নীড় পাতা / পাহাড়ের রাজনীতি / ‘আমার চাওয়া পাহাড়ে শান্তি বজায় থাকুক’

‘আমার চাওয়া পাহাড়ে শান্তি বজায় থাকুক’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কে বাঙালি, কে পাহাড়ি-আমার কাছে সেটি বিবেচ্য নয়। আমরা চাওয়া সারাদেশের মত পাহাড়েও শান্তিবজায় থাকুক। রোববার সকালে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলের অনুলিপি গ্রহণ করে বান্দরবান জেলা প্রশাসন ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কথা বলার সময় তিনি একথা বলেন।

শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানদের নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ফলাফলের অনুলিপি তুলে দেন। এতে দেখা গেছে, এবার এসএসসি ও সমমানে ৭৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ পরীক্ষার্থী পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৬২৯ জন।

গতবছর পাসের হার ছিল ৮০ দশমিক ৩৫। আর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ৪ হাজার ৭৬১ জন। সেই হিসাবে এবার পাসের হার কমলেও জিপিএ-৫ বেড়েছে ৫ হাজার ৮৬৮ জন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এবার পাসের হার কিছুটা কম। তবে এটি হতাশাজনক নয়। আমি ছাত্রছাত্রীদের বলব- এবার পাস করনি বলে হতাশ হওয়া চলবে না। আরও উৎসাহী হয়ে পড়াশোনায় মন দিতে হবে।’

তিনি অভিভাবক এবং শিক্ষকদেরও ছেলেমেয়েদের প্রতি আরও মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন। বলেন, ‘কেউ অকৃতকার্য হলে বকাঝকা দিয়ে লাভ নেই। তাদের অনুপ্রাণিত করতে হবে, তারা যেন ভবিষ্যতে ভালো করতে পারে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘স্বল্পোন্নত থেকে আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত রাখতে হলে নতুন প্রজন্মকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘এবার ৭৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে, এটি একটি সফলতা। আমি তাদের সবাইকে অভিনন্দন জানাই। যারা পাস করতে পারেনি, তাদেরও অভিনন্দন জানাই। যারা অকৃতকার্য হয়েছে, তারাও তো চেষ্টা করেছে।’

প্রধানমন্ত্রী বরিশাল ও বান্দবান জেলা প্রশাসন ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কথা বলা ছাড়াও দুটি জেলার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

বান্দরবান জেলার প্রতিনিধিদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের সময় শেখ হাসিনা বলেন, ‘পাহাড়ে শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখতে সবাইকে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে। তাহলেই আমরা উন্নয়নের সুফল ভোগ করতে পারব। সরকার সারাদেশের মত পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নের ব্যাপারে সজাগ রয়েছে।’

সুযোগ পেলে পার্বত্য অঞ্চলে ঘুরতে যাওয়ার কথাও বলেন তিনি।

প্রসঙ্গত, বিগত দুই মাসে পার্বত্য জেলাগুলোতে হত্যা বেড়ে গেছে। এ সময়ে বিভিন্ন দলের অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা শক্তিমান চাকমাকে দুর্বৃত্তরা দিনে-দুপুরে গুলি করে হত্যা করে।

পরের দিন শুক্রবার তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যোগ দিতে খাগড়াছড়ি থেকে নানিয়ারচর যাওয়ার পথে গাড়িবহরে দুর্বৃত্তরা ব্রাশফায়ার করলে ঘটনাস্থলেই ইউপিডিএফ নেতা তপন জ্যোতি চাকমাসহ ৫ জন নিহত হন।

এদিকে, বরিশাল জেলা প্রশাসন ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে বরিশালকে আবারও বাংলার শস্য ভান্ডার হিসেবে গড়ে তুলতে তার সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘বরিশাল এক সময় বাংলার শস্য ভান্ডার ছিল, আবারও বরিশালকে বাংলার শস ভান্ডার হিসেবে গড়ে তোলা হবে।’
খবর: বাসস।

আরো দেখুন

লংগদু মনোরম বিহারে ২১তম কঠিন চীবর দানোৎসব

লংগদু বামে আটারকছড়া মনোরম বৌদ্ধ বিহারে ২১তম দানোত্তম কঠিন চীবর দানোৎসব ২০১৮ উদ্যাপন উপলক্ষে মহতি …

One comment

  1. কারা পাহাড়ে মূল অশান্তি সৃষ্টিকারী?পাহাড়ের জনগণ টা ভালো ভাবে বুঝে গেছে।পার্বত্য চট্টগ্রামে নিয়োজিত নিরাপত্তা/রক্ষক নাক বক্ষরা চুনুবাহিনীরা মূল অশান্তি সৃষ্টকারী।পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে চুনুবাহিনী প্রত্যাহার করে নাও,নিতে হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

nine − 9 =