/সম্পাদককে ডেকে পূজা উদযাপন পরিষদের সভা করার বিধান থাকলেও মন্দিরের সভাপতি/সম্পাদককেও ডাকা হয়নি। এছাড়া বর্তমান কমিটি মেয়াদও অনেক আগে শেষ হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অমর কুমার দে বলেন, কিছু স্বার্থান্বেষীমহল ঠিকাদারি ব্যবসা ঠিক রাখার জন্য ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। একটি সার্বজনীন অনুষ্ঠান নিয়ে রাজনীতি করা ঠিক না। তিনি বলেন, গত বছর আমরা দীপংকর তালুকদারকে অতিথি করি। প্রতিবছর একেকজনকে সম্মান দেওয়ার জন্য এবার আমরা দুই এমপিকে অতিথি করি। কিন্তু কিছু অতি উৎসাহী মানুষ অতিথি নিয়ে ধোঁয়া তুলে বিভিন্ন মন্দির থেকে শোভাযাত্রা নিয়ে আসতে বাধা ও হুমকি দেয়। এরপরও রাঙামাটির সনাতনী সমাজ সব বাধা উপেক্ষা করে শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছে এবং সুন্দর একটি শোভাযাত্রা আমরা উপহার দিতে পেরেছি। ত্রিদীপ দাশ ও স্মৃতি বিকাশ ত্রিপুরাকে অতিথি না রাখার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা তাদের কাছে বিভিন্ন কাজে গেলে তারা বলেন যে তারা সনাতনী সমাজের প্রতিনিধিত্ব করছেন না।

এ বিষয়ে রাঙামাটির সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার পাহাড়টোয়েন্টিফোর ডট কমকে বলেছেন, আসলে আমন্ত্রিত অতিথিরা কেউ না আসায় আমি নিজেও অস্বস্তিবোধ করেছি। আমি একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও কেন্দ্রীয় হিন্দু, বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের অন্যতম সহসভাপতি, সেখানে আমি উপস্থিত থাকতেই পারি। তা ছাড়া আয়োজক কমিটি আমন্ত্রণপত্রসহ সব জায়গায় আমাকে অতিথি হিসেবে পরে রাখলেও আমি তা কিছু মনে না করে অনুষ্ঠানে গেছি। এভাবে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে রাজনীতি করা ঠিক নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Top advertise


এই সংবাদটিতে আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Notify of
avatar
Sort by:   newest | oldest | most voted
Imran Bin Aziz
Guest

why

wpDiscuz