নীড় পাতা / ফিচার / খোলা জানালা / আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে…….

আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে…….

হিম হিম শীতে ঝলমলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গন। ইউনিফর্মে ঝিলিক নতুনত্বের কারো কারো জামায় এখনো স্পষ্ট আয়রনের ভাঁজ। চুলে সিঁথি করা ঝুটি বেনুনি।সাথে আছে উচ্ছল মা বাবারাও। সন্তানের হাতে নতুন বইয়ের ঘ্রাণের টান টেনে নিয়ে এসেছে তাদেরও। হয়তো খুঁজে ফিরছেন নিজেদের শৈশবও।
পুরোদস্তুর উৎসব আমেজ। বই উৎসব। ছোট ছোট শিশুদের চোখে মুখে অপেক্ষা। কখন আসবে হাতে বই। নতুন বই। ডিসেম্বরের শেষ ধাপে পরীক্ষার ফলাফলের ভয় কাটিয়ে নতুন বছরে নতুন বইয়ের ঘ্রাণ।
যারা একেবারেই নতুন,কেবল পা রাখছে বিদ্যালয়ে তাদের চোখে শংকা উচ্ছাস আছে দুটোয়। মায়ের হাত ধরে গুটি গুটি পায়ে হাজির সবাই।উৎসব কে আরো পরিপূর্নতা দিতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে স্কুল কর্তৃপক্ষের ভিন্ন আয়োজন।কঁচি কঁচি মুখেদের নৃত্যের ঝংকারে উৎসবের পূর্নতা। শিক্ষা জীবনের প্রথম ধাপ আনন্দমুখর আর শিক্ষার্থীদের স্কুল ভীতি দূর করতে এই আয়োজন সর্বেসর্বা। সারাদেশের সাথে একই দিনে আয়োজিত এই উৎসবের আনন্দ এই পাহাড়ে দ্বিগুণ। শিক্ষার্থীরা পাচ্ছে নতুন বই আর সে বই যদি হয় নিজ মাতৃভাষায় নিজ নিজ মুখের ভাষায় আনন্দ ডানা মেলবে আকাশে বাতাসে সেই স্বাভাবিক। ২০১৭ থেকে শুরু হওয়া মাতৃভাষায় শিক্ষা কার্যক্রমের অধীনে পার্বত্য অঞ্চলে নিজ নিজ মাতৃভাষায় বই পেয়েছিলো প্রাক প্রাথমিকের চাকমা মারমা ত্রিপুরা শিক্ষার্থীরা। এ বছর তারা পেয়ে যাচ্ছে প্রথম শ্রেণীর বই,নিজ মাতৃভাষায়।সাথে এ বছরের প্রাক প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরাতো আছেই। বাংলা ভাষার শিক্ষার্থীরা পাবে বাংলা ভাষার বই আর চাকমা ত্রিপুরা মারমা শিক্ষার্থীরা পাচ্ছে স্ব স্ব মাতৃভাষার বই। উৎসব শহর জুড়ে।
বনরূপা মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে হাজির মাধুরী চাকমা সাথে সদ্য প্রাক প্রাথমিকে ভর্তি হওয়া নাতনী জিনাকো চাকমা। বাবা মা নয় স্বয়ং নিজে সাথে করে নিয়ে এসছেন নাতনী কে,নিজ মাতৃভাষায় বুনা নতুন বইয়ের ঘ্রাণ মেখে নেয়ার তর সইছিলোনা যেন।উচ্ছাস্বেই জানান দিলেন,’আমরা পড়তে পারিনি তাতে কি,আমার নাতনী পড়বে পরের প্রজন্ম পড়বে আমাদের বর্ণমালা বাঁচবে”।
আছে সীমাবদ্ধতাও। বলছিলেন বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা উৎপলা চাকমা।চাকমা শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ মাতৃভাষায় শিক্ষা পেলেও পিছিয়ে থাকছে মারমা এবং ত্রিপুরা শিক্ষার্থীরা। শিক্ষকের অভাবে।হাতে বই থাকছে তবে পারছেনা পড়তে। কেউ কেউ গৃহশিক্ষকের সান্নিধ্যে শিক্ষা গ্রহন করতে পারলেও অধিকাংশই থাকছে পিছিয়ে। সদ্য চালু হওয়া এই মাতৃভাষা শিক্ষাকার্যক্রম খুব দ্রুত কাটিয়ে উঠবে সীমাবদ্ধতা এমনটাই আশা করেন শিক্ষার্থী অভিভাবক এবং শিক্ষকরাও।
শহর রাঙামাটি সহ ১০টি উপজেলায় প্রত্যেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকমা মারমা ত্রিপুরা শিক্ষার্থীর হিসেবে মাতৃভাষায় পুস্তক বিতরণের সংখ্যা ২৪৪২৮টি। রাঙামাটি সদরের ৪০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই সংখ্যা ৩৯২১টি। প্রথম শ্রেনীর শিক্ষার্থীরা পাচ্ছে নিজ ভাষায় বাংলা ইংরেজী এবং গনিত বইও।বইয়ের সীমাবদ্ধতা নেই যা আছে তা ওই শিক্ষকের সীমাবদ্ধতাটুকুই।
সীমাবদ্ধতা থাক থাকুক জড়তা তবুও হাতে আছে নতুন বই। নিজ ভাষায় নতুন বইয়ের ঘ্রাণে মাতোয়ারা উচ্ছল কিছু মুখ। আছে উচ্ছ্বল বাংলা ভাষাভাষী শিশুরাও।বই হাতে পেয়েই বুকে জড়িয়ে ছুট স্বভাব দূরন্তপনায়, ঘরে ফিরেই বসাতে হবে মলাট।পাশে সতর্ক মা/বাবা। নতুন বইয়ে আঁচ যেন না লাগে।
আমাদের আগামী এগিয়ে যাবে নিজস্ব সংস্কৃতিতে ঐতিহ্যে ভালোবাসায় সুশিক্ষায়……….উচ্ছল প্রাণের হাসিতে মুখের কোণে চিলতে ভেসে উঠে নিজের শৈশব।আহ শৈশব।আহ মাতাল ঘ্রাণ।আহা কি আনন্দ………

আরো দেখুন

রাঙামাটি শহরে আওয়ামীলীগ-বিএনপি সংঘর্ষে আহত ৮

পার্বত্য শহর রাঙামাটিতে নির্বাচনী পথসভাকে কেন্দ্র করে আওয়ামীলীগ ও বিএনপির কর্মীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার …

One comment

  1. এগিয়ে যাও #তানিয়া_এ্যানি
    আর খবর পরতে চায় তোমার

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

6 + 2 =