নীড় পাতা / পাহাড়ের সংবাদ / খাগড়াছড়ি / অচল রাবার ড্যামে দুশ্চিন্তায় ১৩শ কৃষক পরিবার

অচল রাবার ড্যামে দুশ্চিন্তায় ১৩শ কৃষক পরিবার

নির্মাণের চার বছরের মাথায় অকেজো হয়ে পড়েছে খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার রাবার ড্যামটি। উপজেলার শান্তিপুর এলাকায় চেঙ্গী নদীর ওপর নির্মিত ড্যামটির রাবার ফেটে গেছে। এছাড়া রাবার ড্যাম ঘিরে নদী তীরবর্তী বাঁধগুলো অনেক জায়গায় ধস নেমেছে।

কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা, রক্ষণাবেক্ষণে অবহেলার ফলে রাবার ড্যাম অকেজো হয়ে যাওয়ায় চলতি বোরো এবং মৌসুমী শাক-সবজি চাষের প্রয়োজনীয় সেচ সুবিধা নিয়ে কৃষকদের মাঝে দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে। জেলার পানছড়ির চেঙ্গী নদীর ওপর নির্মিত রাবার ড্যামের পানি দিয়ে বছরের এমন সময়ে অধিকাংশ জমিতে বোরো আবাদে কৃষকের ব্যস্ততম উপস্থিতি থাকার কথা থাকলেও পানছড়ির সদর, লতিবান এবং উল্টাছড়ি ইউনিয়নের অধিকাংশ বিলের চিত্র ভিন্ন। মূল সড়ক লাগোয়া বিশালাকার মির্জা বিলে কয়েকটি বীজতলা তৈরি করা হলেও পুরো বিলই শূন্য খাঁ খাঁ পড়ে আছে।

একই চিত্র কাছের-দূরের তালতলা, বৃহত্তর শান্তিপুর, লতিবানমুখ, মানিক্যাপাড়াপাড়া, সূতকর্মাপাড়া, চাইথোঅং চৌধুরী পাড়া, দক্ষিণ জাগুরনালা এবং ডেবাছড়া এলাকাতেও। বিলের পরে বিলে বানানো সেচ ড্রেনগুলোতে নেই পানির প্রবাহ। স্থানীয়রা বলেন রাবার ড্যাম সংস্কারে সময়মত পদক্ষেপ না নেয়ায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার শান্তিপুর এলাকায় চেঙ্গী নদীর ওপর ২০১৩-১৪ সালে প্রায় ১০কোটি টাকা ব্যয়ে রাবার ড্যামটি তৈরি করা হয়। যার নিশ্চয়তা ছিল ২৪ বছর। বাঁধটি নির্মাণের ফলে কাছের দূরের সাড়ে ৬’শ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা সহজলভ্য ছিলো।

প্রায় ১হাজার ৩শ কৃষক পরিবার সরাসরি এই বাঁধের উপকারভোগী। একই সাথে মৎস্য সম্পদেরও উৎস হয়ে উঠেছিল বাঁধ এলাকা। কিন্তু ৪ বছরের মাথায় বিকল হওয়াতে কৃষকদের মাঝে নেমে এসেছে হতাশা।

স্থানীয় কৃষক জ্ঞান রঞ্জন চাকমা ও অরিন্দম চাকমা জানান, ‘এই বছর আমরা অনেক সমস্যায় পড়েছি। রাবার ড্যাম হওয়ায় এতদিন পানির অভাব ছিলনা। ভালো মত কৃষি কাজ করতে পেরেছি। কিন্তু এখন ড্যামটি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আমরা পানি সংকটে পড়েছি। এখন চাষ করতে সমস্যা হচ্ছে।’

রাবার ড্যাম পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতিরি অর্থ সম্পাদক বিশ^মিত্র চাকমা বলেন, ‘আমরা শুরু থেকেই বলে আসছি রাবার ড্যাম এবং এর আশপাশে বাঁধ নির্মানের কাজ ভালো হচ্ছে না। তার ওপর নির্মাণের পর থেকে কোন রকম মেরামত হয়নি। এখন ড্যাম সচল না করা পর্যন্ত কৃষকের দুশ্চিন্তা কমবে না।

পানছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলাউদ্দিন শেখ জানান, ‘রাবার ড্যাম থেকে প্রায় ১৩শ কৃষক পরিবার সুবিধাবোধ করে। ৬শ ৫০হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়। আমরা আশংকা করছি যদি খুব দ্রুত রাবার ড্যামটি ঠিক করা না হয় তাহলে মার্চ মাসের খড়ার কারণে হুমকির মুখে পড়বে।

খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান চঞ্চু মনি চাকমা বলেন, ‘ইতিমধ্যে বিষষয়টি এলজিইডি কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে। যতদ্রুত সম্ভব সংস্কার করার জন্য বলা হয়েছে। তবে পানছড়ি এলজিইডি সহকারি প্রকৌশরী মেসবাহুল কবির জানান, ‘ড্যামের রাবার দেশে পাওয়া যায় না। বাইরে থেকে সংগ্রহ করতে হয়। ইতিমধ্যে বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। রাবার পাওয়ার সাথে সাথেই আমরা সংস্কার কাজ শুরু করে দেবো।

রাবার ড্যামের কারণে গত কয়েক বছরে এই এলাকার কৃষি ও মৌসুমী শাক-সবজি উৎপাদনেও সমৃদ্ধি এসেছে। বর্তমানে রাবার ড্যামটির বেহাল অবস্থার কারণে শংকিত কৃষকরা। ড্যামটি যেনো দ্রুত মেরামতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পদক্ষেপ নেন, এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।

আরো দেখুন

উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা পরিষদের সমঝোতা স্মারক সই

পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় টেকসই সামাজিক সেবা প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রাঙামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ও …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

1 × two =