আশ্রয় কেন্দ্রের আশ্রিত ভবিষ্যৎ…


আসিফ মাহমুদ হাসান মাহির, প্রকাশের সময়: জুলাই 5, 2017

আশ্রয় কেন্দ্রের আশ্রিত ভবিষ্যৎ…

আজ ৬ জুলাই বৃহস্পতিবার থেকেই শুরু হচ্ছে রাঙামাটির বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অর্ধবার্ষিকী পরীক্ষা। রাঙামাটি শহরের কয়েক হাজার স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে। পিছিয়ে নেই রাঙামাটির পাহাড় ধসের ঘটনার পর আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়া বিপন্ন পরিবারগুলোর বিভিন্ন স্কুলে পড়ুয়া শিক্ষার্থীরাও। তারাও প্রস্তুতি নিচ্ছে পরীক্ষার।
আশ্রয় কেন্দ্র গুলোর মধ্যে বি.এ.ডি.সি এবং রাঙামাটি বেতার কেন্দ্র থেকেই আজ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থী। তাদের অনেকেই আশ্রয় কেন্দ্রের কোন এক অফিসের টেবিলের উপর, কেউবা ফ্লোরে বসে, কেউবা চাটাই পেতে, যে যেখানে যেভাবেই পারছে প্রস্তুতি নিচ্ছে আগত পরীক্ষার। বুধবার আশ্রয়কেন্দ্রে এমন চিত্রই দেখা গেছে সরেজমিন ঘুরে।

রাণী দয়াময়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী শাহিদা আক্তার রাখি। বৃহস্পতিবার তার ইংরেজি প্রথম পত্র পরীক্ষা। জানতে চেয়েছিলাম তার প্রস্তুতি কেমন পরীক্ষার। ‘ভালো..’ বলেই একটু থেমে বললো-‘পড়তে পারিনি এত দিন। আজকেই পড়তে বসেছি পরীক্ষার জন্য। পড়ায় মন বসেনা এইখানে। স্কুল থেকে বই দিয়েছে কয়েক দিন আগে। তা দিয়েই পড়ছি। গাইড বা সহায়ক কোন বই নেই যে ঐখান থেকে পড়া দেখবো। পড়া বুঝতে অনেক অসুবিধা হচ্ছে। প্রথম পরীক্ষাটা হয়তো ভালো হবে না। ‘জিজ্ঞাস করলাম,প্রথমে ভালো বললে কেনো? ‘বলতে বলতে অভ্যাস হয়ে গেছে।’

আশ্রয়কেন্দ্রের অনেক শিক্ষার্থী ক্লাসে খুব মেধাবী হিসেবেই পরিচিত, অনেকেই আছে যারা ক্লাসে প্রথম বা দ্বিতীয়। যাদের প্রস্তুতি সবসময় ভালো থাকে। কিন্তু এবারের কথাযে আলাদা। একজনের কাছে জানতে চেয়েছিলাম আগামীকাল কি পরীক্ষা। কিছুক্ষণ মাথা চুলকে উত্তর দিয়েছিল,”জানি না। স্কুলে যায়নি আর ঘর ভাঙ্গার পর থেকে।

“এরা তো এমন ছিল না। এ সময় যা এদের আজ এই ধরণের এক পরিস্থির মুখে ছুড়ে দিয়েছে। একজনের কাছে জানতে চেয়েছিলাম কাল পরীক্ষায় কি নিয়ে যাবে ফাইল,রুলার,কলম,জ্যামিতি বক্স,ক্যালকুলেটর?? “ওই সব বাসা যখন ছিল তখন ছিল। কাল শুধু কলম কিনে নিয়ে যাবো।”
এদের কিছুদিন আগেও ছিল সব আর এখন কিছুই নেই। অনেকের গণিত পরীক্ষা নেই জ্যামিতি বক্স, রুলার। ইংরেজি যাদের অনেকেই Model Question বই ছাড়াই মেইন বইয়ের পাতা উল্টাচ্ছে। ৯ম ও ১০ম শ্রেণীর বিভিন্ন বিভাগে পড়া শিক্ষার্থীদের নেই অংক করার জন্য ক্যালকুলেটর,পড়া বোঝার জন্য সহায়ক কোন বই। গৃহহারা এই কোমল মতি শিশুরা এইভাবেই পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে আশ্রয় কেন্দ্রে।

এদের সবার মনেই হাজারো স্বপ্ন।অনেকেরই স্বপ্ন দেশকে নিয়ে, দেশের মানুষ কে নিয়ে। ছোট্ট একটা শিশুর কাছে জানতে চেয়েছিলাম,বড় হয়ে কি হতে চায় সে? ছোট্ট কঁচি মুখে উত্তর দিলো “ডাক্তার হয়ে গরিব মানুষ গুলোর চিকিৎসা করবো,টাকা নিবোনা।” এদের মনে এখন থেকেই দেশের জন্য কিছু করার চিন্তা। তারাই এক দিন দেশের হাল ধরবে, আজ তাদেরই বেহাল অবস্থা।

আশ্রয় কেন্দ্রের এই আশ্রিত দেশের ভবিষ্যৎদের ভবিষ্যৎ এর জন্য আমরা কি কিছু করতে পারি না? আজ যদি আমরা করি কিছু তাদের জন্য, কাল তারা করবে পুরো দেশের জন্য। আজ যদি তাদের পাশে আমরা দাঁড়াই তাদের প্রয়োজনে, তারাও হয়তো একদিন ঝাপিয়ে পরবে দেশের জন্য আমাদের প্রয়োজনে।।

লেখক : আসিফ মাহমুদ হাসান মাহির, শিক্ষার্থী,চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

সংবাদটি শেয়ার করুন

Top advertise


এই সংবাদটিতে আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Notify of
avatar
wpDiscuz