আওয়ামীলীগের সংকট ‘সম্পাদক পদ’ আর বিএনপি’র সমস্যা ‘সমীরণ’


বিশেষ প্রতিনিধি, খাগড়াছড়ি প্রকাশের সময়: জুলাই 27, 2017

আওয়ামীলীগের সংকট ‘সম্পাদক পদ’ আর বিএনপি’র সমস্যা ‘সমীরণ’

পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির রাজনীতি বরাবরই সংকটাপন্ন। কী আওয়ামীলীগ, কী বিএনপি; দুই প্রধান দলের মধ্যেই আছে সমস্যা। দীর্ঘদিন ধরে ‘সাধারণ সম্পাদক পদ’ নিয়েই যত ব্যতিব্যস্ত আওয়ামীলীগ আর বিএনপিতে সংকট ‘সমীরণ দেওয়ান’ গ্রুপ। আওয়ামীলীগ বলছে, সংকট কাটিয়ে আওয়ামীলীগ ঠিক গতিতেই এগিয়ে চলছে। বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, সমীরণ দেওয়ান বিএনপিতে কোন ফ্যাক্টরই নন। বিএনপি চলছে গনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায়। এরমধ্যেই জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিকভাবে দল গোছানোর কাজে ব্যস্ত দুই প্রধান দল। নিজেদের মধ্যে সমন্বয়হীনতার মধ্যেও জাতীয় পার্টি চালাচ্ছে নির্বাচনী তৎপরতা। নির্বাচনকে মাথায় রেখে আঞ্চলিক পাহাড়ি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস-এমএন লারমা) নিরবে ভোটের মাঠ গোচাচ্ছে। গোপনে সংঘবদ্ধ জামাত-শিবির এর সাথে বিএনপি‘র একতা ব্যতিত পাহাড়ের বিশেষ প্রেক্ষাপটের কারণে অন্যান্য দলগুলোর মধ্যে মেরুকরণের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। মূলত: খাগড়াছড়িতে সাম্প্রদায়িক নানা প্রচারণা, আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহন এবং বিশেষ শ্রেণির নিজস্ব কৌশলের কারণে সারাদেশের চেয়ে আলাদা পরিস্থিতির মধ্যেই এখানকার নির্বাচনগুলো হয়ে উঠে চ্যালেঞ্জিং (ক্রিটিক্যাল)। ফলে আগামীতেও খাগড়াছড়ি জেলার ২৯৮নং একমাত্র আসনটিতে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া যে কোন দলের বা প্রার্থীর জন্যই জটিল হয়ে উঠতে পারে।
আওয়ামীলীগ:
সামগ্রিকভাবে খাগড়াছড়িতে আওয়ামীলীগের বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে যেন সাধারণ সম্পাদক পদটিই। ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে জেলা সাধারণ সম্পাদক হয়েও জাহেদুল আলম স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন। সে কারণে দল থেকে ছিটকে পড়ার পরও পরবর্তীতে ‘বাঙ্গালী নেতৃত্ব’ এর অজুহাতে ফের তাকে দলে টানা হয়। সর্বশেষ দুটি পৌরসভা নির্বাচনে তাঁরই ছোট ভাই রফিকুল আলম আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থীর বিপক্ষে নির্বাচন করে জয়ী হন। দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার কারণে আবারও জাহেদুল আলমকে বহিস্কারের প্রস্তাব যায় কেন্দ্রে। দীর্ঘ প্রায় এক বছরের মত সময় ধরে তার বহিস্কারাদেশ নিয়ে দোদুল্যমান থাকায় আওয়ামীলীগের মূলধারার সাথে জাহেদুল আলম গ্রুপের দ্বন্ধ দেখা দেয়। আওয়ামীলীগের মূল অংশের পাশাপাশি জাহেদুল আলম নেতৃত্বেও কর্মসূচি পালিত হয়ে আসছিল। আওয়ামী বিরোধি তৎপরতার কারণে তার ছোট ভাই মেয়র রফিকুল আলম সমর্থকদের সাথে আওয়ামীলীগ সমর্থকদের প্রায়ই সংঘর্ষ ঘটে। অনেকেই আহত হন। মেয়র রফিকুল আলম ও তার ক্যাডারদের ভয়ে অনেক আওয়ামীলীগ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা এলাকাছাড়া হয়। হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন। পঙ্গু হয়ে অনেকে ঘরবন্ধি রয়েছেন। পাল্টা হামলা-মামলার ঘটনায়ও জাহেদ-রফিকের বহুলোক ক্ষতিগ্রস্থ হন।
এরমধ্যেই আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় বর্ধিত সভার পর মৌখিকভাবে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয় জেলার যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক এসএম শফিকে। দীর্ঘদিন পর হলেও নেতাকর্মীদের মধ্যে আশার সঞ্চার হলেও ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক দলীয় কাজে যুক্ত না হওয়ায় সংকট আবারও ঘনীভূত হয়। ‘যেই লাউ সেই কদু’ অবস্থা হয়েছে বলে মনে করেন অনেক ত্যাগি নেতাকর্মী।
আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেছেন, বড় ভাই জাহেদুল আলম সাময়িক বহিস্কৃত হলেও ছোট ভাই মেয়র রফিকুল আলম নিজেকে আওয়ামীলীগার হিসেবে দাবী করে পৃথক কর্মসূচি পালন করায় সংকট নতুন রূপ নিতে শুরু করেছে। দলের কেউ না হয়েও রফিকুল আলমের নেতৃত্বেও আওয়ামীলীগের ব্যানারে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়। মূলধারার পাশাপাশি পৃথক ব্যানারে কর্মসূচি হওয়ায় খাগড়াছড়িতে আওয়ামীলীগের ভাবমূর্তি ও সুনাম নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী নেতা ও মাটিরাঙ্গা পৌরসভার মেয়র সামছুল হক অভিযোগ করেছেন, ‘জাহেদুল আলমকে যে কারণে বহিস্কৃত করা হয়েছে এসএম শফিও একই অভিযোগে অভিযুক্ত। তিনিও পৌরসভা নির্বাচনে নৌকার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। তবুও কেন্দ্র থেকে সিদ্ধান্ত দেয়ায় আমরা তাকে সাদরে বরণের অপেক্ষায়। নিজেও দু‘বার তাকে ফোনে অনুরোধ জানিয়েছি। অথচ এতদিনেও তিনি আওয়ামীলীগের কোন কাজেই অংশ নেননি।’
জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি রণ বিক্রম ত্রিপুরা জানান, ‘জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি টেলিফোনে তাকে (এসএম শফি) ডাকলেও সাড়া দেননি। আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠানসহ কয়েকটি কর্মসূচিতেই তিনি অনুপস্থিত থাকায় দলের নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যাঘাত ঘটছে। দলীয় কর্মসূচি পালিত হলেও সাংগঠনিক কাজে স্থবিরতা নামার আশংকা দেখা দিয়েছে।’
এ ব্যাপারে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বপ্রাপ্ত এসএম শফি বলেছেন, ‘গঠনতন্ত্রের ৩৯ ধারা অনুযায়ী জাহেদুল আলমের অনুপস্থিতিতে আমাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। যেখানে সমন্বয় করা দরকার, সেখানেই সমন্বয় করার চেষ্টা চলছে। গ্রুপিং চাইনা বলেই পার্টি অফিসে বসে কাজ করছি। কোন বাসা বা সরকারি ভবনে দলীয় কাজ চলতে পারেনা।’
এদিকে পাহাড়ের পুঞ্জিভূত দীর্ঘদিনের সংকট নিরসনে পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষরকারি দল আওয়ামীলীগ। অথচ ইদানিংকালে সেই দলটিই নির্বাচনে সবচেয়ে বড় বাধার মূখে পড়ছে। স্থানীয় নির্বাচনগুলোতেও আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলোর কাছেও হেরে যাচ্ছে। উপজেলা নির্বাচনে অনেকটাই ভরাডুবি ঘটেছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে অসাম্প্রদায়িক দলের তকমা থাকা আওয়ামীলীগ হেরে বসছে সাম্প্রদায়িক প্রচারণার কাছেই। বিরোধী পক্ষসমূহের উস্কানীমূলক তৎপরতার বিপক্ষে অনেকটা উন্নয়ন আর শান্তির বার্তা দিয়ে উতরে উঠার চেষ্টা করছে ক্ষমতাসীন দলটি। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আওয়ামীলীগের একই পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হতে পারে।
সম্ভাব্য প্রার্থী যারা: আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৮ নং খাগড়াছড়ি আসনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে বর্তমান সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার নামই বেশি আলোচিত হচ্ছে। কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি। প্রাক্তন সংসদ সদস্য যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরাও ফের দলের প্রার্থী হতে আগ্রহী। এছাড়াও জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা রণ বিক্রম ত্রিপুরা, পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী ও পানছড়ি কলেজের অধ্যক্ষ সমীর দত্ত চাকমার নামও শোনা যায়।
রণ বিক্রম ত্রিপুরা জানান, ‘আওয়ামীলীগ করি হিসেবে মনোনয়ন চাইতেই পারি।’ সমীর দত্ত চাকমারও একই কথা। আগ্রহী এই দুই নেতা অবশ্য বলেছেন, দল যাকে মনোনয়ন দেবে তার পক্ষেই আছেন তারা। এদিকে জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক নির্মলেন্দ্র চৌধুরী জানিয়েছেন, সার্বক্ষনিকই জেলার মানুষের সেবা ও উন্নয়নে পাশে থাকায় কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা ছাড়া এই আসনে বিকল্প ভাবছেন না নেতাকর্মীরা।’

বিএনপি: কিছুদিন আগেও বিএনপিতে বড় ধরণের অন্ত: কোন্দল ছিল। এখন সেই আভ্যন্তরীন দ্বন্ধ চোখে পড়ছেনা। বিএনপি‘র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সমীরণ দেওয়ান গ্রুপ অনেকটাই নিস্ক্রীয়। মাঠে সক্রিয় নেই তার সমর্থকরাও। ফলে জেলা বিএনপি‘র সভাপতি ওয়াদুদ ভূইয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি‘র নেতাকর্মীদেরই মাঠে দেখা যায়। গেলো মার্চে কেন্দ্র অনুমোদিত জেলা বিএনপি‘র ১৫১ সদস্যের মধ্যে সভাপতি, সহ-সভাপতি, সম্পাদকসহ ৩১ সদস্যের নামের তালিকায় নেই সমীরণ দেওয়ান গ্রুপের কারোর-ই নাম। তবে বাকি পদপদবীতে ওই গ্রুপের কাউকে অন্তর্ভূক্ত করা হয় কিনা সেটিও দেখার বিষয়। জানা গেছে, কেন্দ্র থেকে সেই বিষয়টি সমন্বয় করা হতে পারে। এরই মধ্যে নবনির্বাচিত জেলা সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মিল্লাত এর অকালে মৃত্যুতে সেই পদটিও শূন্য হয়েছে। কে হবেন পরবর্তী সাধারণ সম্পাদক তা নিয়েও নানা গুঞ্জন চলছে। এ বিষয়ে জেলা বিএনপি‘র যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক অনিমেষ চাকমা রিংকু জানিয়েছেন, ‘সহসাই পূর্নাঙ্গ কমিটির ঘোষনা আসতে পারে। প্রিয়নেতা মিল্লাত ভাইয়ের অকাল মৃত্যুর শোক কাটিয়ে উঠার পরই বৈঠকের সর্বসম্মত মতামত ও কেন্দ্রীয় পরামর্শে সাধারণ সম্পাদক পদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন আমাদের নেতা ওয়াদুদ ভূইয়া।’
সম্ভাব্য প্রার্থী: আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি‘র তৎপরতা থাকলেও চোখে পড়ার মত নয়। এই আসনে বিএনপি‘র শক্তিশালী প্রার্থী জেলা বিএনপি‘র সভাপতি ওয়াদুদ ভূইয়া। তৃনমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ ও কমিটিসমূহ নবায়নের কারণে তার পক্ষেই অবস্থান সুদৃঢ় বলে নেতাকর্মীদের অনেকে জানান। যদিও ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোটের প্রার্থী ছিলেন জেলা বিএনপি‘র তৎকালীন সহ-সভাপতি সমীরণ দেওয়াণ। আগামীতেও প্রার্থী হতে আগ্রহী পার্বত্য জেলা পরিষদের সাবেক এই চেয়ারম্যান। উল্লেখ্য যে, বিশেষ ক্ষমতা আইনে দূর্নীতি মামলায় সাজাভোগের কারণে ২০০৮ সালের নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেননি সাবেক সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়া। তিনি দু‘বারের সংসদ সদস্য এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান।
এ ব্যাপারে জেলা বিএনপি‘র সভাপতি ওয়াদুদ ভূইয়া জানিয়েছেন, সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখেই নয়; গতানুগতিকভাবে দলকে গোছানোর কাজ চলছে। সাথে নির্বাচনের জন্যে সামগ্রিক প্রস্তুতি রয়েছে। তিনি জানান, জরুরী আইন বলবতের কারণে ২০০৮ সালে নির্বাচনে অযোগ্য হলেও এখন সেই সমস্যা নেই। দলের মনোনয়ন নিয়ে তিনি প্রার্থী হতে প্রস্তুত। তবে খাগড়াছড়িতে ক্ষমতাসীন দল ও প্রশাসনের বাঁধার মধ্যেই চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করতে হয় বলে দাবী করেন ওয়াদুদ ভূইয়া।
জাতীয় পার্টি:
জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক অবস্থা লেজেগোবরে। তৃনমূলে দলটি একেবারেই অপ্রস্তুত। গুটিকয়েক নেতাকর্মী সবসময় মাঠে থাকলেও সামগ্রিকভাবে দলের অবস্থা নাজুক। মূলত: জাতীয় সংসদ নির্বাচন এলে দলের কতিপয় নেতাকর্মীরা তৎপর হন। চট্টগ্রাম থেকে ছুটে আসেন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি আলহাজ্ব সোলায়মান আলম শেঠ। তিনি খাগড়াছড়িতে এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি এককভাবে অংশগ্রহন করবে। এজন্য দলীয় নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি নেয়ারও আহবান জানান। আওয়ামীলীগ জোটগত নির্বাচনে গেলে খাগড়াছড়ি আসন থেকে জাতীয় পার্টির এই কেন্দ্রীয় নেতা মনোনয়ন চাইতে পারেন। জেলা জাতীয়পার্টির সভাপতি মো: ইসহাক ও সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ আহমেদ জানান, জাতীয়পার্টি থেকে সোলায়মান আলম শেঠ প্রার্থী হবেন অনেকটাই নিশ্চিত। একই কথা বললেন, কেন্দ্রীয় সদস্য ইঞ্জি: খোরশেদ আলম। উল্লেখ্য বিগত দুটি সংসদ নির্বাচনে খুবই নগন্য ভোট পেয়েছেন চট্টগ্রামের বাসিন্দা সোলায়মান আলম শেঠ।
এদিকে জেলা জাতীয়পার্টির সমন্বয়কারি হিসেবে পরিচয় দেয়া পূর্নজ্যোতি চাকমা জানান, ‘জেলার বাইরের লোক হিসেবে শেঠকে খাগড়াছড়িতে প্রার্থী হিসেবে এরশাদ স্যার এলাউ নাও করতে পারেন। সেক্ষেত্রে কেশব লাল চক্রবর্তী প্রার্থী হবেন।’ কেশব লাল চক্রবর্তী সড়ক বিভাগে চাকুরীসূত্রে এসে মানিকছড়ি উপজেলার বাসিন্দা।
ইউপিডিএফ ও জনসংহতি সমিতি:
আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংগঠন ‘ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট’-ইউপিডিএফ পাহাড়ের ক্যাডারভিত্তিক সংগঠন। ১৯৯৭ সালে জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সাথে সরকারের চুক্তি স্বাক্ষরের বিরোধিতা করে ইউপিডিএফ এর জন্ম ঘটে। প্রথম ২০০১ সালে নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী দেয় এই আঞ্চলিক দলটি। প্রথমবার দলের প্রধান প্রসিত বিকাশ খীসা, ২০০৮ সালে জেলার সমন্বয়কারি উজ্জল স্মৃতি চাকমা এবং সর্বশেষ ২০১৪ সালে ফের প্রসিত খীসা সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন। শুধু প্রার্থীই নয়; ফ্যাক্টরও ছিলেন তারা। তিনটি নির্বাচনেই বিপুল ভোট পেয়েছেন ইউপিডিএফ সমর্থিত প্রার্থীরা। শেষের দুটি নির্বাচনে ইউপিডিএফ প্রার্থীদ্বয় তৃতীয় ও দ্বিতীয় হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও ইউপিডিএফ এর শীর্ষনেতা প্রসিত বিকাশ খীসা প্রার্থী হচ্ছেন অনেকটাই নিশ্চিত। অন্যদিকে সন্তু লারমা‘র নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি এই আসনে কখনো প্রার্থী দেয়নি। তবে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (এমএন লারমা) অংশের মৃনাল কান্তি ত্রিপুরা ফের প্রার্থী হবার সম্ভাবনা রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Top advertise


এই সংবাদটিতে আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Notify of
avatar
Sort by:   newest | oldest | most voted
Md Alimullah
Guest

ব্যাপার না

wpDiscuz